প্রথম প্রান্তিকে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ২৫ শতাংশ

চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংক-গুলো দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৮২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বিতরণ করা ঋণের আদায়ও এসময়ে ১৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে তিন হাজার ১০৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ আদায় হয়েছে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল দুই হাজার ৬৯০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ১৪ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দুই হাজার ৮৬১ কোটি ৫৮ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার ১৯ দশমিক ৬১ শতাংশ অর্জিত হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ। এদিকে কৃষি ঋণ আদায় হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তি বিভাগের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলো এক হাজার ৬৯৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে এসব ব্যাংক এক হাজার ৭৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ করেছিল, যা ওই অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ১৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি ও বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলো অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এক হাজার ১৬২ কোটি ১৫ লাখ টাকার কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে, যা অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ২০ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিল এক হাজার ১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা ওই অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধুমাত্র সেপ্টেম্বর মাসে ব্যাংকগুলো ১ হাজার ৩১২ কোটি টাকা কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করেছে। যা এর আগের দু’মাসে বিতরণ হয়েছিল এক হাজার ৫৪৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে কৃষিঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে দেশে বিপুল পরিমাণ আমন ও বোরো চাষ হয়ে থাকে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণের মনিটরিং জোরদার করায় সফলতা এসেছে।