প্রজন্ম প্রত্যাশা
বিসিএস
রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় একদল সুদক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। নাগরিকদের মধ্যে দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাছাই ও নিয়োগের প্রক্রিয়াটি ঘটে বিসিএস উত্তীর্ণদের দিয়ে। দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে অতি স্বাভাবিকভাবেই বিসিএস-এর প্রতি আকৃষ্ট হয় এই প্রজন্ম। এই প্রজন্মের তেমনই কয়েকজন বিসিএস ক্যাডারদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এই পেশা নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা।
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৪
মুশফিকুর রহমান শাওন
সহকারী কর কমিশনার
কর অঞ্চল ৩, ঢাকা
‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে রাজস্ব আদায়ের কোনো বিকল্প নেই’
বিসিএস কর্মকর্তা হওয়ার আগে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয় প্রার্থীদের। অন্যান্য পেশার মতো নয়, এখানে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্বটা পালন করতে হয় সরকারের প্রতিনিধি হয়ে। আর এই কাজটা দারুণ উপভোগ করেন মুশফিকুর রহমান। বিসিএস (ট্যাক্স)-এর একজন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আর তিনি মনে করেন, বিসিএস-এর চাকরিতে আলাদা যা সম্মান বা সামাজিক মর্যাদা, সেটা অন্য কোনো পেশাতেই পাওয়া যায় না। আগামীতেও এমনটা থাকবে। তবে একই সাথে এ কথাও বলেন, ‘বিসিএস কর্মকর্তাসহ সরকারি চাকুরেদের বিভিন্ন সুবিধাদি বেসরকারির সাথে তুলনা করে অনেক মেধাবীই চলে যাচ্ছে কোম্পানিতে।’ তারপরও সামগ্রিকভাবে ক্যাডার সার্ভিসকে সব সময়ই উপরের দিকে রাখেন তিনি। মুশফিক বলেন, ‘যেকোনো দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে রাজস্ব আদায়ের কোনো বিকল্প নেই, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে এই পেশা অবশ্যই অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই পেশায় কাজের মাধ্যমে সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।’ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতক স্নাতকোত্তর শেষ করেই তিনি নিজেকে বিসিএস-এর জন্য প্রস্তুত করতে থাকেন। আর এভাবেই উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া। তিনি মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশি মেধাবীরা আসবে এই পেশায় আর প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা হয়ে দেশ সেবায় নিয়োজিত করবেন নিজেদের।
০০০
আসমা আক্তার
সহকারী কমিশনার
শুল্ক ও আবগারী ক্যাডার
‘সততা ও দৃঢ় স্পৃহা কাজ জন্য খুবই ইতিবাচক’
যখন থেকে ক্যারিয়ার সম্পর্কে বুঝেছেন, তখন থেকেই বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তার মনে। তখন থেকেই ভাবতেন—কিভাবে নিজেকে তৈরি করা যায়, কিভাবে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে পারবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর শেষে ৩১তম বিসিএস-এর মাধ্যমে শুল্ক ও আবগারী ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। এই কাজে তাকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা, চোরাচালান প্রতিরোধ করা এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করা সর্বোপরি ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ করাসহ অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। আসমা মনে করেন, করদাতা তথা ব্যবসায়ীদের সহযোগী আচরণ এবং কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সমর্থন থাকলে এ পেশায় স্বচ্ছন্দে কাজ করা যায়। নতুন প্রজন্মের কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যারা এই পেশায় আসছেন তাদের মধ্যে সততা ও কাজ করার স্পৃহা খুবই ইতিবাচক। নিজের কাজের প্রতি সত্ ও উদ্যমী থাকলে এই পেশায় সফল হওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং দেশকে ও দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।’ বাবা মা ও ছোটো ভাইকে নিয়েই তার পরিবার। বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন আর মা গৃহিণী, ভাই পড়াশোনা করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে। ভবিষ্যতে ঘরে বাইরে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে দেখতে চান তিনি নিজেকে।
০০০
মেহেদী হাসান
সহকারী কমিশনার ও
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
জেলা প্রশাসন, হবিগঞ্জ
‘দায়িত্ব বাড়বেই, সেগুলো সঠিকভাবে পালন করাই চ্যালেঞ্জ’
বাবা-মায়ের আগ্রহেই মূলত তার বিসিএসের দিকে ঝোঁক তৈরি হয়। সরকারি কর্মকর্তা হলে অনেক ধরনের মানুষের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয়, এটাও একটা কারণ ছিল এই পেশায় আসার। শিক্ষার্থী থাকাকালীন বন্ধুরা যখন একসাথে আড্ডা দিতেন, সেখানেই অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। এভাবেই অনেক কিছু সম্পর্কে জানা হয়ে যায়। প্রশাসন ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা হয়ে যোগদানের পরপরই তিনি নিজেকে আরও বেশি গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান। অনেক দায়িত্ব এসে বর্তায় নিজের উপর। সেগুলো সফলতার সাথেই পার করে এসেছেন তিনি। মাঝে মাঝে এই পেশাকে অনেক চ্যালেঞ্জিংও মনে হয়। অনেক দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তেও সরকারি দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি করা যায় না, এতে বড় ধরনের বিপর্যয়ও হতে পারে। তাই সবকিছু নিজে থেকেই সামলে নেওয়াটা শেখা দরকার।
মেহেদি হাসান মনে করেন, এখন যেরকম আছে আগামী দিনগুলোতেও বিসিএসের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়বে বৈ কমবে না। সেই দিনগুলোতে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে আরও। সরকারি দায়িত্বও আরও বেশি আসবে, সেগুলো সঠিকভাবে পালন করাই চ্যালেঞ্জ হবে। তিনি মনে করেন, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য তরুণ প্রজন্ম প্রস্তুত। তারা সফলতার সাথেই এগিয়ে যাবেন, এমনটাই প্রত্যাশা।