কোরবানির বাজার
পশ্চিমের জেলাগুলোতে ৮শ’ কোটি টাকা মূল্যে দু’ লাখ গরু মোটাতাজাকরণ
বিমল সাহা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৬
পশ্চিমাঞ্চলের ৭ জেলায় কোরবানির বাজার ধরতে প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা মূল্যের দু’ লাখ গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। কিন্তু দরপতনে চাষি ও ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। কোরবানির ঈদ সমাগত। কিন্তু কোরবানির পশুর হাটগুলো জমে উঠেনি।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কুষ্টিয়া জেলা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান জানান, এবার এ জেলায় ৫৫ হাজার গরু কোরবানির হাটগুলোতে বিক্রির জন্য মোটাতাজা করা হয়েছে। প্রতি গরুর গড় দাম ৪০ হাজার টাকা হিসাবে যার মূল্য দাঁড়ায় দুশো ২০ কোটি টাকা। কোরবানির পশুর বাজারে কুষ্টিয়ার গরুর ভাল চাহিদা আছে বলে তিনি জানান।
গত বছর প্রথমদিকে ভাল দাম পেলেও শেষ মুহূর্তে বহু গরু অবিক্রীত থেকে যায়। অনেক গৃহস্থ ও ব্যাপারিরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে অবিক্রীত গরু ফেরত আনে। পরে এ সব গরু কম দামে হাটে হাটে বিক্রি করতে হয়। এতে তাদের মোটা অঙ্কের লোকসান হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ কোহিনুর ইসলাম বলেন, এ জেলায় এবার কোরবানির হাটগুলোতে বিক্রির জন্য চাষি ও ব্যবসায়ীরা ৩০ হাজার গরু মোটাতাজা করেছেন। গত বছরের মতো এবারও দাম পড়ে যাওয়ায় চাষির মাথায় হাত। এত গরুর ক্রেতা মিলছে না। জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় চোখ জুরানো বড় বড় গরু বিক্রি হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
মাগুরা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শ্যামল কুমার পাল জানান, এবার এ জেলায় ২০ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। কিন্তু চাষি ও খামারিরা দাম পাচ্ছে না। ঝিনাইদহ জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কানাই লাল স্বর্ণকার বলেন, গত বছর মার খাওয়ার কারণে এবার এ জেলায় চাষিরা গরু মোটাতাজা কম করেছে। তবুও এ সংখ্যা ৩০ হাজার হবে। এখনও দাম কম। কোরবানির আগে দাম চড়তে পারে বলে তিনি জানান। শৈলকুপা উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসার সরদার খায়রুল বাশার জানান, গত বছর এ উপজেলায় ৮ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছিল। এবার ৬ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে।
খুলনা বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মৃনাল কান্তি মিত্র বলেন, কোরবানির বাজারে বিক্রির জন্য এবার যশোর ও নড়াইল জেলাতে অন্তত ৫০ হাজার গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। এ সব গরু বাজারে ছাড়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বাগেরহাট ও খুলনা জেলাতেও গরু মোটাতাজাকরণের ব্যবসা শুরু হয়েছে। কোরবানির পশুর বাজারে এখন দেশি গরুর ভাল চাহিদা বলে তিনি বলেন।
চাষি ও খামারিদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গো-খাদ্যের দাম চড়ে যাওয়ায় এ ব্যবসায় লাভ হচ্ছে না। চাষিরা জানান, চোরাচালান হয়ে আসা ভারতীয় গরুর আমদানি বেড়ে গেলে দেশি গরুর দাম পড়ে যায়। তাই তারা ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধের দাবি করেন।