আমানতের তুলনায় ঋণ বিতরণ কমেছে

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর শেষে আমানতের তুলনায় ঋণ প্রবৃদ্ধি আরো কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে ব্যাংকগুলোর ঋণ-আমানত অনুপাত। সেপ্টেম্বর শেষে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে আমানত বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। অথচ ঋণ বেড়েছে সাড়ে সাত শতাংশ। এর আগের বছরের জুলাই শেষে আমানতে প্রায় ২০ শতাংশ এবং ঋণে ১৯ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সেপ্টেম্বর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণ-আমানত দাঁড়িয়েছে ৭১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। যা চলতি বছরের জুলাই শেষেও ছিল ৭৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ। আর আগের বছরের জুন শেষে এডিআর ছিলো ৭৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, বেসরকারি খাতে অধিক পরিমানে বৈদেশিক ঋণ অনুমোদন, অবকাঠামোগত সমস্যা, গ্যাস বিদ্যুত্ পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকায় বিনিয়োগকারীরা ব্যাংক বিমুখ ছিল। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে ঘটে যাওয়া কিছু আর্থিক জালিয়াতির কারণে ব্যাংকগুলোও ঋণ বিতরণে সতর্ক রয়েছে। ফলে কমেছে ঋণ প্রবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতের মোট ঋণ রয়েছে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৬২২ কোটি ১৩ লাখ টাকা, গত জুলাই শেষেও আমানত ছিলো ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। এসময়ে আমানত দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকায়, জুলাই শেষেও যা ছিল ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। আগের সময়গুলোতে ঋণ ও আমানতের মধ্যে খুব একটা ব্যবধান না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি ও একটি বেসরকারী ব্যাংকের পরিচালক আব্দুস সালাম মুর্শেদী এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্যাস বিদ্যুতের সমস্যার পাশাপাশি এবছরটা নির্বাচনী বছর হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে। ফলে সামনের দিনগুলোও আরো অস্থিতিশীল হবে এমন আশংকায় রয়েছেন উদ্যোক্তারা। অন্যদিকে ব্যাংকের সুদের হার চড়া যার কারণে ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না।