তারুণ্যের বহ্নিশিখা
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪৩
‘পরিবেশ অলিম্পিয়াড ২০১২’-এ অংশ নিয়ে তিনি প্রি-ইউনিভার্সিটি বিভাগের প্রতিযোগীদের পরাজিত করে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য চ্যাম্পিয়ন’ হন। ২০১১ সালে ইউনিসেফের সহায়তায় বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত ‘মা ও শিশু’-বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন। ১২তম জাতীয় টেলিভিশন স্কুল বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০১১-তে চ্যাম্পিয়ন হন তার দল। তাকে নিয়ে লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি
তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
হলিক্রস ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি সানজিদা রশিদ বহ্নিকে বিতর্ক অঙ্গনের লোকজন চেনে বিতর্ককন্যা হিসেবে। দিনমান বিতর্ক নিয়ে থাকলেও পড়াশোনাটা কিন্তু সবার আগে, বরাবর প্রথম বা দ্বিতীয় রোলটা তার দখলে সেই শৈশব থেকে। আর গান, কবিতা বা এই যে বিতর্কের চর্চা, এটাতে বহ্নির পড়াশোনাটা বরং গতি পেয়েছে বহুগুণে। তরুণ এই বিতার্কিক এখন হলিক্রস কলেজের একাদশ শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগে পড়ছেন। বহ্নি ছোটবেলায় গান করতেন। শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে। প্রিমরোজ কিন্ডারগার্ের্টনে পড়া অবস্থায় কেজি ওয়ানের বার্ষিক ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাবা তাকে একটা রবীন্দ্রসংগীত শিখিয়ে দেন। ওটা গাওয়ার পর সেদিন অনেক প্রশংসা পেয়েছিলেন, আর সেটাই হয়তো শুরুর ধাপে, সেই থেকে এক এক করে গণ্ডি পেরোনো একেকটা প্রতিযোগিতায়। তবে নিয়মিত গানটা করা হয় না তার এখন। ধ্যান-জ্ঞান হলো বিতর্ক। এখন তিনি ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি। তার নেতৃত্বে অংশ নিয়ে হলিক্রস স্কুল বিতর্ক দল জিতে নিয়েছে ডজনখানেক পুরস্কার। তার ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাটাও বেশ লম্বা। আর যুক্তি দিয়ে কাউকে ঘায়েল করার অন্যরকম এক আনন্দ খুব অনুভব করেন বহ্নি।
গেল বছর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে আয়োজন করে পরিবেশ অলিম্পিয়াড। সারা দেশ থেকে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রায় ৫০০ ছাত্রছাত্রী অংশ নেয় এতে। একমাত্র অংশগ্রহণকারী স্কুল হিসেবে সবার দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া হলিক্রস গার্লস হাই স্কুল প্রি-ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে নির্বাচিত হয় সেরা বিদ্যাপীঠ। আর সেই কৃতিত্বটা বহুলাংশেই যায় বহ্নির দিকে। ২০০৮ সালে নজরুল জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ঋদ্ধি’ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে সেরা দশে জায়গা করে নেন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী আয়োজিত ‘মৌসুমি বিতর্ক প্রতিযোগিতা’য় অংশ নিয়ে থানা পর্যায়ে প্রথম ও জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় হন। ২০১০ সালে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হন। একই বছর রেডিও বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংগীত অনুষ্ঠানে একক দেশাত্মবোধক গানে অংশ নিয়ে প্রশংসা পান। গত বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি অনুষদ আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় জিতে নেন বিশেষ পুরস্কার। চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ ডিবেট ওয়ারিয়র্স ও মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল ডিবেটিং ক্লাব আয়োজিত ‘পাবলিক স্পিকিং’ শীর্ষক বিতর্ক প্রতিযোগিতায়। জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত ‘গোলটেবিল বৈঠক’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম হন। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমী আয়োজিত উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতায় ‘খ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এ ছাড়াও স্কুলের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি বিতর্ক, আবৃত্তি, গান, একক অভিনয় শাখায় পুরস্কার জিতে নেন তরুণ এই তার্কিক। বহ্নির এত সাফল্যের পেছনে স্কুলের বাংলা শিক্ষক ও ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটর রোকেয়া বেগমের অবদান অনেক। বহ্নি বলে, ‘সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেন তিনি।’ আরে এর বাইরে বাবা-মায়ের অবদান তো আছেই।
সানজিদা রশীদ বহ্নির বাবা বজলুর রশীদ একজন সরকারি কর্মকর্তা, মা মাহমুদা নাসরীন গৃহিণী। বাবা মায়ের বড় মেয়ে বহ্নি বাসায় বা কোচিং সেন্টারে কোনো শিক্ষকের কাছে কখনও পড়েননি। নিজের পড়াটা নিজেই করে ফেলতে ভালো লাগে তার। অবসর কাটে গান শুনে ও গল্পের বই পড়ে। মুহম্মদ জাফর ইকবালের বই তাকে অন্য এক মোহে আবিষ্ট করে রাখে, ভালো লাগে এই সময়ের যেকোনো গান। এর বাইরে ছোট দুই বোন তন্বী আর মৌ এর সাথে খুনসুটিতে আনন্দেই লেখা হয় তার দিনলিপি। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হয়ে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ায় অংশীদার হতে চান তিনি। বহ্নি তার শিখায় আলোকিত করে যাবেন আমাদের, এই শুভকামনা।