তৃতীয় প্রজন্মে পা দিল তারুণ্য

মূল ফিচার হাই-স্পিড ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য তরুণরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিল সেই কবে থেকে। টিভির বিজ্ঞাপনে আর সংবাদপত্রের পাতায় যতই থ্রিজি নিয়ে কথা হচ্ছে ব্যাপারটা যেন ততই ঘোলাটে হচ্ছে। অনেকেই এখনও থ্রিজি আসলে কী, এর উপকারিতা আর সীমাবদ্ধতা কতটুকু কিংবা কেনই বা একে নিয়ে এত জল্পনা-কল্পনা তা জানেন না। তরুণদের কৌতূহলের অনেকটুকু জুড়েই রয়েছে থ্রিজি। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে লিখেছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন তাহের মানিক আমরা ভালো করেই জানি, মানুষের জানার কোনো শেষ নেই। জনাব নিউটন সাহেব এত জ্ঞান অর্জনের পরও বলেছেন তিনি নাকি মাত্র জ্ঞানের সমুদ্রের তীরে বালি নিয়ে খেলা করেছেন। এবার বুঝুন আপনার জানার পরিধি কতটুকু। জানার পরিধিটা বাড়িয়ে তুলতে প্রথমেই যে গুরুত্বপূর্ণ জিনিসটি দরকার তা হচ্ছে যোগাযোগ। আর তার মূলে রয়েছে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনের গ্রাহক বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মোবাইলে ইন্টানেট ব্যবহার। মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে দৈনিক পত্রিকা বা গল্প-উপন্যাস পড়া, প্লেন, বাস অথবা ট্রেনের টিকিট কেনা, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ, কৃষিতথ্য, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, বোর্ডের পরীক্ষার ফল, সর্বশেষ সংবাদ জানা, বিভিন্ন পণ্যের দর জানা, সংক্ষিপ্ত বার্তা (এসএমএস) পাঠানো, মাল্টিমিডিয়া বার্তা (অডিও, ভিডিও) পাঠানো, ই-মেইল পাঠানো, চ্যাট ও ব্রাউজ করা, অনলাইন মার্কেট, ই-কর্মাস সেবা সবই এখন সম্ভব হচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তেই মোবাইল ফোন ও উন্নত নেটওয়ার্কিং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। এসব সেবা আমরা এত দিন দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন প্রযুক্তি (টু-জি) সেবার মাধ্যমে পেলেও এখন চলে আসছে থ্রিজি সেবা। তরুণরা সংখ্যায় অপেক্ষাকৃত বেশি হলেও সব বয়সের মানুষই এখন তাদের দৈনন্দিন কাজে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং এর নানাবিধ সুবিধাই এর কারণ। যেকোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে তরুণরা এখন তা গুগল বা উইকিপিডিয়ায় খোঁজে, এটাই বাংলাদেশের তরুণদের প্রযুক্তি নির্ভরতার উদাহরণ। আর তারই সাথে এবার যুক্ত হয়েছে থার্ড জেনারেশন বা থ্রিজি। প্রযুক্তি সুবিধাকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে থ্রিজি এখন তরুণদের হাতের মুঠোয়। থ্রিজি কী? ‘থ্রিজি’ টাইপ করে গুগল ঘাটলে সেখানে লেখা আসবে থ্রিজি হলো তৃতীয় প্রজন্মের তারবিহীন তথ্য সেবা এবং সেইসাথে আরও কিছু দুর্বোধ্য প্রযুক্তিগত সংজ্ঞা। কিন্তু থ্রিজি মূলত শুধুই তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি না। আমরা এখন পর্যন্ত যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করেছি তা ছিল দ্বিতীয় প্রজন্মের (টুজি) সেবা নির্ভর। টুজির নেতিবাচক দিক হলো এটি অনেক ধীর গতিতে কাজ করে। তাই এটি শুধুই অডিও সমর্থন করতে পারে। অর্থাত্ ‘টুজির দৌড় অডিও পর্যন্ত’। আর থ্রিজি হলো এর থেকে একটু উন্নত প্রযুক্তি। গতিও টুজির তুলনায় চোখে পড়ার মতো। অর্থাত্ টুজির চেয়ে