তরুণ সফল ব্যবসায়ী
ইভান অ্যাঙ্গোলো
প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪৫
একাধারে লেখক এবং ব্যবসায়ী। তবে সব কিছু ছাপিয়ে তার সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন অনলাইন রিটেইলর। পাশাপাশি তাকে সহকারী লেখকও বলা যায়। শূন্য থেকে তার উঠে আসার গল্পটি বেশ মজার। তরুণ প্রজন্মের সফল এই প্রতিনিধিকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
২৩ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর জন্ম ১৯৯০ সালের ১৩ নভেম্বর। তিনি তার প্রথম ব্যবসায়িক পদক্ষেপ নেন, তখন তার বয়স মাত্র ১৬ বছর। এর প্রায় ৩ বছরের মাথায় তিনি তার ব্যবসায় বিনিয়োগের ৫০,০০০ ডলার তুলে নেন। আরও মজার ব্যাপার হলো, তার এই ব্যবসা সফলতা পায় ইন্টারনেটে কেনাবেচার মাধ্যমে। কাজটি তিনি করেন তার শহর ভার্জিনিয়াতে বসে। এখানেই শেষ নয়, ১৫ বছর বয়সে তিনি তার বোনকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, অনলাইনে তার বিক্রয়যোগ্য জিনিসগুলো ২০০ ডলার করে বিক্রি করতে চান। শহর থেকে দূরে এবং হাতের কাছেই এমন সুযোগ পাওয়ার কারণে তার এই ব্যবসা ভালো চলে। শুরু করার বেশ কিছুটা সময় এমনকি ই-বে-এর বিক্রির রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। স্বভাবতই সকলের নজর কাড়ে বিষয়টি। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি অনলাইনেই কেনাবেচার একটা কোম্পানি খুলে ফেলেন। এর আরও তিন বছরের মধ্যে তার প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ১৫ হাজার ডলারের মতো আয় করতে শুরু করে। হাই স্কুল গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার আগেই তিনি মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে যান।
শুরু হলো তার ব্যবসা। এরপর থেকে তিনি এমন করে বাজার ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে থাকেন খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রির জন্য মজুদ করতে থাকেন। ভালোই ব্যবসা করেছিল সেসময় তার ওয়েব সাইটটি।
এরপর তিনি একজন দক্ষ প্রোগ্রামার নিয়োগ করেন তার কাজের সুবিধার জন্য এবং তাকে ব্যবসার সমস্ত নিয়মকানুন বুঝিয়ে দেন। শুরু হয় প্রফেশনালি ওয়েব-অনলাইন মার্কেটিংয়ের কাজ। এভাবে একসময় সাইটটি বিজ্ঞাপনের সাইট হিসেবেও জনপ্রিয়তা পায়। তার বয়স যখন ১৬, তিনি আমেরিকার সবচেয়ে কনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি টোকিও ধাঁচের ব্যবসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান শুরু করেন। তার প্রথম বই ‘১৬ বছর বয়সী সিউও’ মুক্তি পায় আমেরিকাতে। দেশের সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের তালিকায় স্থান পায় এটি। জানুয়ারি ২০০৮, তার লেখা আরও একটি বই বের হয়। সেটাও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে পাঠকদের মধ্যে। তার এই বইটির নাম, ‘সফলতার শর্তাবলি’। বইটি মূলত সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ১৯টি উপায় নিয়ে রচিত। সিমন ও স্কুস্টার প্রকাশনী থেকে বইগুলো প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের পরপরই তার এই বইগুলো ব্যাপক হারে জনপ্রিয়তা পেয়ে যায়। পরবর্তীতে পৃথিবীর আরও অনেকগুলো ভাষায় সেগুলো রূপান্তর করা হয়। তার ব্যবসায়িক জীবনে আরও কিছু প্রাপ্তি যোগ করে এই বইগুলো। তিনি ব্যবসায়ী ছাড়াও লেখক হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যান।
তার এই সাফল্য এত বেশি প্রচার পায় যে পরবর্তীতে তার খবর বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে ওঠে আসে। টেলিভিশনে প্রচার করা হয় তার সাক্ষাত্কার। বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি অংশ নিতে থাকেন। যেমন, অপেরা শো, ফক্স নিউজ. সিএনবিসি এবং অবশ্যই নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতো পত্রিকাতে। এরপর ২০০৯ সাল। তিনি অপেরার সাথে জড়িত হন। সেই অনুষ্ঠানের একটা ফিচারের মাধ্যমে তিনি ‘অপেরাস বিগ গিভ’ খেতাব পান। অপেরা শোয়ের অনেক বড় একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে তাকে নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। সে বছর তিনি আমেরিকার ১০ জন কনিষ্ঠ সফল ভার্জিনিয়ানদের তালিকায় নাম লেখান। এরপর ২০১০ সালের শুরুর দিকে, তিনি ‘বিট দ্য বস’ নামের এক সিরিজের হোস্ট হিসেবে ভূমিকা রাখেন। এর ফলে অনুষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা এত বৃদ্ধি পায় যে, তার নামের সাথে ‘আমেরিকার :বিট দ্য বস’ উপাধিটি যুক্ত হয়। এই কাজের মাধ্যমে তার সফলতার পরিধি আরও বেড়ে যায়। তিনি সেবছরই শহরের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আমেরিকার কনিষ্ঠ শীর্ষ ১০ সফলদের মধ্যে একজন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, জুনিয়র চেম্বর অব অ্যাসোসিয়েশনের হিসেব মতে। টেলিভিশনের সাথে তার সম্পৃক্ততার কারণে যে তার মূল ব্যবসা, অর্থাত্ অনলাইনে কেনাবেচার যে কোনো কমতি হয়েছে তা কিন্তু নয়। প্রচুর পরিশ্রমী হওয়ার কারণেই সম্ভবত তিনি এত বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।