ছুটির দিনটি যেমন কাটবে
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:২৮
ফিচার
শুক্রবার দিনটা এলেই আমাদের মনে এমনিতেই একটা খুশি খুশি ভাব চলে আসে। কারণ পড়াশোনা বা কাজের চিন্তা নেই। সারাদিন নিজের মতো করে কাটানো যাবে। কিন্তু শুয়ে-বসে পুরো শুক্রবার (এবং কারও কারও ক্ষেত্রে শনিবারও) কাটিয়ে দেওয়া ঠিক হবে কি না, সেটা কি কেউ ভেবে দেখেছেন? ছুটির দিনটায় যদি আমাদের মন এবং শরীরকে একেবারেই অকেজো করে ফেলে রাখি তাহলে সপ্তাহের শুরুতে কাজে ফিরে যাওয়াটা যে আরও কঠিন হয়ে পড়ে! তাই শুক্রবারেও নিজের কর্মক্ষমতাটাকে বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে সপ্তাহের শুরুতেই কাজের চাপ কমে যাবে, এবং একই সাথে ছুটির দিনটিকে আরও বেশি উপভোগ্য করে তোলা যাবে।
ছুটির দিনে কর্মক্ষম থাকবেন তার মানে এই নয় যে, সারা সপ্তাহ অফিসে গিয়ে বসে থাকতে হবে! ছুটির দিনেও আপনি কিছু কাজ সেরে রাখতে পারেন, তবে তা করবেন একটি ফুরফুরে মন নিয়েই। আর রিল্যাক্স করার ব্যাপারটাতেও থাকতে হবে একটু পরিকল্পনা। আসুন দেখে নেওয়া যাক এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা।
পরিকল্পনা করে কাজ করুন
সারা সপ্তাহ কাজের পর আমরা ভাবি ছুটির দিনে কোনো কাজই করব না। কিন্তু একেবারে কোনো কাজ না করে কি থাকা সম্ভব? দেখা যায় এমন সব কাজ করতে করতে ছুটি শেষ হয়ে গেছে যার কোনো মূল্যই নেই। তাই শুক্রবারে কী করবেন আর কী করবেন না তার একটা তালিকা করে রাখুন। এর মধ্যে রাখুন টুকিটাকি কিছু বাড়তি কাজ যা করার কথা সপ্তাহের শুরুতে। তাহলে শনিবার বা রবিবার অফিসে ঢুকেই একগাদা কাজের চাপে চিঁড়েচ্যাপ্টা হতে হবে না।
কিছু সময় রাখুন নিজের জন্য
পরিকল্পনা করতে হবে তাই বলে একেবারে চব্বিশ ঘণ্টার নিশ্ছিদ্র প্ল্যান করবেন না। তাহলে সপ্তাহের বাকি সব দিনের সাথে ছুটির দিনের কোনো পার্থক্য থাকবে না। কাজের মাঝেও ছুটির দিনটাকে উপভোগ করা যায় এমন কিছু করার সময় রাখুন।
নিজের শরীরকে রাখুন কর্মক্ষম
ব্যায়াম করতে ভুলে যাবেন না। সারা সপ্তাহ যদি সময় না পান তবে সপ্তাহের ছুটির দিনে আপনার ধুলো পড়া সাইকেলটা নিয়ে বের হন, অথবা সাঁতার কাটতে যান। ঘরে বসেই হালকা কিছু ব্যায়াম সেরে নিতে পারেন। সারাদিন শুয়ে বসে কাটাবেন না। আরেকটা দরকারি ব্যাপার মাথায় রাখবেন আর তা হলো, এমন কিছু খাবেন না যাতে আপনার শরীরের ক্ষতি হয়। ছুটির দিন বলেই তিনবেলা ভারী খাবার বা বাইরে থেকে কেনা ফাস্টফুড খাবার প্রবণতা বর্জন করুন।
অন্যরকম কিছু করুন
সারা সপ্তাহ যা করার সময় পান না তা করতে পারেন ছুটির দিনে। এক-দুই ঘণ্টার মাঝে শেষ করা যাবে এমন কিছু করুন। যেমন নতুন একটা রেসিপি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারেন, বাগানে কাজ করতে পারেন, ঘরের কোনো একটি দেয়ালে রং করতে পারেন বা আপনার বাচ্চার সায়েন্স প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করতে পারেন। নতুন কোনো শখ বা অভ্যাস গড়ে তোলার জন্যও এই সময়টা ভালো।
বিশ্রামের সময়টা ঠিক করুন
নিজের মন এবং শরীরকে বিশ্রাম দিতে হয় ছুটির দিনে। কিন্তু তাই বলে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমানো মোটেও ঠিক নয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিন কাজে যাওয়ার জন্য যদি ৬টার সময়ে ঘুম থেকে উঠে থাকেন তবে শুক্রবারেও প্রায় একই সময়ে ঘুম থেকে উঠতে চেষ্টা করুন। আর দুপুরে বা বিকালে ঘুমাতে চাইলে সেটার জন্য সময় ঠিক করে রাখুন যাতে তা করতে গিয়ে অন্য কাজের ব্যাঘাত না ঘটে।
অন্যদের সাথে কাজ করতে হলেও পরিকল্পনা বজায় রাখুন
আপনার বন্ধুদের সাথে লাঞ্চ করতে গিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে? সাথে একটা গল্পের বই রাখুন। বাসা থেকে বের হয়ে অনেক দূরের কোথাও যেতে হচ্ছে? বাসে ছোট্ট একটা ঘুম দিয়ে নিন। এভাবে অন্যদের সাথে কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা এমনভাবে ঠিক করুন যাতে কোনো সময় নষ্ট না হয় এবং বিরক্তি না আসে।
ঘরের কাজকর্মগুলো সেরে রাখুন
সারা সপ্তাহ ঘরের কিছু কাজ জমে যায়। এগুলো সপ্তাহের মাঝে করতে গেলে অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই এই জমে থাক কাজগুলো দ্রুত শেষ করুন এবং অতিরিক্ত কিছু কাজ শেষ করে রাখুন। যেমন সারা সপ্তাহ ব্যবহারের পোশাকগুলো আগেই ইস্ত্রি করে রাখতে পারেন, জুতো এবং অলংকার আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে পারেন। অফিসে যদি লাঞ্চ নিয়ে যাওয়ার দরকার হয় তবে ছুটির দিনে এমন কিছু তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন যা গরম করে নিলেই খাওয়া যাবে। এতে সারা সপ্তাহের ঝামেলা থেকে অনেকটাই রেহাই পাওয়া যায়।
নিজেকে ছুটি দিন
শুক্রবারে অফিসের এবং ঘরের এসব প্ল্যান করা কাজ শেষ হলো তো? এরপর নিজেই নিজেকে ছুটি দিন সকল কাজের চিন্তা থেকে এবং একান্তই নিজের আনন্দের জন্য কিছু করুন। সেটা হতে পারে আপনার প্রিয় গান শোনা, বই পড়া, টিভি দেখা বা শপিং! দেখুন তো, এত কিছু করার পরে মনে হচ্ছে না, আপনার ছুটির দিনটা সার্থক?
মডেল :মা মিতা ও সন্তান তূর্য ও রেহমা