রোমাঞ্চকর পেশায় নিজেকে জড়াতে
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৬
এখন নাবিক পেশা মানেই সারা জীবন সমুদ্রেই কাটিয়ে দেওয়া নয়, তারা নৌ পথে বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনাসহ অবদান রাখছেন এসব জাহাজ তৈরি ও মেরামতেও। বর্তমানে বিশ্ব বাণিজ্যের ৯০ শতাংশ পণ্যই পরিবাহিত হয় শিপিং ইন্ডাস্ট্রি দ্বারা। অন্যান্য বাণজ্যিক পরিবহন ব্যবস্থা অপেক্ষা শিপিংই হলো সবচেয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব । এই শিল্পে বার্ষিক রাজস্বের পরিমাণ ১৫০০ থেকে ১৬০০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশের মাত্র ৪৩২৩ জন মেরিন অফিসার বিশ্ব জাহাজ শিল্পে কর্মরত। আর এই গুটি কয়েক মেরিন অফিসারই দেশের ১৪ ভাগ বৈদেশিক মুদ্রার যোগান দাতা। মোট হিসেবে এই হার শতকরা ১ ভাগও নয়। বাংলাদেশ বিশ্ব জাহাজ শিল্পের ১ ভাগও যদি আয় করে তাও দাঁড়াবে ১৬ বিলিয়ন ইউএস ডলার। এটা নিশ্চিত করতে পারলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় আরও চার গুণ বৃদ্ধি পাবে। এই শিল্প বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার ফলে সমুদ্রে কর্মরতদের কাছে এটি অত্যন্ত গর্বের যে, তারা একটি অত্যাবশ্যকিয় ও উচ্চমার্গিয় পেশায় নিয়োজিত। বর্তমানে আমাদের দেশেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উপর পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীই এটাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করছে অত্যন্ত গর্বের সাথে।
পারিশ্রমিকের কথা বললে, সারাবিশ্বে বিভিন্ন পেশা অপেক্ষা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে কর্মরত শিপ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। উপরন্তু নাবিক পেশায় কর্মরত অবস্থায় খুব কমই ব্যয় হয়। কারণ তাদের বাসস্থান, ভ্রমণ এবং খাদ্যের জোগান নিয়োগদাতাই দিয়ে থাকেন। এ ছাড়াও নাবিকদের বেতন মূল্য সম্পূর্ণ ট্যাক্স ফ্রি হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত ব্যয় নেই বললেই চলে। কিছু জাহাজে কাজ করতে হলে প্রতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও ভালো ফলাফলের বিষয়টিকে বিবেচনায় আনা হয় এবং সে ক্ষেত্রে বেতনও অনেক বেশি হয়। এ ছাড়া নিয়মিত বাণিজ্য জাহাজে থাকাসহ অবকাশ যাপনে নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরেও অনেক জাহাজেরই বিশ্বের যেকোনো স্থানে যাতায়াতের সুযোগ রয়েছে। ফলে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতার পাশাপাশি থাকছে বিশ্বের সর্বত্রই ভ্রমণের অপরিসীম সুযোগ তথা সুব্যবস্থা।
আন্তর্জাতিক জাহাজ কোম্পানিগুলোতে প্রচুর দক্ষ ও যোগ্য শিপ কর্মকর্তার প্রয়োজন। সৃষ্টি হচ্ছে নিত্য-নতুন বিভিন্ন কোম্পানি ও পদ-পদবি, সেই সাথে অনেক সিনিয়র কর্মকর্তাগণ যাচ্ছেন অবসরে। এতে বৃহত্ পরিসরে নাবিকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন সৈকত ব্যবস্থাপনা পেশাতেও নৌ অভিজ্ঞতাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেগুলোতেও কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। চ্যালেঞ্জিং এই পেশায় সফল ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে পড়তে হবে ডিপ্লোমা পর্যায়ের ৪ বছর মেয়াদি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কোর্স এমন একটি প্রতিষ্ঠানে আপনাকে সম্পন্ন করতে হবে, যাদের আছে সরকারি অনুমোদন, যোগ্য শিক্ষক, উন্নত পরিবেশ, ক্যাম্পাস তথা অবকাঠামো, বিশেষ করে যাদের আছে শিপ ইয়ার্ডে ব্যবহারিক শিক্ষা বা ইন্টার্নশিপের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও যোগাযোগ। এ বিষয়ে আগ্রহীরা চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :বাড়ি-১, রোড-২, ব্লক-বি, সেকশন-৬, মিরপুর, ঢাকা। ফোন :০১৯৩৬০০৫৮১৬-৮। বাংলাদেশ সরকারের অনুমতিক্রমে কারিগরি বোর্ডের অধীনে ‘সাইক ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’র অধীনে পরিচালিত রয়েল মেরিন একাডেমী এমনই একটি প্রতিষ্ঠান যাদের আছে উল্লিখিত সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো।