প্রজন্ম মুখ
স্বপ্নটাকে একধাপ এগিয়ে
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:০১
সুমিত সাহা
ডাকনাম :সুমিত
জন্মতারিখ ও স্থান :১৩ আগস্ট, চুয়াডাঙ্গা
মায়ের নাম :শিখা সাহা
বাবার নাম :নিতাই দাস সাহা
প্রথম স্কুল :প্রদীপন বিদ্যাপীঠ, চুয়াডাঙ্গা
প্রিয় মানুষ :বাবা-মা
প্রিয় উক্তি :The Race is not over because I have not won yet!
প্রিয় পোশাক :টি-শার্ট, জিন্স
অবসর কাটে যেভাবে :ইন্টারনেট ব্রাউজিং, আড্ডা
সাফল্যের সংজ্ঞা :সাফল্য = আত্মতৃপ্তি + ক্রমাগতি উন্নতি + অবদান।
শুরুতেই অনেকে ভালো সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন, সেটা যে সব সময় পাওয়া যায় তা নয়। প্রথমে নিজের কাজের কথা অন্যকে জানানোর জন্য হলেও সীমিত পরিসরে শুরু করতে হয়। আর সুমিত সাহা এভাবেই সবার কাছে নিজের কাজের কথা তুলে ধরেছেন। এনালাইজেন বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল অনলাইন এজেন্সি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। আজ এনালাইজেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি। দেশের নামকরা অনেক বড় বড় ব্র্যান্ড এখন তাদের পণ্যের অনলাইন প্রমোশনের জন্য এনালাইজেনের উপর নির্ভরশীল। দুইজন তরুণ উদ্যোক্তার প্রয়াস এনালাইজেনে আজ চল্লিশেরও বেশি দক্ষ প্রোগ্রামার এবং কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছেন।
আশার কথা শোনালেন আমাদের সুমিত, আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের থেকেও অনেক উপরে। এখনও তো আমরা সবে শুরু করেছি। তাতেই আমরা এতদূর চলে এসেছি! তাহলে সামনের দিনগুলোতে আমরা আরও কী করতে পারি সেটা অনুমান করেই নেওয়া যায়। হয়তো এমন দিন দূরে নয় যেদিন বিদেশ থেকে মেধাবীরা এসে আমাদের দেশে সেবা প্রদান করবে।
সুমিত সাহা তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আইটি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সেক্টরের প্রতি এখনকার প্রজন্ম এমনিতেই অনেক বেশি আগ্রহী। ইন্টারনেটের সুবাদে এবং ফেসবুক, টুইটার, লিঙ্কডইন, ইউটিউব, গুগল প্লাস এসব সোস্যাল মিডিয়াকে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম তাদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে। বিনোদনের এই পরিচিত মাধ্যমটিকেই তাদের ক্যারিয়ারের মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে। এখানে প্রোগ্রামিং, কন্টেন্ট ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন, আইডিয়া জেনারেশন ইত্যাদি অনেক কাজের সুযোগ রয়েছে।’
সুমিত সাহার কাছে প্রশ্ন ছিল সেক্টরের পেশা আমাদের দেশে কতটা সম্ভাবনা রাখে? তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৫ বছর আগের কথা চিন্তা করলে, এই পেশা ততটা বিস্তৃত ছিল না। কিন্তু এখন অনলাইন মার্কেটিং এবং আইটি ইন্ডাস্ট্রি দেশের জন্য খুবই যুগোপযোগী একটি পেশা। প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন টেকনোলজি আসছে, কাজের ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে। এখানে নতুন কিছু করার, নতুন কিছু উদ্ভাবন করার অনেক বেশি সুযোগ রয়েছে। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের কাজের ক্ষেত্র সব সময়ই বেশি থাকে। শুধু প্রয়োজন একটু ধৈর্য এবং অধ্যবসায়।’ সুমিত আরও বলেন, ‘যারা নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য এ সেক্টর উপযুক্ত স্থান। এ সেক্টরে চাকরির জন্য সাধারণত বিবিএ, এমবিএ এবং মার্কেটিংগ্র্যাজুয়েটের পাশাপাশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ওয়েব প্রোগ্রামার, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন্স ডেভেলপার চাওয়া হয়। সঠিক জ্ঞান ও পরিশ্রম করলে এ সেক্টরে অল্প সময়ে ভালো অবস্থানে যাওয়া সম্ভব।’
প্রজন্মের মেধাবী এই প্রকৌশলীর ছেলেবেলা কেটেছে বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে বিভিন্ন শহরে। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেন রংপুর জিলা স্কুল থেকে, তারপর নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাবে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন কৃতিত্বের সাথে। এরপর দেশের বেশ কিছু সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। সুমিতের বাবা একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, মা গৃহিণী। বাবা-মায়ের অবদান তাকে এই পর্যায়ে আসতে অনেক সাহায্য করেছে।
সুমিত সাহার ভবিষ্যত্ স্বপ্ন নিজের প্রতিষ্ঠা করা কোম্পানি এনালাইজেনকে ঘিরেই। বিশ্বমানের সফটওয়্যার কোম্পানি এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি হিসেবে নিজেদের অবস্থানকে সুদৃঢ় করা তার লক্ষ্য। আরও স্বপ্ন আছে একটি বিশ্বমানের সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল মার্কেটিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা যা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের পথপ্রদর্শক হয়ে কাজ করবে।