রাজধানীর গুলিস্তানে পুলিশের এক ইন্সপেক্টরের (পরিদর্শক) পিস্তলের গুলিতে একজন এসআই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ওই এসআইয়ের নাম ওবায়দুর রহমান। তার দুই পা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের সামনে এই ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ওবায়দুর রহমান আহাদ পুলিশ বক্সের ইনচার্জ। যার পিস্তলের গুলিতে এ ঘটনা ঘটেছে তিনি হলেন পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) মো.সাইফুল ইসলাম। পুলিশ দাবি করেছে, অসাবধানতা এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে অসাবধানতায় দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হলো কীভাবে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের এডিসিকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) সাইফুল ইসলাম সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্সের দোতলায় বসেন। আর এসআই ওবায়দুর বসেন নিচতলায়। গুলির ঘটনাটি ঘটেছে মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার (পেট্রোল) ইলিয়াছ হোসেনের নিচতলার কক্ষে। ওই সময় পুলিশের তিন কর্মকর্তাই ওই কক্ষে ছিলেন। এসি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘আমি পিআই সাইফুল ইসলাম এবং বক্সের ইনচার্জ এসআই ওবায়দুর রহমানকে নিয়ে আমার কক্ষেই মিটিং করছিলাম। মিটিং শেষে তারা দুজন উঠে যাচ্ছিলেন, এ সময় পিআই’র পিস্তল থেকে অসাবধানতাবশত ওবায়দুর গুলিবিদ্ধ হন। তাকে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুলি কি করে তার দুই পায়ে বিদ্ধ হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, এক পায়ে গুলি লাগার পর ভেদ করে অন্য পায়ে লাগে। তবে আমি চিকিত্সকের সঙ্গে কথা বলেছি, তার পায়ের ভেতরে গুলি নেই।
ডিএমপির মতিঝিল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার সিবলী নোমান বলেন, ‘এটা একটা দুর্ঘটনা। আমাদের এক পুলিশ সদস্য বসা থেকে ওঠার সময় অপর পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তার সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
এদিকে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে দুর্ঘটনাবশত গুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই দুই কর্মকর্তার মধ্যে দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত বা ব্যক্তিগত লেনদেন সংক্রান্ত কোনো বিরোধ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।