রঙে রাঙানো ঘর

গাঢ় রঙের অনুভূতি এক ধরনের, হালকা রঙের অনুভূতি আরেক ধরনের। গাঢ় রং মনকে প্রতিহত করে আর হালকা রং প্রভাবিত করে, উভয় রং একত্রিত হয়ে টিন্ট এবং শ্যাডের ছত্রছায়ায় মনের উপর সমঝোতার প্রভাব ফেলে। আপনার বাসার ঘরগুলোকে রঙিন করে তোলার পরামর্শ নিয়ে এই আয়োজন। লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র গাঢ় রং মানুষের মনকে বেশি আকষর্ণ করে, কারণ গাঢ় রং নজর কাড়ে বেশি। হালকা রং খুঁজে বের করতে হয়, তা নজরে আসে দেরিতে, তবে এটিও মনে মুগ্ধতার প্রভাব ফেলে। কনট্রাস্ট রং অথবা বিপরীত রং যেমন লাল-হলুদ, এই রং হালকা এবং গাঢ় দুই ধরনের হতে পারে। গাঢ় রঙের সমন্বয় হলে মানুষের মনের উপর তা প্রভাব ফেলবে। কারণ গাঢ় সব সময় নজর কাড়ে। হালকা রঙের সমন্বয় সাধন করলে তা মনকে প্রফুল্ল করবে। গাঢ় রঙের অনুভূতি এক ধরনের, হালকা রঙের অনুভূতি আরেক ধরনের। গাঢ় রং মনকে প্রতিহত করে আর হালকা রং প্রভাবিত করে, উভয় রং একত্রিত হয়ে টিন্ট এবং শ্যাডের ছত্রছায়ায় মনের উপর সমঝোতার প্রভাব ফেলে। এক্ষেত্রে ঘন রং মানুষের মনকে কখনও কখনও আচ্ছন্ন বা বিষণ্ন করে তোলে। এই রঙের ব্যবহার ঘরের ক্ষেত্রে আকার, ব্যবহার ও ব্যবহারকারীর বয়সের উপর নির্ভর করে। যেমন—শিশুদের ক্ষেত্রে দেয়ালের রং গাঢ় হতে পারে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন রঙের আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজাতে হয়। কোন ঘরে কেমন রং  বসার ঘরে রং করার সময় ফার্নিচার ও আলোর বিষয়টি লক্ষ রাখতে হবে। বেতের ফার্নিচার বা হালকা ডিজাইনের উজ্জ্বল বার্নিশের ফার্নিচার হলে ঘরে একটু গাঢ় রং ব্যবহার করা যায়। আবার ঘর ছোট হলে এবং ভারী কাজ করা লিকার পলিশের ফার্নিচার থাকলে ঘরে গাঢ় রং একেবারেই বেমানান। সে ক্ষেত্রে হালকা ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা ভালো।  ঘর বড় হলে এবং যথেষ্ট আলো থাকলে রুচি অনুযায়ী হালকা বা গাঢ় যেকোনো রঙই ব্যবহার করা যায়। ঘর ছোট হলে এবং আলো কম থাকলে এমন রং ব্যবহার করা উচিত, যাতে আলোর প্রতিফলনের মাধ্যমে ঘরকে অনেকটা উজ্জ্বল দেখায়।  বসার ঘরটা সবাই দৃষ্টিনন্দন করে সাজাতে চায়। সে ক্ষেত্রে ঘরের একটা দেয়ালকে একটু অন্যভাবে সাজানো যায়। ঘরের তিনটি দেয়ালে যেকোনো উজ্জ্বল রং দিয়ে বাকি দেয়ালে অপেক্ষাকৃত গাঢ় রং ব্যবহার করা যেতে পারে। এই দেয়ালে কোনো ফার্নিচার না রাখাই ভালো। বরং দেয়ালটা সাজাতে পারেন পেইন্টিং, নকশিকাঁথা, টেরাকোটা কিংবা ওয়াল হ্যাংগিং দিয়ে।  