প্রজন্মের একজন

অল্প কথায় জায়ান মালিক

ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরে জন্মেছেন জায়ান মালিক। তার রক্তে ইংলিশ-পাকিস্তানের ধারা বইছে। সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ছেলেটি খুব ছোটবেলা থেকেই গান খুব ভালোবাসতেন। সে সময় টেলিভিশনে একটি প্রোগ্রাম হতো ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’ নামে, মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তিনি সেই প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। মাতিয়েছিলেন ব্রিটেনের দর্শকদের। অন্যান্য সব প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে তিনি জিতে নিয়েছিলেন প্রথম পুরস্কারটি। আর সেই থেকে তার ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়। তিনি সুযোগ পেয়ে যান ওয়ান ডিরেকশন ব্যান্ডের সাথে কাজ করার। সেসময় মিউজিক্যাল হিস্টোরিতে এই ব্যান্ডটির নাম বেশ ভালোমতো ছড়িয়েছিল। এভাবেই শুরু হয় তার ওয়ান ডিরেকশনের পথে যাত্রা। তার ছেলেবেলার কথা বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে। জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার ব্যান্ডফোর্ডেই। তার বাবা ইয়াসের মালিক এবং মা প্যাট্রিসিয়া। তবে তাকে ট্রিসিয়া বলেই চেনেন অনেকে। তিনি ব্রিটিশ ছিলেন। জায়ানের একটা বড় বোন আছে, নাম ডোনিয়া এবং দুটো ছোট বোন আছে, নাম ওয়ালিয়া ও সাফা। জায়ান মুসলিম ধর্ম পালন করেন। ইংল্যান্ডের ইস্ট বোলিং শহরের একটি নামকরা স্কুলে তার শিক্ষাজীবনের শুরু। পড়াশোনা চলাকালেই সুয়োগ পেয়ে গিয়েছিলেন, ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’ নামের টিভি শো’তে কাজ করার। অবশ্য সেটা ছিল ২০১০ সালের কথা। ম্যানচেস্টারে গিয়ে অডিশন দিতে হয়েছিল তাকে। সেখান থেকে সিলেকশন রাউন্ডের বাধা পেরোতে খুব বেশি সময় নেননি তিনি। বিচারক নিকোশ ক্র্যাঞ্জার ও সিমোন কোয়েল তার অনেক কাছের দুজন মানুষে পরিণত হয়ে গিয়েছিলেন। ওয়ান ডিরেকশনের পরিচিতি ওয়ান ডিরেকশন ইংলিশ-আইরিশ ব্যান্ড। নেইল হোরান, জায়ান মালিক, লিয়ান পেন, হ্যারি স্টাইল ও লুইস টমলিসনকে নিয়ে পথচলা শুরু করে এই পপ ব্যান্ডটি। সম্প্রতি সাইমন কোয়েলের সায়কো রেকর্ডস নামের রেকর্ডিং কোম্পানির সাথে চুক্তি করেন তারা। এর আগে তারা ব্রিটিশ টেলিভিশনের একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন। তবে তারা সবার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছিল ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর’ শোয়ের মাধ্যমে। ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত হয় এই প্রতিযোগিতাটি। এ প্রতিযোগিতায় তাদের ব্যান্ডটি সেরা হয়। পরবর্তীতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কলোম্বিয়া রেকর্ডসের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। তারা পরিণত হন একটি জনপ্রিয় ব্যান্ডে। পরপর তাদের দুটো অ্যালবামও বের হয়। ২০১১ সালে বের হয় ‘আপ অল নাইট’ এবং সম্প্রতি অর্থাত্, চলতি বছরে মুক্তি পায় ‘টেক মি হোম’ অ্যালবামটি। দুটোই বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে কোনটা থেকে কোনটা বেশি ভালো সেটা তুলনা করা বোকামি। কারণ তাদের প্রতিটা অ্যালবামেই থাকে নতুনত্বের ছোঁয়া। শুধু তাই নয়, বেশ কয়েকটি রেকর্ডও করে ফেলেন তারা। সিঙ্গেল টপ চার্টের শীর্ষে চলে আসে তাদের গান। এর মধ্যে ‘হোয়াট মেকস ইউ বিউটিফুল’ এবং ‘লাইভ হোয়াইল উই আর ইয়ং’ গান দুটো সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায়। সম্প্রতি ওয়ান ডিরেকশন এমটিভি মিউজিক ভিডিও অ্যাওয়ার্ডসে সেরা ব্যান্ডের নমিনেশন পায়। তবে অবাক করার মতো ব্যাপার হলো তিনটি বিশেষ ক্যাটাগরিতে তারা পুরস্কারও পেয়ে যায়। রিহানা, কেটি পেরির মতো বিখ্যাত সব স্টারদের পারফর্মেন্সের মাঝেও রীতিমতো উজ্জ্বল ছিল এই ব্যান্ডের সদস্যদের উপস্থিতি। এমনিতেই মাত্র দু’বছর বয়সী এই ব্যান্ড এখন রীতিমতো জনপ্রিয় বিশ্বজুড়ে। ফলে অ্যাওয়ার্ড নিতে ওঠার সময় রীতিমতো উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উপস্থিত দশর্করা। বেস্ট নিউ আর্টিস্ট, মোস্ট শেয়ার ভিডিও এবং বেস্ট পপ ভিডিও, এই তিনটি ক্যাটিগরিতে সেরার পুরস্কার পেল ওয়ান ডিরেকশন। ব্যান্ডটির এই সদস্যটি, জায়ান মালিক সবার কাছে ‘ব্যাড বয়’ নামে পরিচিত। কারণ তিনি সবার থেকে আলাদা চুলের স্টাইল করেছেন, হাতে এঁকেছেন ট্যাটু। চলাফেরা পোশাক-আশাকেও রয়েছে তারুণ্যের উচ্ছলতা। আর এ কারণে সবাই তাকে আদর করে ডাকে, ব্যাড বয়। তার এই উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝেই। উন্মাদনা বোধহয় একেই বলে! তরুণ প্রজন্ম এ তরুণ প্রতিভাকে নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বসিত।