উত্পাদনশীলতা উন্নয়ন সেল গঠনের তাগিদ

দেশের শিল্প ও সেবাখাতে পরিকল্পিতভাবে উত্পাদনশীলতা বাড়াতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি উত্পাদনশীলতা উন্নয়ন সেল গঠনের তাগিদ দিয়েছেন উত্পাদনশীলতা বিশেষজ্ঞ ও শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলেন, এ সেল থেকে প্রতিমাসে বিভিন্ন খাতে অর্জিত উত্পাদনশীলতা পরিমাপ করে এর উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তারা বছরের যে কোনো এক মাসব্যাপী সারাদেশের শিল্প-কারখানায় শ্রমিক-মালিক-কর্মচারির সক্রিয় অংশগ্রহণে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির বিস্তারিত কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দেন। গতকাল রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত ‘উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধিই আগামী দিনের সমৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ তাগিদ দেন। জাতীয় উত্পাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ন্যাশানাল প্রোডাকিটভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এ সেমিনার আয়োজন করে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইর প্রেসিডেন্ট কাজী আকরামউদ্দিন আহ্মদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের ইন্সটিটিউট অব অ্যাপ্রোপ্রিয়েট টেকনোলজির অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন। অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল প্রোডাকটিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) এর পরিচালক ড. মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম পরিচালক আবদুল বাকী চৌধুরী, বিকেএমইএর উত্পাদনশীলতা বিশেষজ্ঞ রূপালী বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক ও শিল্প উদ্যোক্তারা আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শিল্প-কারখানায় কাঙ্ক্ষিত হারে উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য এর পরিচালনার সাথে জড়িত ব্যবস্থাপক, মালিক, শ্রমিক, কর্মচারিসহ সকলের দক্ষতা বাড়াতে হবে। এর পাশাপাশি উত্পাদনে ব্যবহূত কাঁচামাল, জ্বালানি ও মেশিনারির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তারা উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য উত্পাদন খরচ কমানোর তাগিদ দেন। শিল্পখাতের পাশাপাশি সেবাখাতে উত্পাদনশীলতা বাড়িয়ে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তারা মন্তব্য করেন। দিবস উপলক্ষে র্যালি এর আগে জাতীয় উত্পাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে এনপিও গতকাল সকালে এক র্যালি বের করে। র্যালিটি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন গেট থেকে শুরু হয়ে আবদুল গনি রোড হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক পথসভার আয়োজন করা হয়।