আইন বিষয়ে পড়তে চাইলে
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:২৫
আইন বিষয়ে শিক্ষার প্রসারে বর্তমানে যেসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তাদের মধ্যে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অগ্রগণ্য এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ সর্বপ্রথম বার কাউন্সিলের স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৯৫ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব প্রফেসর ড. এবিএম মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারী সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন অনুষদ এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা এখানে পড়ালেখা করার সুযোগ পায়। চাকরিজীবীদের সুবিধার্থে এখানে দিবা শাখার পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন শাখাতেও পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আইন অনুষদে বর্তমানে যে কোর্সসমূহে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হচ্ছে, সেগুলো হলো—চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) দিবা শাখা, চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) সান্ধ্যকালীন শাখা, দুই বছর মেয়াদি এলএলবি (পাস) প্রোগ্রাম, এক বছর মেয়াদি এলএলএম (মাস্টার্স) প্রোগ্রাম, দুই বছর মেয়াদি এলএলএম (মাস্টার্স) প্রোগ্রাম। এ ছাড়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধীনে দুই বছর মেয়াদি মাস্টার্স অব হিউম্যান রাইটস ল প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও আইনজ্ঞ কর্তৃক এই অনুষদের একাডেমিক সিলেবাসগুলো প্রণীত এবং সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত। এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :৬৬ গ্রিনরোড অথবা বাড়ি-৪, রোড-১, ব্লক-এফ, বনানী, ঢাকা। ফোন :৯৬১৩৮৬৮, ০১৬১১৩৪৮৩৪৪-৮। এই আইন অনুষদের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন ও ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং ডিন হিসেবে আছেন ড. উত্তম কুমার দাস, চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োজিত আছেন সহকারী অধ্যাপক শামীম আরা। এখানে রয়েছেন সুদক্ষ ২৫ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক। আইন বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সম্যক ধারণা প্রদানের লক্ষ্যে এখানে আইনের অধ্যাপক, বিচারপতি, বিচারক, আদালতে কর্মরত আইনজীবী, ব্যারিস্টার প্রমুখের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী শিক্ষক শ্রেণী তৈরি করা হয়েছে। খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে এখানে কর্মরত আছেন অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান, আইন বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। নিয়মিত এখানে বিভিন্ন সেমিনার, ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
সম্প্রতি এখানে শিশু অধিকার, নারী অধিকার, কনভেনশন বা টর্চার, উত্তরাধিকার, জুডিশিয়াল রিভিউ, সিভিল জাস্টিস সিস্টেম ইত্যাদি বিষয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ইত্যাদিতে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, আইন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাহ আলম, অধ্যাপক সেডরিক বেল, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল বাসেত মজুমদার, ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ মুখপাত্র আব্বাস ফায়েজ, রেড ক্রিসেন্টের বাংলাদেশ মুখপাত্র, হিউম্যান রাইটস কমিশনের এশিয়ান ডেস্কের প্রধানসহ আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইনজ্ঞ ও মানবাধিকার বিজ্ঞানীগণ। ভবিষ্যতের একজন সফল আইনজীবি হিসেবে শিক্ষার্থীরা যাতে আইনের যেকোনো ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য এখানে বার প্র্যাকটিশনারস ট্রেনিং প্রোগ্রাম (বিপিটিসি) নামে একটি কোর্সে রয়েছে। এ কোর্সটিতে শিক্ষার্থীদের আদালতের কার্যধারা, বিভিন্ন ধরনের ড্রাফটিং, অ্যাডভোকেসি ইত্যাদি বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সম্প্রতি এ কোর্সটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আইন বিষয়ের অনেক মূল্যবান গ্রন্থ ও রেফারেন্স বই লাইব্রেরিতে রয়েছে।