বসতবসতি
মেঝের সাজে
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:২৭
ঘর সে ছোট বা বড় হোক, এর সৌন্দর্য্যের ষোলআনা নিশ্চিত করতে ঘরের মেঝেটির দিকেও দিতে হয় বাড়তি নজর। মেঝে সাজানোর নানা উপকরণ রয়েছে। ঘরের আকার-আকৃতি ও ব্যবহার সাপেক্ষে এই উপকরণগুলো ব্যবহার করাটা জরুরি। আর তাই এ নিয়েই আমাদের এ আয়োজন
কার্পেট ব্যাপারের মাঝে একটা রাজকীয় ভাব রয়েছে। রাজা-বাদশাদের আমলে কেবল রাজা, বাদশা, জমিদার ও সওদাগরদের (মার্চেন্ট) ঘরেই এর ব্যবহার ছিল। তখন কার্পেট ছিল সাধারণ মানুষের ব্যবহারের নাগালের বাইরে। রাজতন্ত্র এখন প্রায় বিলীন, গণতন্ত্রের এই যুগে সমাজের সাধারণ মানুষের ধরা-ছোঁয়া ও নাগালের মধ্যে চলে এসেছে সেই কার্পেট। হয়তো কারুকাজ ও গুণগত মানের দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।
ঘর সাজাতে কার্পেটের জুড়ি মেলা ভার। সাধারণ ঘরটিও কার্পেটের কারণে অসাধারণ হয়ে ওঠে। ঘরে আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে সাজানো গোছানোর মাঝে একটা সমন্বয় রাখতেই হয়। এবার চলুন বসার ঘরটি কী ধরনের কার্পেট দিয়ে সাজাতে হবে তা জেনে নিই।
ছোট ড্রইংরুম :ড্রইংরুমে সোফাসেট, ডিভান, বুকসেলফ ও শোকেস দিয়ে সাজানোর সময় খেয়াল রাখতে হবে কার্পেটটি যেন পুরো ঘরজুড়ে বিছিয়ে নেওয়া যায়। তবেই ঘরটি বড় দেখাবে। দরজার কাছের জায়গাটি ফাঁকা রাখতে হবে। ওখানে যেন কার্পেট বিছানো না হয়, বরং ওখানে সুন্দর একটি পাপোশ বিছিয়ে নিন, তাতে কার্পেট সহজে ময়লা হবে না। ছোট ড্রইংরুমের কার্পেট একরঙা বা ছোট ছোট নকশার হলে সুন্দর ও ভালো দেখায়। আর রঙটা হালকা হলে ঘরের ডেকোরেশন ফুটে ওঠে।
বড় ড্রইংরুম :বড় ঘরে যেকোনো রং যেকোনো ডিজাইনের কার্পেট মানিয়ে যায়। এর আকার হতে পারে ডিম্বাকৃতি, গোলাকার, চারকোনা। এমনকি গাড়ি ও মাছ আকৃতির নিত্যনতুন নকশার যে কার্পেট বাজারে পাওয়া যায় তাও ব্যবহার করতে পারেন। তবে ফার্নিচার যদি আকর্ষণীয় ও শৈল্পিক ডিজাইনের হয় তবে লাল, শ্যাওলা ও ঘাসের (সবুজ) রং হলে ঘরের সাজসজ্জা ফুটে উঠবে। ইচ্ছে করলে পুরো ঘরজুড়ে বা শুধু ঘরের মাঝখানে মাঝারি আকৃতির কার্পেট বিছাতে পারবেন। ডিভানগুলো ইদানীং ছোট হওয়ায় অনেকে ঘরের এক কোণে সুন্দর নকশা করা আলাদা ছোট কার্পেটে হারমোনিয়াম, তবলা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র সেট করে সাজিয়ে রাখতে পারেন। এতে রেওয়াজের সময় বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে টানা-হেঁচড়া করতে হয় না।
খেয়াল রাখতে হবে জমকালোভাবে সাজানো ড্রইংরুমের কার্পেট কিছুতেই হালকা রং হলে চলে না, হতে হবে উজ্জ্বল রং; তবেই ফুটে উঠবে শৈল্পিকতা ও আভিজাত্য। খেয়াল করে দেখুন গল্পে, উপন্যাসে ও ইতিহাসে আভিজাত্যের সাথে পারস্যের ইরানের গালিচার সম্পর্কের কথা।
শোবার ঘর :এখানে হালকা বা গাঢ় সবুজ যেকোনোটি মানায়। নয়তো হালকা নীল বা যেকোনো হালকা রং মানায়। সবুজ ও নীল চোখের জন্য উপকারী তাই আপনি এ রঙটির দিকেই গুরুত্ব বেশি দিতে পারেন। সারা ঘরে না হলেও চলে শুধু খাটের পাশে ছোট বা ডিম্বাকৃতি বা গোল কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন।
পড়ার ঘর :রিডিং রুমের কার্পেট যেকোনো রঙেই মানিয়ে যায়, তবে এখানে নকশাটা যদি আকর্ষণীয় হয় তবে একটু ভালো লাগে। আর এই আকর্ষণীয় কার্পেট বলতে মাছ আকৃতি, চারকোনা, পাঁচকোনা, ডিম্বাকৃতি, গোলাকৃতি, গাড়ির আকৃতি, ফুল আকৃতি ও বিভিন্ন নকশার কথা বোঝায়।
অনেকেই বাড়ির বাথরুমে, বারান্দা ও সিঁড়িতে কার্পেট ব্যবহার করে থাকে। গোছলের জায়গা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রেখে বাথরুমের বেসিনের সামনেও কায়দা করে ব্যবহার করা যায়। সিঁড়িতে, চলাচলের পথে রাস্তায় গালিচা মাড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন অনেক বিত্তবান।
আড্ডা ও মজলিশে কার্পেট :কার্পেটে বসে দলবেঁধে খেতে খেতে আড্ডা দেওয়া অনেকটাই উপভোগ্য। সাহিত্য আলোচনা ও ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সবাই একসাথে কার্পেটে বসে উপভোগ করলে অনুষ্ঠানটি আরও জমজমাট হয়ে ওঠে।
ড্রইংরুমে ডিভানের বদলে সোফার একপাশে কার্পেটের ওপর কুশন ও আকিয়া দিয়ে মেঝেতে বসার এবং আড্ডার আয়োজন করতে পারেন। এতে একটু রাজকীয় ও জমিদারি জৌলুসের ছোঁয়া পাওয়া যায়।
কোথায় পাবেন
ঢাকাসহ দেশের বিভাগীয় শহর ও জেলাশহরের বড় মার্কেট বা শপিংমলে আপনি হয়তো পেয়ে যেতে পারেন আপনার শখের কার্পেটটি। খুব বেশি শৌখিনটা না পেলে দেশীয় কার্পেট সহজেই পেতে অসুবিধা হবে না। যদি তড়িঘড়ি প্রয়োজন থাকে তবে কাছাকাছি মার্কেটেই ছুটে যান। আর যদি তড়িঘড়ি প্রয়োজন না পড়ে তাহলে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডের বিশাল বিশাল হাউসগুলোতে যেতে পারেন। এখানে উল্লেখযোগ্য দোকানগুলো হলো—শিশু কার্পেট, মোর্শেদ কার্পেট, কন্টিনেন্টাল কার্পেট লি. ও মিঠু কার্পেট। এগুলো দেশি-বিদেশি যেকোনো কার্পেটের পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, নিউমার্কেটসহ রাজধানীর বড় বড় শপিং মলে যাচাই বাছাই করে দেখতে পারেন।