ভারতজুড়ে তীব্র অসন্তোষ
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫০
চাঞ্চল্যকর দিল্লি গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত কিশোরের লঘু শাস্তি হওয়ায় ভারতজুড়ে তীব্র গণঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের গণমাধ্যম ও রাজনীতিবিদরা রবিবার গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কিশোর অপরাধীদের জন্য আরো কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। গণধর্ষণের দায়ে শনিবার আদালতে ১৭ বছর বয়সী কিশোরের তিন বছরের শাস্তি হওয়ার পর এ দাবি তোলা হলো। রবিবার ভারতীয় ট্যাবলয়েড মেইল টুডে শীর্ষ খবরের শিরোনামে লিখেছে: ‘প্রহসন: ১৬ ডিসেম্বরের কিশোর ধর্ষক খুনের দায় থেকেও পার পেয়ে গেল।’ দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই কিশোরকে এখন থেকে আর মাত্র ২৮ মাস কিশোর সংশোধনাগারে কাটাতে হবে। বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে গত আট মাস সে জেল-হাজতে ছিল।
হিন্দুস্তান টাইমস এ-রায়ের সমালোচনা করে লিখেছে, এই অপরাধী এখন সংশোধনাগারে টিভি দেখে এবং খেলাধুলা করে সময় কাটাতে পারবে। অথচ পুলিশ সূত্র এর আগে যে ছয় ব্যক্তি প্যারামেডিক্যাল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে তাদের মধ্যে এই কিশোরই সবচেয়ে হিংস্র ছিল বলে উল্লেখ করেছিল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, কিশোর আদালতে গণধর্ষণের শিকার মেয়েটি ন্যায়বিচার বঞ্চিত হয়েছে। প্রথম পাতায় প্রকাশিত এ সম্পাদকীয়তে আরো বলা হয়েছে, প্রায় প্রত্যেকেই একমত হবেন যে, একটি মেয়েকে ধর্ষণের পর নৃশংসতার মাধ্যমে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার পরও যে বিচার ব্যবস্থা কাউকে নিছক ‘কিশোর’ বলে লঘু শাস্তি দিয়ে পার পেয়ে যেতে দেয়, তাতে কোথাও না কোথাও গলদ আছে। এতে আরো বলা হয়েছে, আইনটি সংশোধন করে অবশ্যই অপরাধের ধরন অনুযায়ী কাউকে কিশোর বিবেচনা করার বয়স নতুন করে নির্ধারণ করা উচিত। ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা সুষমা স্বরাজ এক টুইটবার্তায় জানিয়েছেন, তিনি আগামী শুক্রবারই লোকসভায় কিশোর আইন সংশোধন চেয়ে একটি বিল উত্থাপন করবেন।
পাশবিকতার শিকার নিহত মেয়েটির পরিবার বলেছে, তারা অপরাধী কিশোরের কঠোর শাস্তির দাবিতে উচ্চ আদালতে লড়বেন। রাজনীতিবিদ সুব্রাহ্মণ্যন স্বামী এরই মধ্যে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শনিবারের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির এ সংক্রান্ত প্রচলিত আইন চ্যালেঞ্জ করে ওই আপিল করেন।