অন্য প্রজন্ম
খে লা ধু লা ই যা র ধ্যা ন
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৫২
ইট-পাথরের এই রূঢ় বাস্তবতা আর ব্যস্ত শহরের তরুণ-কিশোররা জানে না, দুরন্তপনা, কী বা কাকে বলে। কারণ, বিদ্যায় বুদ্ধিতে, সর্বোপরি ক্যারিয়ার দৌড়ে তাকে যেকোনো মূল্যে প্রথম যে হতেই হবে এ রকম একজন স্বাধীনচেতা মেধাবী তরুণ মুশফিকুর রহমান মোহন। পুরো নামে তাকে অনেকেই চিনবেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম বিপিএল ক্রিকেট আসরের ‘দুরন্ত রাজশাহী’ টিমের স্বত্বাধিকারী এবং চেয়ারম্যান। ব্যক্তিগতভাবে তিনি একজন খেলোয়াড়। সেই কিশোর বয়স থেকেই একজন ক্রীড়াপাগল সদা হাস্যোজ্জ্বল চমত্কার ব্যক্তিত্বের মানুষ তিনি। মজ্জায় যার; ক্রিকেট, স্কোয়াশ, দাবা এবং ব্রিজের মতো অভিজাত খেলাগুলো। তিনি শহীদ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের স্পোর্টস সেক্রেটারি। পেশায় একজন ব্যবসায়ীও তিনি। কিশোর বয়সের মতো ব্যবসায়ী জীবন বা কর্মক্ষেত্রেও তিনি অসম্ভব দুরন্ত। দিনমান ব্যস্ততা, তবু সব কিছু ম্যানেজ করে অধিকাংশ সময় কাটে ব্যাট-বল, স্কোয়াশ, অথবা ব্রিজ নিয়েই। এরই মাঝে সময় দেন প্রেসকেও। তার কাছে চেয়েছিলাম, এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের কিভাবে আগামীর জন্য তৈরি করা যায়। তিনি বললেন, ‘আমরা এই প্রজন্মের বাবা-মায়েরা সন্তানের ভবিষ্যত্ প্রশ্নে বাড়াবাড়ি রকমের সচেতন বলতে পারেন। সন্তান দুনিয়াতে আসার আগেই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। বয়স ২ গড়িয়ে ৩ হতে না হতেই স্কুলে পাঠানোর প্রস্তুতি চলে। আর স্কুল মানেই নির্দিষ্ট গণ্ডি। অথচ আমাদের শৈশবের কথা ভাবুন, যদিও পরিবেশগত কারণে বিশেষ করে ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরীতে আমাদের সময়ের মতো মাঠে ঘাটে তথা খোলা প্রান্তরে বর্তমান ছেলে-মেয়েদের বেড়ে ওঠা সম্ভব না হলেও, তাদের কাছ থেকে অন্তত খেলা ঘর বা খেলার বয়সটিও যেন আমরা ছিনিয়ে না নিই। তার শৈশবটা অন্তত পরিবারের সাথে কাটাতে দিই। না, তাদের আর্তনাদ আমাদের কর্ণকুহরে পৌঁছে না, চার দেয়ালের শ্রেণীকক্ষেই কেটে যায় তাদের শৈশব-কৈশোর। এই প্রজন্মের পঞ্চম শ্রেণী পড়ুয়া একটি কিশোর-কিশোরীর রোজ নামচা বা রুটিন হচ্ছে, প্রায় আধা বেলা চলে যায় স্কুল থেকে বাসায় ফিরতে। এরপর নাকে মুখে খাওয়া গোসল শেষে পরিমরি করে ছুটছে কোচিং বা ব্যাচ টিউটরের কাছে। ফিরতে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। এরপর কোনোমতে নাস্তা সারতে না সারতে প্রাইভেট টিউটরের কাছে বা পড়ার টেবিলে কেটে যায় বিছানায় যাওয়ার আগ অবধি। কিছু হেরফের ব্যতীত এই বয়সী বাচ্চাদের এটাই শিডিউল বলতে পারেন। অনেক পরিবারে আছে প্রায় ৩০ দিন এভাবেই চলে। এই অবস্থা বোধ করি আপনার আমার সকলেরই। এভাবে একাডেমিক শিক্ষার রুদ্ধশ্বাস প্রতিযোগিতার কারণে ওরা হয়ে ওঠে একরকম রোবটিক। সন্তানদেরকে ওদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে দিন, প্রেসারমুক্ত রাখুন, দেখবেন ওর যা হওয়ার ও হয়ে গেছে। তবে হ্যাঁ, সন্তানদের একদম ছেড়েও দেওয়া যাবে না, খোঁজখবর রাখতে হবে; তার বন্ধু কারা, ক্লাসের সময় ক্লাসে যাচ্ছে কি না, কোথাও আড্ডা দেয় কি না। এসব ব্যাপারে তাদের সঙ্গে ধরেই চিত্কার চেঁচামেচি বা খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। তবে চেষ্টা করুন আড্ডাটা বন্ধুদের ডেকে বাসায় দিক এবং আপনারাও তার সাথে বন্ধুর মতো মিশে গিয়ে ছুটিছাটায় সবাই মিলে বাইরে কোথাও বেরিয়ে পরুন। সম্ভব হলে এই আড্ডায় ওর ক্লোজ ফ্রেন্ডদের কয়েকজনকে প্যারেন্টসসহ ডাকুন এবং আপনারা আপনাদের মতো ওরা ওদের মতো আড্ডা দিক। আর একটি কথা, ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিন। বিশেষকরে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ কিংবা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য খেলাধুলা অপরিহার্য।