প্রজন্ম মুখ

রঙিন স্বপ্নের আলোকচিত্রী

সাফাওয়াত খান সাফু ডাকনাম :সাফু জন্মতারিখ ও স্থান :১৪ সেপ্টেম্বর, ঢাকা মায়ের নাম :শাহিদা খান বাবার নাম :আশরাফ আলী খান প্রথম স্কুল :শেরে বাংলা হাই স্কুল প্রিয় মানুষ :আমার মা-বাবা প্রিয় উক্তি :সদা সত্য কথা বলবে প্রিয় পোশাক :জিন্স, টি-শার্ট অবসর কাটে যেভাবে :পরিবারের সাথে সময় দিয়ে। সাফল্যের সংজ্ঞা :পরিশ্রম ও সততা। গ্ল্যামার ও ফ্যাশন ফটোগ্রাফির জগতে পরিচিত একটি নাম সাফাওয়াত খান সাফু। খুব শৈশবেই ক্যামেরা হাতে নিয়েছিলেন তিনি। শুরুতে শখের বসে হলেও একটা সময় কাজের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়ায় এই জায়গাটা। তার প্রতিটি কাজে থাকে এক রকমের নান্দনিকতা। প্রজন্মের এই ফটোগ্রাফার বলেন, ‘শখের বশেই ছবি তুলতাম। ছবি তোলার প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা ছিল। সেই ভালোবাসা থেকেই এতদূর পথচলা। এই পেশার মূল আকর্ষণ হলো, চ্যালেঞ্জ। অর্থাত্ প্রতি মুহূর্তেই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। যখন ফিল্ম ক্যামেরায় ছবি তোলা হতো, তখন ক্লিক করা থেকে প্রিন্ট করা পর্যন্ত উত্তেজনা কাজ করত। এখন ডিজিটাল যুগেও অন্যরকম এক ভালোলাগা থাকে ছবিকে ঘিরে।’ সাফাওয়াত খান সাফুর মতে, ‘আমাদের দেশে অ্যাডভারটাইজমেন্ট ও পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির চেয়ে ফ্যাশন ফটোগ্রাফি অনেক এগিয়েছে। সময়ের সাথে সাথে আমাদের ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রগুলোও বাড়ছে। তবে, আন্তর্জাতিক মানের জন্য আমাদের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি এখনও ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠেনি। ফ্যাশন হাউসগুলো পণ্য বিক্রি করছে ঠিকই, তবে ফ্যাশন বিক্রি করে না। তাই ক্রেতারাও ফ্যাশনেবল হয়ে ওঠেনি।’ সাফুর কাছে এই পেশার মূল আকর্ষণ হলো—সৃষ্টির আনন্দ ও স্বাধীনতা। কাজ করতে গিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে আমাদের দেশে ফটোগ্রাফারদের কি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়—এমন প্রশ্নের জবাবে সাফাওয়াত খান সাফু বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য বিখ্যাত ফটোগ্রাফারদের ভিড়ে আমাদের দেশের আলোকচিত্রশিল্পীদের মূল্যায়নের ব্যাপারটা আমি পজিটিভভাবে দেখি। আমি মনে করি, অবশ্যই মূল্যায়ন হয়। আমাদের দেশে এখন কাজ করার অনেক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের আলোকচিত্রের বিশ্বব্যাপী পরিচিতি আছে এবং ব্যাপ্তিটা ধীরে ধীরে আরও বাড়ছে। সেই সাথে আমাদের দেশে ফটোগ্রাফি পেশার জনপ্রিতার দিন দিন বাড়ছে। আর ফটোগ্রাফি পেশায় অনেক আনন্দ আছে।’ নতুন যারা ফটোগ্রাফিতে আছে, তাদের কাজ আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করেন? উত্তরে তিনি বলেন, ‘তাদের ভেতর অনেক সম্ভাবনা আছে। আমি মনে করি, বর্তমান প্রজন্ম অনেক ভালো কাজ করছে। তাদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো—নিজের উপর আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে, আত্মবিশ্বাস থাকলে ভালো ফটোগ্রাফার হওয়া যায়। এবং অনেক ক্ষেত্রেই পুরোপুরি সফল হওয়া যায়।’ আর পেশা হিসেবে দেখতে গেলে ফটোগ্রাফারদের অনেক রকম সুযোগ আছে। অনেকরকম ফটোগ্রাফার কাজ করে আমাদের আশপাশে। প্রত্যেকের কাজের ক্ষেত্র আলাদা। যেমন ফ্যাশন ফটোগ্রাফাররা ফ্যাশন শুট করে, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফাররা জীবজন্তুর ছবি তুলে, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফটোগ্রাফাররা মেশিনের ছবি তুলে, আবার ফরেনসিক ফটোগ্রাফারদের কাজ বিভিন্ন অ্যাসপেক্ট থেকে কোনো ক্রাইমের ছবি তোলা, যেমন কোনো খুন হলে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে লাশের ছবি তোলা, যাতে ছবি দেখে তদন্ত করতে সুবিধে হয়। সায়েন্টিফিক ফটোগ্রাফাররা আবার রিসার্চ ওয়ার্কের ছবি তুলে। এর বাইরেও রয়েছে ন্যাচার অর্থাত্ প্রকৃতির ছবি তোলা। ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফার, তাদের কাজ শুধু বিভিন্ন স্থানকে দর্শনীয় স্থানের মতো করে ছবি তোলা। সুতরাং যেকোনো ফটোগ্রাফিই পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া যায়।’ প্রজন্মের মেধাবী এই ফটোগ্রাফারের প্রতিদিনের দিনলিপি লেখা হয় স্ত্রী দীপা আর একমাত্র সন্তান আবরারকে নিয়ে। ব্যস্ততার মাঝে যেটুকু সময় হয়, পরিবারের সাথেই কাটানোর চেষ্টা করেন তিনি। এর মাঝেই তো প্রতিদিন স্বপ্ন দেখা নতুন কোনো সাফাওয়াত খান সাফুর স্বপ্ন ভবিষ্যতে একটা ইনস্টিটিউট করবেন, যেখানে ফ্যাশন ফটোগ্রাফি নিয়ে পড়াশোনা হবে, কাজ শেখারও সুযোগ থাকবে। আর উদ্যোগটা শুরু হলে, বেশ ফলপ্রসূও হবে বলে আশা করা যায়। এ ধরনের ইনস্টিটিউশন কাজ শুরু করলে নতুনরা অনেক সংগঠিত হবে, কাজের ভালো সুযোগও পাবে।’