এগিয়ে
যাচ্ছে
রাবার
শিল্প
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:১৪
আমাদের দেশের রাবার শিল্প ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে রাবার শিল্প ইতিমধ্যে বিশেষ অবদান রাখতে শুরু করেছে। দেশের রাবার শিল্প মালিকেরা লাভের মুখ দেখছেন। দেশে উত্পাদিত রাবার দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। আমাদের দেশের রাবার শিল্প প্রসঙ্গে আলাপ হয় রাবার বাগান মালিক এবং রাবার বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ কামাল উদ্দীনের সাথে। তিনি বলেন রাবার শিল্প মূলত বিদেশ থেকে এদেশে এসেছে। ১৯১০ সালের কলিকাতা বোটানিক্যাল গার্ডেন থেকে রাবার গাছে চারা এনে চট্টগ্রামে বারমাসিয়া ও সিলেটের আমু চা বাগানে লাগানো হয়। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৫৪ সালের দিকে বন বিভাগ টাঙ্গাইলের মধুপুর চট্টগ্রামের হাজারীখীল ও তেতুলিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে কিছু রাবার চারা রোপন করা হয়। এভাবে আমাদের দেশে রাবার চাষের গোড়াপত্তন ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের দিকে বাংলাদেশে রাবারের বাণিজ্যিক চাষে সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বিশেষজ্ঞ মিঃ ইউলিয়াম লয়েডকে দায়িত্ব দিলে তিনি তার সমীক্ষায় এদেশের জলবায়ূ ও পাহাড়ী এলাকার মাটি বাণিজ্যিক রাবার চাষের উপযোগী বলে এর চাষের অনুকূলে রিপোর্ট দেন। তার সুপারিশের ভিত্তিতে বন বিভাগ ১৯৬০ সালে ৭১০ একরের একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারের রামু, আর চট্টগ্রামের রাউজানে যথাক্রমে ৩০ এবং ১০ একর বাজার সৃজনের মাধ্যমে এদেশের বাণিজ্যিক রাবার চাষ শুরু করেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বানিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষ হচ্ছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের রামু, রাউজান, ডাবুয়া, হলুদিয়া, কাঞ্চন নগর। তারাখো, দাঁতমারা, সিলেটের ভাটেরা, সাতগাঁও, রূপাইছড়া, শাহী বাজার, ময়মনসিংহের মধুপুর, শেরপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এলাকাসহ লামার বিসতৃর্ণ এলাকা। সারা দেশে ১৩০৪ টি বেসরকারী রাবার বাগান রয়েছে। সারা দেশে ৩২৬২৫ একর জমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ২৪০০০ মেট্টিক টন রাবার উত্পন্ন হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ছয়শত কোটি টাকা। ২০১২ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায় বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাবারের চাহিদা ৩% হারে বেড়েই চলেছে। যার চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দাড়িঁয়াছে ৭%। বর্তমানে রাবার দিয়ে ১লক্ষ ২০ হাজার ধরনের দ্রব্যসামগ্রী তৈরী হচ্ছে। রাবার দিয়ে প্রধানত গাড়ীর চাকার টায়ার, টিউব, জুতার সোল, সেন্ডেল, ফোম রেক্সিন, হোমপাইপ, গাম, খেলনা, শিল্প কারখানার দ্রব্য সামগ্রী চিকিত্সা শাস্ত্রের বিভিন্ন সামগ্রীসহ গৃহস্থলী কাজের ব্যবহূত বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী তৈরী হচ্ছে। বাংলাদেশ রাবার চাষে নবীন হরেও এর ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, পরিবেশ সহায়ক ও আর্থসামাজিক প্রয়োজনে রাবার চাষের গুরুত্ব অপরীসিম। দ্রুত বনায়ন, বনায়নের মাধ্যমে বিসতৃর্ণ এলাকার ভূমিক্ষয় রোধ, বিপুল কর্মসংস্থান, বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বৈদেশিক আয়ের ব্যবস্থাসহ প্রভূত কল্যাণ সাধন হবে এদশের রাবার চাষের মাধ্যম। আমাদের পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে রাবার চাষীদের বিশেষ রপ্তানী সুযোগ এবং ভর্তূকি সুবিধাসহ সহজশর্তে ঋণ প্রদান এবং উত্সাহ প্রদানের লক্ষ্যে অনুদান প্রদান করে যেখানে রাবার চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। যা আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। রাবার উত্পাদনে ইন্দোনেশিয়া সবার শীর্ষে রয়েছে। সেদেশে রাবার চাষের ব্যাপারে সরকারী পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। যে কারনে সেখানে রাবার শিল্প দিন দিন উন্নতি লাভ করছে। এদিকে আমাদের দেশের রাবার শিল্পে বিরাজ করছে অজস্র সমস্যা। আমাদের দেশে প্রচুর পরিমানে রাবার উত্পন্ন হওযা সত্ত্বেও প্রতি বছর বিদেশ থেকে রাবার আমদানী করছে। যে কারনে আমাদের দেশের রাবার শিল্প বাধাগ্রস্থ হচ্ছে পদে পদে। বিদেশী রাবারে বাজার সয়লাব হয়ে থাকায় দেশী রাবারের বাজার চাহিদা সৃষ্টি হচ্ছে না। দেশী রাবার অবিক্রিত থেকে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাবার চাষ করে রাবার চাষীরা ন্যায্য মূল পায় না। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ রাবার উত্পন্ন হচ্ছে তা অভ্যান্তরীন চাহিদা পূরন করে ২০ হাজার টন রাবার বিদেশে রপ্তান িকরা সম্ভব হবে। একটি পরিসংখ্যনে দেখা গেছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর বিদেশে রাবার রপ্তানী করে একশত কোটি থেকে দেড়শত কোটি টাকা আয় করেছে। বর্তমানে দেশের রাবার শিল্পের স্বার্থে বিদেশ থেকে রাবার আমদানী বন্ধ করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। রাবার বাগান মালিকরা রাবার উত্পাদনে সফলতা করতে রাবার চাষীদের স্বার্থ সংরক্ষন উত্পাদিত রাবারের মান উন্নয়ন, বিপনন, ভবিষ্যতে রপ্তানরি সুযোগ সৃষ্টি করা এবং রাবারের আর্ন্তজাতিক মূল্যের সাথে সমন্বয় করে দেশীয় রাবারের বাজার মূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার স্বার্থে জাতীয় রাবার নীতি ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছেন। রাবার শিল্পের উন্নয়নে রাবার গবেষনা ইনস্টিটিউট স্থাপন করাও প্রয়োজন।