জলবায়ু মোকাবেলায় তারুণ্য
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:২৫
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট নোবেল বিজয়ী আল গোর জলবায়ু বিয়ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছেন। সে প্রশিক্ষণে সুযোগ মানে হাতে চাঁদ পাওয়া। সে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি। ইন্টারনেটে পাওয়া সে আমন্ত্রণ পত্র ঝাঙ্ক মেইল নয়তো। কয়েক দফা মেইল চালাচালি চলল। আমেরিকান অ্যাম্বেসিতে ভিসা কাউন্সিলর আধা মিনিটের ইন্টারভিউতে জানালেন, ‘অভিনন্দন হে তরুণ। তুমি আল গোরের জলবায়ু কর্মসূচিতে যাচ্ছ। তুমি সৌভাগ্যবান।’ তড়িঘড়ি টিকেট কেটে পাড়ি দিলাম নিউইয়র্ক। মাঝে দুবাইয়ে যাত্রা বিরতি। তারপর শিকাগো। সত্যি দেখা মিলবে তো আমার ছোট বেলার আইডল আল গোরের সঙ্গে। জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে তার বই ‘ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ’। তার সেই বই কয়েক বছর আগে পড়েছি। চমত্কৃত হয়েছি। তাই সাতসাগর তেরনদী পারি দিয়ে অবশেষে বাবা আর আমি পৌঁছুলাম যুক্তরাষ্ট্র। রোমাঞ্চকর সে যাত্রা। আমার বিস্ময়ের শেষ নেই। সত্যি মিলবে তো আল গোরের দেখা?
অভাবিত সেই ঘটনা ঘটল ৩১ জুলাই। সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ‘দ্য ক্লাইমেট রিয়েলিটি প্রজেক্ট’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আল গোর বক্তৃতা দিতে গিয়ে বললেন, ‘নিঃসন্দেহে বাংলাদেশিরা একটি সংগ্রামী জাতি। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশকে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত করলেও তারা এখনও বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।’ আল গোর বাংলাদেশ সম্পর্কে এত খবর রাখেন! সত্যিই বিস্ময়কর! বিস্ময়কর এমন আরও অনেক ঘটনাই ঘটেছে এই সফরে। সফরের সুযোগ এসেছিল ‘ক্লাইমেট রিয়েলিটি লিডারশিপ কোর ট্রেনিং, ২০১৩’-এর সুবাদে। জলবায়ু বিষয়ক এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে। সময় ৩০ জুলাই থেকে পয়লা আগস্ট। তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ থেকে যোগ দিয়েছিলাম তিন শিক্ষার্থী আমি, সালমান সাকিব ও মুরাদুর রাশেদীন এবং আমার বাবা কামরুল ইসলাম চৌধুরী। আমরা ২৮ জুলাই শিকাগোতে পৌঁছাই। তারপরই বেড়িয়ে পড়ি প্রশিক্ষণ ভেন্যু হায়াত রিজেন্সি ম্যাককরমিক প্লেসের উদ্দেশে।
পাঁচতারা হোটেলের সেই গ্র্যান্ড বলরুমে পৌঁছে দেখলাম, তখন প্রশিক্ষণ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। দেশ-বিদেশের শ’ খানেক ক্লাইমেট লিডার একে একে জমায়েত হতে শুরু করেছেন রেজিস্ট্রেশনের জন্য। নিজেদের তখন খুব সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছিল এমন এক আয়োজনের অংশ হতে পেরে। রেজিস্ট্রেশনের পর গ্র্যান্ড বলরুমে স্বাগত বক্তব্য দিয়ে সব ক্লাইমেট লিডারকে স্বাগত জানালেন ক্লাইমেট রিয়েলিটি লিডারশিপ কোরের পরিচালক মারিও মলিনা ও সিইও ম্যাগি এল ফক্স। বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশ থেকে ক্লাইমেট লিডাররা এসেছেন প্রশিক্ষণে। প্রথম দিনের প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল ‘স্টোরিটেলিং অ্যান্ড প্রেজেনটেশন স্কিল ডেভেলপমেন্ট’। এ দিনের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ইন্টারন্যাশনাল স্টোরিটেলার ও ফ্রি-রেঞ্জ স্টুডিও’র সিইও জোনাহ সাক্স, যিনি তার অসাধারণ বাকশৈলী দিয়ে আমাদের সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছিলেন পুরোটা দিন। দিনশেষে আমাদের জন্য আলাদা সেশনের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে সবাই একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পারি ও ক্রিয়েটিভিটি শেয়ার করতে পারি। পরিচয় হলো অ্যালেক্স, ক্যারোলিন, কাই, ম্যাক্স, অ্যামি, আইসট, কলিন, হিথ ও আরও অনেক ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া তরুণ ক্লাইমেট লিডারদের সঙ্গে। রাতে নতুন বন্ধুদের সঙ্গে শিকাগোর বিখ্যাত লুমানাটিস পিত্জাটারিয়াতে রাতের খাবার সেরে দিনের ইতি ঘটল আমাদের।
দ্বিতীয় দিনের প্রশিক্ষণের পুরোটাই পরিচালন করেছেন আল গোর। তার ভাষণ ছিল চমত্কার। উপস্থাপনা ছিল প্রাণবন্ত। তথ্যপূর্ণ স্লাইড শো দিয়ে শিক্ষানবিশদের বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, কুফল, এর প্রতিকার এবং পরিবেশবান্ধব এনার্জি তৈরির উপায় বর্ণনা করেন আমাদের সবার সামনে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্বন কর চালুর বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।