প্রজন্ম আয়োজন

চিত্রকরের চিত্রমেলা

দিন গড়িয়ে রাত, রাত গড়িয়ে ফের সকাল হয়, তিনি ক্লান্তিহীন ছুটে বেড়ান ঢাকার এ-প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত সদরঘাট, সোয়ারীঘাট, আমিনবাজার, গাবতলী থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত। কখনোবা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ে পাহাড়ে। একটা মনের মতো দৃশ্য ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলার জন্যই তার এই নিরন্তর ছুটে চলা। বলছিলাম এই প্রজন্মের মেধাবী চিত্রকর সোহাগ পারভেজ সম্পর্কে। মেধাবী এই চিত্রকরের আঁকা ২৫টি ছবি নিয়ে ঢাকা আর্ট সেন্টারে শুরু হয়েছে তার পঞ্চম একক চিত্র প্রদর্শনী ‘বাংলার রূপ’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক সামসুজ্জামান খান, শিল্পী সমরজিত রায় চৌধুরী, শিল্প সমালোচক সামসুল ওয়ারেস। প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সোহাগ পারভেজের পছন্দের বিষয় এ দেশের মানুষ ও প্রকৃতি। তিনি কেবল ক্যানভাসেই ছবি আঁকেন না, তিনি বইয়ের প্রচ্ছদ-অলঙ্করণও করে থাকেন। বুক কভারের কাজও করে থাকেন বইমেলা উপলক্ষে আর বছরের বাকি সময়টায় শুধুই পেইন্টিং। এরইমধ্যে দেশে বিদেশে তার ছবির প্রদর্শনী হয়েছে অর্ধশতাধিক। দেশের বাইরে যৌথ প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন জাপান, লিবিয়া ও ভারতে। বইয়ের প্রচ্ছদে সোহাগ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন শিশুতোষ বইয়ে। সোহাগ পারভেজের জন্ম কুষ্টিয়া জেলায়। মা-বাবা আর দুই বোন মিলে তার পরিবার। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের পাট চুকিয়েছেন কুষ্টিয়ার মুসলিম উচ্চবিদ্যালয় ও শমসপুর আবু তালেব মহাবিদ্যালয় থেকে। তারপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে। পড়ালেখায় বরাবরই মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতকে অর্জন করেছেন প্রথম শ্রেণী। কেবল স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পেয়েছেন দ্বিতীয় শ্রেণী। সোহাগ পারভেজের কাজের মাধ্যম দুটি—পেইন্টিং ও বুক কভার। সোহাগ কেবল ক্যানভাসেই ছবি আঁকেন না, তিনি বইয়ের প্রচ্ছদ-অলংকরণও করে থাকেন। সোহাগ মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন শিশুতোষ বইয়ে। শিশুতোষ বই ‘রাজা ও সোনালি পাখি’-এর প্রচ্ছদের জন্য তিনি পেয়েছেন পুরস্কার। সোহাগ পারভেজ বই অলঙ্করণ বিভাগে পেয়েছেন ‘অগ্রণী ব্যাংক-বাংলাদেশ শিশু একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ১৪১৭’। বাংলার রূপকে তুলি ও রঙে শুধু ক্যানভাসে আঁকায় বিশ্বাসী নন সোহাগ। বাংলার রূপকে ধারণ করেন তিনি তার অস্তিত্বে। তাই তার ছবি শুধুমাত্র শিল্পী সত্তার প্রকাশ নয়, তার অস্তিত্বের প্রকাশ বলে জানালেন সোহাগ।