ইতালীয় স্বাদে লা ফর্কেত্তা

পুরো অন্দরজুড়েই হালকা আলো। সাথে রয়েছে মৃদু মিউজিক। সবমিলিয়ে মোহনীয় এক পরিবেশ। পর্যাপ্ত খোলামেলা জায়গা। চোখে পড়বে বিখ্যাত সব ছবি। সেগুলোও ইতালি থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘুরতে ঘুরতে অল্প সময়েই পেয়ে যাবেন পছন্দের পিত্জা। সেই সাথে আরও বাহারি ইতালীয় খাবার তো আছেই। বলছি লা ফর্কেত্তার কথা। গুলশানের এই রেস্তোরাঁ ঘুরে এসে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু ইতালীয় খাবার হলেও বাঙালির রসনা সংস্কৃতিতে আষ্টেপৃষ্ঠে মিশে গেছে পিত্জা। কারণ বাংলাদেশে ফাস্টফুডের জোয়ার শুরু হওয়ার সময় থেকেই এই খাবারের প্রচলন হয়। সারাবিশ্বে ইতালিয়ান খাবারের বেশ কদর রয়েছে। বাংলাদেশেও বাড়ছে সে দেশের খাবারের চল। গত কয়েক বছরে ঢাকার ভোজনরসিকদের জন্য বেশ কিছু নতুন ইতালিয়ান রেস্তোরাঁ তাদের দরজা খুলেছে। যত প্রকার ইতালীয় খাবারই থাকুক না কেন, এখনও পিত্জার জনপ্রিয়তাই বেশি। আর সেই দিক দিয়ে বেশ এগিয়ে গেছে অল্প সময়ে গুলশান সার্কেল দুইয়ের লা ফর্কেত্তা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ইতালিতে কাটিয়ে দেশে ফিরে এই রেস্তোরাঁ শুরু করেন খন্দকার আতাউর রহমান ব্যাটন। সেখানেও একটা রেস্টুরেন্টের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, কাজেই খাঁটি ইটালিয়ানা তারচেয়ে বেশি আর কে দিতে পারেন? এখানে অনেক রকমের পিত্জা পাবেন। পিত্জা মার্গারিটা, পিত্জা বলনিজ, পিত্জা ওর্তোলানা, পিত্জা মারে ই মন্তে ছাড়াও অন্য কিছু পিত্জাও পাবেন আপনি। এর সবগুলোই ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৫০ টাকার মধ্যে পড়বে। আর একটা পিত্জা ১২ ইঞ্চি করে থাকেন তারা। সুতরাং স্কেল নিয়ে মাপতে বসে যাওয়ার মতো বিড়ম্বনা এখানে নেই। খাবারে সব সময়ই সেরা মানের উপকরণ ব্যবহার করা হয় বলে জানালেন তাদের ম্যানেজার জহিরুল ইসলাম। অনেক উপকরণই বাইরে থেকে আনা হয়। আর তাদের মেন্যুতে অজস্র খাবার রয়েছে। যে খাবারগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেগুলোই তো আছেই, সেই সাথে নতুন নতুন আইটেমও যুক্ত হয়। বিভিন্ন উত্সবের দিনগুলোতেও থাকে বাড়তি কিছু প্রয়াস। আর সবকিছুই ভোক্তাদের সুবিধার জন্য। যেমন এখানের পিত্জা ছাড়া অন্যান্য জিনিসগুলোর দামও রাখা হয়েছে সাধ্যের মধ্যেই। ছাত্রছাত্রীরা তাই আসছে, আসছেন বয়স্করাও। এর বাইরে প্রচুর বিদেশি আসছেন। সেটা বোধকরি সেরা সেবা পাওয়ার কারণেই। এ ক ন জ রে লা ফর্কেত্তা কোথায় :গুলশান সার্কেল দুই, ৫৩ নম্বর সড়কের শুরুতেই দোতলায়। আয়তন :২০০০ বর্গফুট রিজার্ভেশন :সপ্তাহে সাতদিনই খোলা থাকে, ৩০-৪০ জনের পার্টি করা যায় অনায়াসে। তবে পুরোটা রিজার্ভেশনের সুযোগ নেই। আর এর জন্য বাড়তি কোনো টাকাও গুনতে হবে না। উদ্যোক্তা বলেন :খাবারের মানটা সবার আগে। এর সাথে জোর দেওয়া হয় পরিবেশের উপর। যারা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে তাদের আলাপচারিতার উপর।