দখল হয়ে যাচ্ছে চকরিয়ার হারবাং শাক্যমণি বৌদ্ধবিহার ও শ্মশান

চকরিয়ার হারবাং এলাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শাক্যমণি বৌদ্ধবিহারটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। খসে পড়ছে রং পলেস্তার। বিহারের স্যাঁতসেঁতে দেয়াল জুড়ে শেওলা আর শেওলা। বিশাল আকারের বৌদ্ধমূর্তি সংরক্ষিত চিমা ঘরটির টিনের চাল ও চারদিকের বেড়া ভেঙ্গে জীর্ণদশায় দাঁড়িয়ে আছে। জানা যায়, উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের ওই বৌদ্ধবিহারটি ৩০ হাজার রাখাইন জনগোষ্ঠীর একমাত্র উপাসনালয়। যুগের পর যুগ ধরে অবহেলা, অযত্ন এবং সংস্কারের ছোঁয়া না পাওয়ায় বিহারের ভগ্নদশা কাটেনি। স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের আক্ষেপ সরকারি বা বেসরকারি কিংবা ধর্মীয় কোন সংস্থার সাহায্য-সহযোগিতা তারা পান না। বিহারে পূজা দিতে আসা এক রাখাইন তরুণীর অভিযোগ, হারবাং দেশের সবচেয়ে বৃহত্ রাখাইন জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত এলাকা এবং হাজার বছরের ঐহিত্য নিয়ে রাখাইন সম্প্রদায় এই অঞ্চলে ধর্মীয় সম্প্রতি বজায় রেখে বসবাস করছে। রামু, কক্সবাজার ও উখিয়াসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনমান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নে সরকার বিভিন্নভাবে আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা করলেও এখানে রাখাইন সম্প্রদায় উন্নয়নের ছিটে-ফোঁটাও পায়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মধুখালী গ্রামের নীরব নিস্তব্ধ এলাকার পাহাড়ী টিলার উপর সুবিশাল পরিসরে শাক্যমণি বৌদ্ধবিহারটি শতাব্দির ঐতিহ্য ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে। বিহার কম্পাউন্ডে রয়েছে চিমাঘর, সিংহদ্বার সম্বলিত জাদি, শাক্যমণি উচ্চ বিদ্যালয় এবং অন্য পাশে বিশাল বৌদ্ধ শ্মশান। বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ওরা জিন্দা জানান, নানা সমস্যায় জর্জরিত শাক্যমণি বৌদ্ধবিহারটি গত ৫০ বছরের কোন উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। হারবাংয়ের একমাত্র বৌদ্ধ শ্মশানটিও কালক্রমে ভূমিদস্যুদের করাল গ্রাসে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, ৩ একর আয়তন বিশিষ্ট বৌদ্ধ শ্মশানটি অর্ধেক জমিই ইতোমধ্যে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় ভূমিদস্যুরা। শ্মশানের পূর্ব ও উত্তর পার্শ্বে গড়ে উঠেছে ৪০-৫০টি অবৈধ বসতি। অধ্যক্ষ ওরা জিন্দা অভিযোগ করে বলেন, যেখানে বৌদ্ধমূর্তি তৈরি করা হতো সেখানে আজ অবৈধ বসতি, যেখানে মরদেহ পোড়ানো হতো সেখানেও অবৈধ ঘর-বাড়ি। কোনক্রমেই এই অবৈধ স্থাপনা রোধ করা যাচ্ছে না।