ডেকোরেটিভ দেয়ালটির জন্য সোফার সামনের দেয়ালটি বেছে নেওয়া ভালো। আবার বসার ঘরের সোফাও একটু পরিকল্পিতভাবে সেট করা উচিত। সাধারণত বসার ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়ার এক বা একাধিক দরজা থাকে। সোফাগুলো এমনভাবে সেট করা উচিত, যেন ভেতরের দরজাগুলো সোফার পেছনে থাকে।  খাবার ঘরে সব সময় উজ্জ্বল রং ভালো মানায়। এই ঘরে পর্দা, টেবিলম্যাট, রানার এবং ফার্নিচারের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উজ্জ্বল যেকোনো রং বেছে নিন। খাবার ঘরের পাশেই রান্নাঘর থাকলে রান্নাঘরের পাশের দেয়ালে গাঢ় রং ব্যবহার করা যায়।  বসার ঘর বা খাবার ঘরে অনেকেই এখন ইলিউশন ব্যবহার করছেন। তবে ইলিউশন ব্যবহারে কিছুটা সতর্ক হওয়া উচিত। কেননা সব ঘরে সব ধরনের ইলিউশন মানায় না। দেয়ালে ভুল ইলিউশনের ব্যবহার মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।  শোবার ঘরে ব্যক্তির রুচি অনুযায়ী ব্যবহার করা যায় যেকোনো রং। যেহেতু এ ঘরটি বিশ্রামের জন্য, তাই এ ঘরে খুব বেশি আলোর দরকার হয় না। শোবার ঘর ছোট কিংবা বড় যা-ই হোক একটু গাঢ় শ্যাডের রং বেছে নিন। গাঢ় রং আলো শুষে নেয়। ফলে বাড়তি আলো বিশ্রামের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে না।  বাচ্চাদের ঘর হওয়া উচিত বেশ রঙিন। এ ঘরে প্রাইমারি কালার লাল, নীল, হলুদ বা এসব রঙের যেকোনো শ্যাড বেছে নিন। আবার শিশুর পছন্দের রংটি জেনে তা দিয়েও রাঙিয়ে নিতে পারেন শিশুর ঘর। থাকুক একটা পেইন্টিং একটি পেইন্টিংয়ের আবেদন অনেক বেশি। একজন মানুষের রুচি কেমন বা তিনি কোন পেশার, তা সেই ব্যক্তির ঘরের পেইন্টিং দেখে বোঝা যায়। তাই যেকোনো ঘরে পেইন্টিং ব্যবহারের আগে কোন ঘরে লাগানো হচ্ছে, বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। অনেকে মনে করেন, ঘরে একটি পেইন্টিং লাগালেই হয়। আবার এর বিপরীত চিন্তার মানুষও রয়েছে। পেইন্টিংপ্রেমীরা পেইন্টিংকে এত বেশি গুরুত্ব দেন যে কখনও কখনও ঘরের দেয়ালের রঙটি পর্যন্ত বদলে ফেলেন। এখন পেইন্টিংয়ের ক্ষেত্রে উজ্জ্বল রঙের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে। পেইন্টিংকে নিছক ঘর সাজানোর উপকরণ না ভেবে বরং প্রতিদিনের কাজ করার শক্তি ও অনুপ্রেরণার উত্স হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। আর্কিটেক্ট কী বলেন আর্কিটেক্ট তানজিল ইদমাম শফিক বলেন, ‘কম আলো ঢুকে এমন ঘরের দেয়ালে হালকা রং ব্যবহার করতে হবে। খালি চোখে যে শ্যাড হালকা মনে হচ্ছে তার থেকে আরেকটু হালকা শ্যাড বাছতে হবে। দেয়ালে রং লাগানোর পর শুকিয়ে গেলে গাঢ় দেখায়। সে কথা মনে রেখে রং নির্বাচন করুন। সূর্যের আলো এবং বৈদ্যুতিক আলো দুটোই ঘরের দেয়ালের রঙের পরিবর্তন আনতে পারে। এবং রং যতই শুকায় ততই গাঢ় হয়। তাই রং নির্বাচনের সময় এই কথাগুলো মনে রাখা বাঞ্ছনীয়।’