প্রজন্মের পরামর্শ

সিরামিক শিল্প রিজভী উল কবির চিফ অপারেটিং অফিসার শাইনপুকুর সিরামিকস লি. বাংলাদেশের অন্য শিল্পের মতো সিরামিক শিল্প প্রাথমিকভাবে কিছুটা ধীরে প্রসার পেলেও পরবর্তী সময়ে এর বিকাশ খুব দ্রুতই হয়েছে। বর্তমানে বছরে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সিরামিক শিল্প এগিয়ে যাচ্ছে। পূরণ করছে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক চাহিদা। সুলভ প্রাকৃতিক গ্যাস ও শ্রমের মূল্য কম হওয়াই এই শিল্পের সাফল্যের অন্যতম কারণ। নিজের মেধা এবং মননকে কাজে লাগিয়ে এই সেক্টরে সফল হয়েছেন এমনই একজনের কাছে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ। ক্যারিয়ারের শুরুতেই বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মতো বৃহত্ পরিসরে কাজ করার সুযোগ হয় তার। এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান পাপনের সাহচর্যে অনেক বিষয় শিখতে পেরেছেন হাতে কলমে। দেশের শীর্ষস্থানীয় সিরামিক পণ্য নির্মাতা শাইনপুকুরের চিফ অপারেটিং অফিসার তিনি। দেশসেরা মেধাবীদের পীঠস্থান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িেকৗশলে স্নাতক, তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ করেই দেশের কর্পোরেট জগতে প্রবেশ তার। দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা আর বিনয় তাকে নিয়ে এসেছে দেশের প্রথম সারির কর্পোরেটদের কাতারে। দীর্ঘদিন জড়িত ছিলেন বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসে, তারপরই শাইনপুকুরের মাধ্যমে সিরামিক জগতে আসা। পথচলায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সুনামের সাথে কাজ করে এসেছেন। রিজভী উল কবির বিশ্বাস করেন, একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তার মতো করে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অহেতুক চাপ প্রয়োগ করে কোনো কাজ হয় না। একজন যখন নিজের মনে করে কাজটা করবে, সেটা কিন্তু নিজের জন্যই নয় কেবল, প্রতিষ্ঠানের জন্যও বড় একটা পাওয়া। এমনকি শাইনপুকুরের প্রতিটি কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য অক্লান্ত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদেরও সুযোগ-সুবিধার কমতি রাখেননি তিনি। শুধুই উত্পাদন কেন, নজর দেওয়া দরকার যারা পেছনের কারিগর তাদের দিকেও। কেননা সিরামিক শিল্পে শুধুই অটোমেশন নয়, শৈল্পিক দক্ষতারও দরকার রয়েছে কর্মীদের। যাদের হাতে তৈরি পণ্য দেশ-বিদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় ব্যবহার হয়, স্মারক হিসেবে থাকে অলিম্পিকের মতো আয়োজনে, কেন তাদেরকে সেভাবে মূল্যায়ন করা হবে না? এমনই চিন্তাভাবনা কর্মীদের নিয়ে তার। নতুন প্রজন্মের উপর রিজভীর অনেক আস্থা। তিনি মনে করেন, নতুনরাই তো ভবিষ্যত্, যে সময়ের কথাই বলা হোক, তরুণরাই এগিয়ে এসেছে। অগ্রজরা হয়তো তরুণদের বুঝতে একটু সময় নেবে। সেটাকে নেতিবাচক করে দেখার কিছু নেই। প্রতিভাবান এই মানুষটি ২০১০ সালে ফাইন্যান্সিয়াল মিরর বিজনেস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। একই বছর তার নেতৃত্বে শাইনপুকুর অর্জন করে সুপারব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড। এই নিয়েই তো চলে যাচ্ছে তার দিন, সেটা সম্ভাবনার পথেই। ০০০ রিপন নাথ চিফ সাউন্ড ডিজাইনার, ধ্বনিচিত্র সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার বিনোদনের একটি অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে শব্দ। এই শব্দকেই যিনি শ্রোতাদের কাছে শ্রুতিমধুর করে তোলেন মূলত তিনিই সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার। একজন সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারের কাজ হচ্ছে সাউন্ড রেকর্ডিং, এডিটিং এবং রেকর্ডেট সাউন্ড অথবা লাইভ সাউন্ডকে শ্রোতাদের কাছে ভালোভাবে উপস্থাপন করা। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় শব্দ পরিসঞ্চালন। তাই এবার এ পেশার সফল একজনের কাছে জানব সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ। ‘মনপুরা’র কথা মনে আছে নিশ্চয়ই! ‘চোরাবালি’, ‘টেলিভিশন’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’—এতগুলো সফল কাজের সাউন্ড ডিজাইনার একজন। তার উপর যতই ঈর্ষান্বিত হন না কেন, এটাও সত্যি যে, দেশ-বিদেশে তার নির্দেশনায় সাউন্ড ব্যবহার করা হয়েছে কয়েক হাজার বিজ্ঞাপনচিত্রে! এর মধ্যে গ্রামীণফোনের ‘আমারে ছাড়িয়া বন্ধু কই রইলা রে’, বাংলালিংকের ‘দিন বদলের চেষ্টা’, সিলন টির ‘ময়না পাখি’র নাম না বললেই নয়। আর নাটকে তো মাঝে মাঝে কাজ চলছেই। নামটা বলে দিলেও সবার মনে হবে—আরে! একে তো চিনি। এসব কাজের শেষে স্ক্রলে তার নাম ভেসে ওঠে অহরহ। তিনি রিপন নাথ। ধ্বনিচিত্রতে কাজ করছেন চিফ সাউন্ড ডিজাইনার হিসেবে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এ দেশের মানুষকে দিয়ে এসেছেন দারুণ সব কাজ। রিপনের কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমাদের দেশে এই ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ কেমন? তিনি জানালেন, রেডিও-টেলিভিশনে অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে, চলচ্চিত্রে তো রয়েছেই। সুতরাং যদি কেউ ঠিক করেই আসে এখানে কাজ করবে, করার অনেক জায়গা রয়েছে, নিজে শুধু মন দিয়ে করে গেলেই হলো। তবে খুব তাড়াতাড়ি তো কিছু হয় না! তার নিজের ক্ষেত্রেও হয়নি। তিন-চার বছর তারা বাইরে দেখেছেন, কাজ শিখেছেন, তারপর না আস্তে আস্তে প্রবেশ এই জগতে। সেই সাথে ছিল প্রচুর গান শোনার আর চর্চার অভিজ্ঞতা। সফটওয়্যার কিনে একদিনেই তো কেউ সাউন্ডের অনেক কাজ শিখে যেতে পারে। কিন্তু অনুধাবন করার জন্য অনেক সময় দরকার। একটা গান যে আমরা শুনি, সেটার নাড়ি-নক্ষত্র আবিষ্কার করার বিষয়টা রাতারাতি সম্ভব না। উদাহরণ টেনে রিপন বলেন, ‘পথ তো চিনেই নেওয়া যায়, পথ ধরে না হাঁটলে বুঝা যায় না সেটা বন্ধুর না মসৃণ।’ রিপন জানান, প্রতিদিন দেখছেন, শুনছেন, অনেক কিছু জানছেন। এভাবেই তো এগিয়ে যাওয়া।