ঘরেও থাকুক
ঈদের ছোঁয়া
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:২৯
ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। আর কয়েক দিন পরেই আসছে মুসলমানদের ধর্মীয় উত্সব ঈদুল আজহা। এখন সবাই ব্যস্ত কোরবানির পশু কেনা নিয়ে। আর ঘর সামলানোর দায়িত্ব যার তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘরের ভেতরে শেষ মুহূর্তের আয়োজনে। এবার ঈদে আপনার ঘরটি কিভাবে সুন্দর করে সাজাবেন তার পরামর্শ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।
লিখেছেন খালেদ আহমেদ
ঈদ বা উত্সব এলে যেমন নিজের ঘরটাকে খানিকটা সাজিয়ে নিতে হয় তেমনি এই উত্সবে ঘর সাজানোর পাশাপাশি প্রস্তুত রাখতে হয় ঘরের চারপাশ। এই চারপাশের আওতায় থাকে ড্রয়িংরুম, ডাইনিং টেবিল, বেডরুমের বিছানা-বালিশ এবং বিশেষ নজর কাড়ে ফ্রিজ। কেননা এই ঈদেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় ফ্রিজের। ঘরের চারপাশ গোছাতে গোছাতে তাই এই প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক গেজেটটির বর্তমান সুস্থতা সম্পর্কে ধারণা থাকা উচিত। তবে সবার আগে প্রয়োজন ঘরকে গোছগাছ করে নেওয়া। সম্ভব হলে ড্রয়িংরুমে নতুন কুশন কাভার কিংবা হতে পারে অল্প ব্যবহূত কাভারটি দিয়ে ড্রয়িংরুম সাজিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি পর্দা পরিষ্কার করা, শোপিস, ফুলের টব, ফুলদানি, কার্পেট ইত্যাদি নানা স্থানে পরিষ্কার আর যত্নআত্তির নজরদারি ছড়িয়ে দিতে হয়। সব চেয়ে বড় কথা ঈদ মানেই ঘরে অতিথির আগমন। আর সেই আগমনকে সুখকর করে তুলতে আপনার প্রয়োজন নিজের রুচি আর পরিবেশকে সুচারুভাবে উপস্থাপন করা। এক্ষেত্রে প্রথম পরিচয়টাই দিতে হয় অতিথিকে তার আপন ঘর ড্রয়িংরুম থেকে। ড্রয়িংরুমের সীমানা পেরুলে যেহেতু আপ্যায়ন প্রাধান্য পায় তাই ডাইনিং টেবিল, ডাইনিং ওয়াগন, শোকেস এবং অন্যান্য শোপিসের জায়গাগুলোতেও পরিষ্কারের প্রয়োজন হয়। তবে মনে রাখতে হবে এই সময় কিন্তু অল্প কিছু কাঁচের জিনিস ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে। অর্থাত্ হাত থেকে পড়ে ভেঙে যেতে পারে। তাই আপনাকে বাড়তি সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। শুধু নিজের জন্য নয়, বরং নিজের রুচির চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশে প্রয়োজন ঘরের চারপাশ গোছগাছ করে নেওয়া। পাশাপাশি সবগুলো রুমের পর্দা, কুশন কাভার, সোফার কাভার, বেডশিট এবং অন্যান্য ঢাকনায় ব্যবহূত কাপড় পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর বাড়তি কিছু থাকলে উজ্জ্বল ও বর্ণিল কিছুই ঈদের দিনগুলোতে আপনার বাসায় রং ছড়াবে।
পরিচ্ছন্ন বাথরুম বাসার প্রেস্টিজ
আপনার বাসার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন মেঝে দেখে মুগ্ধ কোনো কোনো অতিথি যদি বাথরুমে ঢুকে দেখেন সেটি অপরিচ্ছন্ন আর নোংরা অবস্থায় রয়েছে, তাহলে কিন্তু আপনার প্রেস্টিজ ক্ষুণ্ন হবেই, আপনার উজ্জ্বল ইমেজ নিমেষেই ম্লান হয়ে যাবে। আসলে একটি বাড়ির লোকজন কতটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সে সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায় সে বাড়ির বাথরুম থেকেই । তাই এটি নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সবার জন্যই জরুরি। স্বাস্থ্যগত কারণেও বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি সবার বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।