প্রায় দশ থেকে বিশগুণ উচ্চগতিসম্পন্ন! ফলে এটা ভিডিও কল, গ্রুপ ভিডিও চ্যাট এবং উচ্চগতিসম্পন্ন ডেটা পরিসেবা নিশ্চিত করবে। বলা যায় তরুণদের জন্য প্রযুক্তির একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে থ্রিজি। টুজি ব্যবহারে ইন্টারনেট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড করতে যে সময় লেগে থাকে, থ্রিজি ব্যবহারে সময় লাগবে তার ১০ থেকে ২০ ভাগের মাত্র এক ভাগ! শুরুর কথা আজ থেকে প্রায় তের বছর আগে থ্রিজি প্রযুক্তি প্রথম জাপানে চালু করা হয়। আমরা তখনও নোকিয়ার টর্চ জ্বালানো যায় সেটটাই ব্যবহার করতাম, থ্রিজি প্রযুক্তি তো আরও দূরের স্বপ্ন। এরপর ২০০৮ সালের ১৪ আগস্ট এরিকসনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ট্রায়াল ভিত্তিতে থ্রিজি চালু করা হয়। বাংলাদেশে থ্রিজি প্রযুক্তির সূচনা করার লক্ষ্যে নেওয়া এই প্রথম পদক্ষেপটির নাম দেওয়া হয় ‘আলোকিত বাংলাদেশ’। সরকারের কাছ থেকে অনুমতিও পেয়ে যায় বিটিআরসি। তবু নির্দেশিকা প্রণয়ন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনার জন্য পরামর্শদাতা নিয়োগ করাসহ যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে বিটিআরসির তিন বছরেরও অধিক সময় লেগে যায়। সব বাধা অতিক্রম করে, অবশেষে সেই দিনটি এল। ১২ অক্টোবর, ২০১২ সাল। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভিডিও কল করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে থ্রিজি অপারেশনের বাণিজ্যিক প্রবর্তন ঘটল। যা পাবেন থ্রিজি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি নতুন সেবা। তবে জেনে খানিকটা স্বস্তিই পাবেন যে বিজ্ঞাপনগুলোতে অপারেটররা থ্রিজি নিয়ে যেসব আশার বাণী শোনাচ্ছেন তার অধিকাংশই সত্য। অর্থাত্, আপনি নিশ্চিতভাবেই উচ্চগতিসম্পন্ন মোবাইল ব্রডব্যান্ড এবং ভিডিও কল করার সুবিধাটি পাবেন থ্রিজি ব্যবহারে। যা ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিসের একটি বৈচিত্র্যময় সুযোগও তৈরি করবে। ইন্টারনেট টিভি ও ইন্টারনেট রেডিও ব্যবহারের সুযোগটিও থাকছে এতে! এ ছাড়া, ভিডিও কলার রিং ব্যাক টিউন, ভিডিও ম্যাসেজের মতো অন্যান্য সেবাও পাওয়া যাবে খুব সহজেই। এরপর আসা যাক থ্রিজির গতি প্রসঙ্গে। এটি সম্পূর্ণই আপনার অপারেটরের ডাটা প্যাকেজ বাজার পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের (থ্রিজির একক সরবরাহকারী অপারেটর) ডাটা প্যাকেটে রয়েছে ২৫৬ কেবিপিএস, ৫১২ কেবিপিএস এবং ৪ কেবিপিএস পর্যন্ত বিভিন্ন গতি সম্পন্ন স্ল্যাব। তবে এই গতি পরিবর্তন হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আর তা নির্ভর করছে আপনি কোন ডিভাইস ব্যবহার করছেন, কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন এবং আপনার লোকালয়ের আবহাওয়ার উপর। এ ছাড়া এরই মধ্যে গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক এই সেবা নিয়ে আসছে। এখন ভিডিও কলিং প্রসঙ্গে আসা যাক। ভিডিও কলিং বৈশিষ্ট্যের সাথে আপনার হ্যান্ডসেট আপনার সামনে ক্যামেরায় ফোনের মাধ্যমে লাইভ ফুটেজ প্রেরণ করতে সক্ষম। তবে নেটওয়ার্কের অবস্থার উপর নির্ভর করে প্রবাহকরণ মান নিখুঁত থেকে ঝাপসা হতে পারে। থ্রিজি সত্যিই আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে। সব সমস্যাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই থ্রিজির হাত ধরেই এগিয়ে যাবে তারুণ্য। মডেল এ্যানি