প্রজন্মের একজন
টেক জায়েন্ট অ্যাপল ও টিম কুক
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৬
স্টিভ জবস নেই, অ্যাপলের সেই সুদিনও নেই। অ্যাপল এখন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রযুক্তির বাজারে সংগ্রাম করছে। অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর থেকে কিছুটা হলেও জৌলুস হারিয়েছে একসময়ের উদ্ভাবনী প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানটি। তারপরও তাদের নতুন কিছু দেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আর তাদের নতুন সব চমকের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়ছে অন্য প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও। অ্যাপলের এ লড়াইয়ের পেছনে রয়েছেন বর্তমান অ্যাপল-প্রধান নির্বাহী টিম কুক। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
গত বছর ‘টাইম’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে জায়গা করে নিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। টাইম ম্যাগাজিনের নির্বাচনে তিনি হলেন পারসন অব দ্য ইয়ার। তাকে বলা হচ্ছে, নব্য আমেরিকার স্থপতি। তবে টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার না হয়েও রানারআপ হয়েছিলেন এ সময়ের টেক জায়েন্ট প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক। স্টিভ জবসের উত্তরসূরি টিম কুক স্বভাবে খুবই সাধারণ। অনেকেই বলেন, স্টিভ জবসের মতোই চুপচাপ থাকেন কুক। দুজনের মধ্যে মিলও আছে অনেক। এ জন্যই হয়তো স্টিভের চলে যাওয়ার পরও এক মুহূর্তের জন্যও থেমে নেই অ্যাপল। অফিসে প্রতিটি বিষয়ে তিনি অত্যন্ত অস্থির। কোনো বিষয়ে দেরি করা একদমই পছন্দ না। এই তো কিছুদিন আগেই চীনে আইফোনজনিত সমস্যায় বিপাকে পড়ে অ্যাপল। এ খবর পাওয়া মাত্রই জরুরি বৈঠক ডাকেন কুক। সিদ্ধান্তও হয় চটজলদি। অফিসের একজন নির্বাহী কর্মকর্তা উড়ে যাবেন চীনে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন। সত্যিই হয়েছিলও তাই। গল্পটা এমনই, ‘সিদ্ধান্ত হওয়ার পর কুক নিজের অফিস কক্ষে গিয়ে বসেন। তার প্রায় ৩০ মিনিট পর তিনি বের হলেন। দেখলেন যে কর্মকর্তাকে চীনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে তিনি তখনও অফিসে। কুক সঙ্গে সঙ্গে চিত্কার করে উঠলেন। বললেন, ‘তুমি এখনও এখানে কী করছ! তোমাকে না বললাম চীনে যেতে।’ সেই কর্মকর্তা তখনই ছুটে গেলেন ভিসা অফিসে। ভিসা নিয়ে সরাসরি প্লেনে। জানা যায়, এ কর্মকর্তা অফিসের জামা পরেই চীন চলে গিয়েছিলেন। সঙ্গে কিছুই ছিল না।’ কুক এমনই। অদ্ভুত প্রকৃতির। প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসেও কুক নিজেকে বাইরের মনে করেন। তিনি মনে করেন, এ বিশ্বে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী না। অ্যাপল সম্পর্কে তার মতামত হলো, বিশ্বে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় প্রধান নির্বাহীকে সরিয়ে ফেলা হয়। আমার কাছে ‘সরিয়ে দেওয়া’ শব্দটা মোটেও পছন্দ নয়। আমি চাই সব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বিদায় হতে হবে আনুষ্ঠানিক এবং সম্মানজনকভাবে। স্টিভের বিষয়ে আমরা কমবেশি সবাই জানি। তাকে এক সময় প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। হয়তো এ জন্যই কুক কখনও সবকিছুকে আপন করে নিতে ভয় পান। স্টিভ জবসের গল্প খুব কষ্টের। অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে তিনি অ্যাপলের মতো প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সফল করে তোলেন। কিন্তু টিম কুকের গল্পটাও কম কষ্টের না। কুকের জন্ম আমবালা শহরে। তার বাবা জাহাজের সাধারণ শ্রমিক ছিলেন। স্টিভ জবস তো তাও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছিলেন। কিন্তু কুক একদমই হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এক মানুষ। দারিদ্রতা কখনও শিক্ষাকে আটকে রাখতে পারে না। প্রয়োজন প্রবল ইচ্ছাশক্তি। সে ইচ্ছা দিয়েই পড়াশোনায় নিজেকে মনোযোগী করে গড়ে তোলেন টিম কুক। তিনি আবার্ন ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৮২ সালে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপরই যোগ দেন বিখ্যাত আইবিএম প্রতিষ্ঠানে। সেখানে মেন্যুফেকচারিং এবং ডিসট্রিবিউশন বিভাগে নিজের যোগ্যতা প্রমাণে সফল হন। ধীরে ধীরে বিশ্বের প্রযুক্তির জায়েন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে তার পরিচয় ছড়িয়ে যেতে থাকে। সুদীর্ঘ ১২ বছর পর তিনি আরেক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ‘কমপ্যাক’ জয়েন করেন। এখানে ১৯৯৭ সালে কাজ শুরু করেন কর্পোরেট ম্যাটেরিয়ালস বিভাগের সহ-সভাপতি হিসেবে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ২০১১ সালে অ্যাপলের প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস মারা যাওয়ার পর অ্যাপলের দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই সামলাচ্ছেন টিম কুক। বিশ্বের অন্যতম লাভজনক ব্যবসা ধরে রাখা ও অ্যাপলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছেন তিনি। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান স্যামসাংয়ের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা বাড়লেও অবিচল রয়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী।
সমপ্রতি প্রযুক্তি বিশ্লেষকেদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কুক। ২০১১ সালে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে অ্যাপলের দায়িত্ব নিয়েছেন টিম কুক। দায়িত্ব নেয়ার পর তিনি বাজারে নতুন উদ্ভাবনী কোনো পণ্য না আনায় দিন দিন তার সমালোচনা বাড়ছে। এদিকে শেয়ারবাজারে অ্যাপলের শেয়ারের দামও পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্ভিগ্ন হতে নিষেধ করেছেন টিম কুক। তিনি জানিয়েছেন, ‘শিগগিরই নতুন একটি পণ্য বাজারে আনছে অ্যাপল। তবে নতুন পণ্যটি কি ধরনের হবে সে বিষয়ে কোন রকম ধারণা বা ইঙ্গিত দেননিতিনি।