ভিনদেশি আমেরিকান আইডল জয়ী
ক্যান্ডিস গ্লোভার
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৬
জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘আমেরিকান আইডল’। বিভিন্ন পর্বের বাছাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয় সেরা জনকে। সম্প্রতি সেখান থেকে বাছাইয়ের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছেন ক্যান্ডিস গ্লোভার। পুরো আমেরিকাজুড়ে তিনি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কৃষ্ণাঙ্গ এ কণ্ঠশিল্পী গানের প্রতিভায় মুগ্ধ করেছেন সবাইকে। তার কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
শুধু তার গানের প্রতিভা নয়, আলোচনার মূলে আসার আরও একটি কারণ হলো তার বয়স। মাত্র ২৩ বছর বয়সী এই গানের প্রতিভা, ক্যান্ডিস গ্লোভার। লস অ্যাঞ্জেলেসে ‘আমেরিকান আইডল’-এর নতুন আসরের প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গানের এই রিয়েলিটি শোর এটি ১২তম আসর। এই প্রতিযোগিতার বিচারকের তালিকায় মারিয়া ক্যারি ও কিথ আর্বানের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সংগীতকার নিকি মিনাজ। জানা গেছে, এক কোটি ৮০ লাখ ডলারে এক বছরের জন্য ফক্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মিনাজ। এটা হলো রিয়েলিটি শোর বিচারকের সর্বোচ্চ সম্মানী। আসলে এবারের প্রতিযোগিতায় বিচারক নিকি মিনাজের দিকেই সবার দৃষ্টি ছিল; কেননা, তিনি স্পষ্টভাষী ও রক্ষণশীল। আমেরিকান আইডল প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ আসরে শ্রেষ্ঠ আইডল নির্বাচিত হয়েছেন সাইমন কোয়েল। আর এই পর্বের বা সিজনের আগের বারের বিজয়ী হন লউরেন আলাইনা।
গত ১৬ মে ঘোষিত হয় ১২তম আমেরিকান আইডলের নাম। সাউথ ক্যারোলিনার একটি গ্রামীণ অঞ্চল থেকে উঠে আসা সংগীতশিল্পী ক্যান্ডিস গ্লোভার জিতে নিলেন এক যুগ ধরে চলে আসা এই সম্মানজনক সংগীতশিল্পীর খেতাব! ২৩ বছর বয়সী গ্লোভার তিন বছর অডিশন দিয়ে অবশেষে গত বছর নির্বাচিত হয়েছিলেন পরবর্তী রাউন্ডের জন্য এবং এরপরে পুরোটাই একটি স্বপ্নে পরিণত হয়। তবে জীবনের সবচেয়ে বড় এ স্বপ্ন পূরণে অসম্ভব পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে গ্লোভারকে। লস অ্যাঞ্জেলসের নকিয়া থিয়েটারে প্রায় ৭ হাজার দর্শকের ভিড়ে যখন উপস্থাপক রায়ান সিক্রেস্ট ঘোষণা দেন, ‘তুমি অফিসিয়ালি আমাদের আমেরিকান আইডল।’ তখন নিজের নাম শুনে আনন্দাশ্রু আর কিছুতেই আটকে রাখতে পারেননি এই নবতম আইডল। ক্লোভার অশ্রুসজল চোখে শুধু বলেন, ‘হে ঈশ্বর! তিন বছর!’ তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রি হ্যারিসনকে হারিয়ে ‘আমেরিকান আইডল’-এর খেতাব জিতে নেন। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম আবারও একজন নারী সংগীতশিল্পী এ খেতাব জয় করলেন।
উল্লেখ্য, ১২ সিজন ধরে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা এই সংগীত প্রতিযোগিতামূলক রিয়েলিটির শো’টি আমেরিকার একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জনকারী প্রায় ৪৪টিরও বেশি দেশে অনুষ্ঠিত এ শো বাংলাদেশেও এসে পৌঁছেছে। এর ভেতর, আগের পর্বের বিচারক জেনিফার লোপেজ নেই এবারের আমেরিকান আইডলের পর্বে। সংগীতবিষয়ক রিয়েলিটি শো আমেরিকান আইডল ছেড়েছেন অনুষ্ঠানটির টানা দুই মৌসুমের বিচারক মার্কিন গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ। শোটির বিচারক হিসেবে ভবিষ্যতে তাকে আর দেখা যাবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে এই শোর সঙ্গে আছি। কিন্তু এখন আমি আমার অন্যান্য কাজে ফিরতে চাই। এ কারণেই গত দুই বছর যেভাবে নিয়মিত এই শোর পেছনে সময় দিয়েছি, তা আর সম্ভব হবে না আমার পক্ষে।’
লোপেজ আরও বলেছেন, ‘সম্ভব হলে সারা জীবন আমেরিকান আইডলের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতাম। কিন্তু সেক্ষেত্রে জীবনের আরও অনেক কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘সত্যি দারুণ সময় কেটেছে এই শোতে কাজ করে। আমেরিকান আইডলের সঙ্গে অদ্ভুত এক আত্মিক বন্ধন অনুভব করি আমি, যা চিরকালই থাকবে।’ সেই সাথে তিনি নব্য আমেরিকান আইডল, ক্যান্ডিস গ্লোভারকে জানান তার উষ্ণ শুভেচ্ছা।