একজন বিমান প্রকৌশলীর স্বপ্ন ছোঁয়ার গল্প
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪৪
উত্সাহী, উদ্যমী আর মেধাবী একটি ছেলের নাম শাকিল। অজানাকে জানা আর অচেনাকে চেনা এ যেন তার একটা নেশা। ছোটবেলা থেকেই সে একটু অন্যরকম। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন সবাই তার মধ্যে এক সম্ভাবনার আলো দেখতে পায়। শাকিল তখন ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। বাবা সরকারি চাকরি করেন। শাকিল গৃহিণী মায়ের সাথে ঢাকায় থাকেন। সদ্য পাসকৃত ইঞ্জিনিয়ার ভগ্নিপতি মাঝেমধ্যেই বাসায় আসেন। একদিন ভগ্নিপতির সাথে ঢাকা বিমান বন্দরে বেড়াতে আসে। বিমানের উঠানামা দেখে শাকিলের মনে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। ভগ্নিপতিকে এই নিয়ে নানা কিছু জিজ্ঞাসা করে। যতই জানতে পারে, তার আগ্রহ ততই বেড়ে যায়। সে মনে মনে বিমানের ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কথা ভাবে।
ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়, চেষ্টা থাকলে সার্থক হওয়া যায়। শাকিল একসময় জানতে পারেন অ্যারোনটিক্যাল ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (এআইবি) সম্পর্কে। প্রতিষ্ঠানটির আধুনিক শিক্ষা উপকরণ, অবকাঠামো ইত্যাদি দেখে সে আশ্বস্ত হন যে, আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর সংলগ্ন উত্তরার এই প্রতিষ্ঠানই তার বিমান প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে।
উল্লেখ্য যে, প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে অ্যাভিয়েশন সেক্টরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছে। উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর রোডের লেক সংলগ্ন প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিমান বন্দর নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা সিভিল অ্যাভিয়েশন অথোরিটি অব বাংলাদেশ (সিএএবি) কর্তৃক অনুমোদিত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড (বিটিইবি) কর্তৃক স্বীকৃত, যার কলেজ কোড ৫০১৫৮। এর অধিকাংশ প্রশিক্ষকই (সিএএবি)-এর প্রদত্ত সনদপ্রাপ্ত। তা ছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ বিমানের অবসরপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক ও প্রকৌশলীগণদের অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এআইবি-তে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সম্পূর্ণ আধুনিক পদ্ধতিতে মাল্টিমিডিয়া প্রোজেক্টরের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। আধুনিক প্রশিক্ষণ সামগ্রীতে সমৃদ্ধ ল্যাব, ওয়ার্কশপ ছাড়াও রয়েছে ফ্রি ও ওয়াইফাই সুবিধা সংবলিত আধুনিক ক্যম্পাস। আছে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত সুলভ হোস্টেল। বিশেষকরে আছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ।
এসব কিছু যাচাইয়ের পর শাকিল এআইবিতে ভর্তি হয়ে গেলেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রথম সিঁড়িতে পা রাখলেন তিনি। নিয়মিত ক্লাস এবং নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করলেন ভালো ফলাফল। সময় বয়ে যায়, দেখতে দেখতে চার বছর কেটে গেল। শাকিলের এএমই কোর্স শেষ, শুরু হলো কর্মজীবন। ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, রিজেন্ট এয়ারওয়েজ এবং জিএমজি এয়ারলাইন্সে চাকরি করেন। পরবর্তীতে স্বল্পকালীন সময়ের জন্য বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি উড়োজাহাজ মেরামত কোম্পানি তাকে যাচাই বাছাই করে কানাডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে কাজ করার সুযোগ প্রদান করে এবং উক্ত কোম্পানি তাকে দক্ষতার সনদপত্র প্রদান করে। এ বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ :ফোন-০২ ৮৯৬০২৫৩, মোবাইল :০১৮২৭৫৫৭৭৭৮ ও ০১১৯৫৩৩৮৩৬৩।
শাকিলের মতো অন্য উত্সাহী উদ্যমী আর মেধাবীরাও যারা পদার্থ ও গণিতসহ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৩.৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেছেন, চাইতো তারাও এআইবিতে ভর্তি হয়ে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।