ভেতর বাড়ির খবর
অতিথির সামনে নিজেকে উপস্থাপন যেমন জরুরি তেমনি এই উত্সবে সবার আগে প্রয়োজন মাংস সংরক্ষণের উপায় আর উপকরণ ঠিক রাখা। আমাদের এই আয়োজনে রন্ধন বিশেষজ্ঞ রেজওয়ানা রেজা পাঠকদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন কিভাবে মাংস সংরক্ষণ করা যায়। অর্থাত্ ফ্রিজ না থাকলেও মাংস যেন একটু দীর্ঘ সময় ধরে খাওয়া যায়। সেই বিষয়ে বিস্তারিত টিপস্। তবে যাদের ফ্রিজ আছে তাদের জন্য তো আর বিষয়টি এত কঠিন নয়। তাদের প্রথম প্রয়োজন সেই যন্ত্রটির পূর্ণাঙ্গ যত্ন। অনেকে হয়তো এই ঈদে বাজেট করে কিনে ফেলেছেন ডিপ ফ্রিজ। কেননা মাংস সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ডিপ ফ্রিজ খুবই কার্যকর। যদিও এক্ষেত্রে সামর্থ্য অনেক বড় বিষয়। তবে আপনার যাই আছে তাই যেন যথেষ্ট হয় সেই বিবেচনায় ঈদের আগে আপনার ব্যবহূত ফ্রিজটি পরিষ্কার করে নিন। বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ করে তরল সাবান দিয়ে বেশি করে ফেনা তুলে তাতে কাপড় ভিজিয়ে ভালো মতো পরিষ্কার করে নিন। পরিষ্কার করার পর দরজা অনেকক্ষণ খুলে রাখুন যেন ভ্যাপসা গন্ধ দূর হয়ে যায়। তবে খেয়াল রাখবেন এতে যেন ফ্রিজের দরজার কোনো ক্ষতি না হয়।
যেভাবে মাংস সংরক্ষণ করবেন
যদি আপনার পরিকল্পনায় থাকে যে এবারের ঈদে একটু বেশি মাংস সংরক্ষণ করতে হবে তবে আপনার ফ্রিজের অন্যান্য সাধারণ জিনিসগুলো আগে থেকেই কমিয়ে ফেলুন। সংরক্ষিত মাছ কিংবা মুরগি ঈদের আগেই খাবারের তালিকায় রাখুন। পরবর্তীতে মাংস তৈরি হলে বিভিন্ন ছোট ছোট প্যাকেটে মাংসগুলো মুরিয়ে ফ্রিজে রাখুন। ইচ্ছে করলে বড় আকারের মাংস না কেটে পলিথিনে মুড়িয়ে রাখতে পারেন। তবে পলিথিনটিতে যেন ফুটো না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কেননা ফুটো থাকলে পুরো ফ্রিজ জুড়েই মাংস থেকে রক্ত কিংবা তরল পদার্থ ছড়িয়ে আপনার ফ্রিজের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি অন্য মাংসগুলোও নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। অনেকে মাংস সংরক্ষণের জন্য কিমা করেও রাখার চেষ্টা করেন। এতে অনেক জায়গা বাঁচে। আর আত্মীয়স্বজন থেকে পাওয়া মাংসগুলোকে আলাদা প্যাকেটে রাখার চেষ্টা করুন। এতে আপনার কোরবানি করা গরুর মাংসটি সঠিক স্বাদ পেতে কোনো অসুবিধা হবে না।
বাড়তি প্রস্তুতি
ফ্রিজের পাশাপাশি এই উত্সবে আপনার রান্নাঘর পুরোপুরি প্রস্তুত আছে কিনা তার খবর নিন। মনে রাখবেন রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা একজন সুগৃহিণীর কর্তব্য। মাংস কাটার সময় এ থেকে নিসৃত চর্বি, রক্ত ইত্যাদি আপনার রান্নাঘরের মেঝে দুর্গন্ধময় করে তুলতে পারে। তাই কাজ শেষে মাংস কাটা ও রাখার স্থান ভালো করে পরিষ্কার করে ফেলুন। প্রয়োজনে এয়ার ফ্রেশনার ব্যবহার করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে ঈদের আগেই যেন আপনার রান্নাঘরে একবার পরিষ্কারের ওলোট পালট হয়। অর্থাত্ রান্নাঘরের তাক, ড্রয়ার থেকে শুরু করে বিভিন্ন চামচ, ছুরি, কড়াই ইত্যাদিতে যেন সাফাই অভিযান হয়। চেষ্টা করুন ঈদের মাংস রান্না করার জন্য মসলার তালিকা তৈরি করে নিন। আপনার মজুদের সঙ্গে তালিকার অমিল হলে এখনই বাড়তি জিনিসটি সংগ্রহ করুন। বড় হাঁড়ি-পাতিল হাতের কাছে রাখুন যেন তা সঠিক সময়ে কাজে আসে। এমনকি গ্যাসের চুলা, গ্যাসের লাইন, দা ও বটিতে ধার, শিলপাটা ফুটানো ইত্যাদি কাজ এখনই সেরে নিন। এ শুধু আপনার ঝক্কিই কমাবে না বরং আপনার উত্সবকে করবে আরও আনন্দময়।