ফোকাস
জার্মানিতে বিনামূল্যে শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:২৭
জার্মানি ইউরোপের ধনী দেশগুলোর অন্যতম। সেনজেন-ভুক্ত এই দেশটি তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্নভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বর্তমানে দেশটি রাজনৈতিকভাবে পূর্ণ স্থিতিশীল এবং শান্তিপূর্ণ। বিশেষ করে দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত আধুনিক ও যুগোপযোগী। এখানে রয়েছে বিশ্বের অনেক নামীদামি বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে সারা পৃথিবীর মেধাবীরা ছুটছে এই দেশটির দিকে, উদ্দেশ্য যুগসেরা শিক্ষা অর্জন করা। জার্মানির প্রায় সব কয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ই গভর্মেন্ট ফান্ডেড। সরাসরি স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তরের জন্য কোনো টিউশন ফি নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এবং স্টুডেন্ট ইউনিয়নের জন্য প্রতি সেমিস্টারে ৪০০ থেকে ৭২০ ইউরো এবং ভাষা শিক্ষার জন্য ২ থেকে ৪ হাজার ইউরোর প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া লিভিং কস্টের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
জার্মানিতে স্নাতকের কিছু কিছু কোর্স ব্যতীত প্রায় সব কোর্স জার্মান ভাষায় পড়ানো হয়। তবে স্নাতকোত্তরে অনেক প্রোগ্রাম ইংরেজিতে পড়ানো হয়। জার্মান ল্যাঙ্গুয়েজে পড়তে গেলে ন্যূনতম বি-২ লেভেল শেষ করতে হয় এবং ইংরেজির মাধ্যমে পড়তে গেলে আইইএলটিএস-এ কমপক্ষে ওভারঅল ব্যান্ড ৬.০ থাকতে হবে। জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নির্দিষ্ট নিয়মগুলো হচ্ছে—সত্যায়িত একাডেমিক ডকুমেন্ট, মোটিভেশন লেটার, জীবন বৃত্তান্ত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাডেমিক রেফারেন্স লেটারের প্রয়োজন হয়। যেসব ছাত্রছাত্রীর এসএসসি এবং এইচএসসি মিলিয়ে জিপিএ-৭ আছে এবং এইচএসসির পরে ২ বছরের বেশি স্ট্যাডি গ্যাপ নেই তারা ভর্তির জন্য বিবেচিত হবে। এ ছাড়া যেসব ছাত্রছাত্রী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তারা স্ট্যাডি কনটিনিউইংয়ের মাধ্যমে ভর্তি হতে পারে। জার্মানিতে পড়াশোনার ক্ষেত্রে বয়সের বাধ্যবাধকতা আছে। যেমন স্নাতকের জন্য ২৫ বছর স্নাতকোত্তরের জন্য ২৯ বছর প্রযোজ্য। আবেদনকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কনফারমেশন (ভাষা শিক্ষা এবং মূল কোর্স) পাওয়ার পর স্থানীয় জার্মান দূতাবাসে ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য বুকিং দিতে হয়। দূতাবাসে অ্যাপ্লিকেশন সাবমিট ও ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ৭৯০৮ ইউরোর একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটম্যান্টসহ ভিসা ইন্টারভিউতে উপস্থিত হতে হয়। জার্মানির ব্যাপারটি এমন নয় যে, সেখানে যাওয়া মানেই স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া। হ্যাঁ, স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া এবং ভালো চাকরি দুটোই অর্জন করা যায়, তবে সেজন্য প্রথমে পড়াশোনা করতে হবে। যারা প্রকৃত ছাত্র তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত পড়াশোনা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য একটি মানসম্মত ডিগ্রি অর্জন করা। তবে এ সবকিছুই সহজতর হয় জার্মান ভাষা জানা থাকলে। সেজন্য যাওয়ার আগেই উচিত বাংলাদেশস্থ জার্মান ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র; গোথে ইনস্টিটিউট বা অন্য এ জাতীয় ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র থেকে জার্মান ভাষা শিখে নিজেকে প্রস্তুত করা।জার্মানিতে পড়াশোনা করতে যেতে ইচ্ছুকরা এ বিষয়ে আরও জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই ঠিকানায় :বাড়ি-০১, রোড-১৪, সেক্টর-০১, উত্তরা, ঢাকা। ফোন ৮৯৬০৪২৫ ও ০১৭৪৫৮২৩৭৮৯ এবং ভিজিট করতে পারেন www.cinnamon-bd.com এদিকে সিন্নামন সঠিক ওয়েতে নির্ভরযোগ্য ব্যাংক সলভেন্সির যাবতীয় ব্যবস্থা করে থাকে। শুধু ব্যাংক সলভেন্সি না থাকার কারণে শিক্ষা ব্যয়সহ সকল কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বছরে প্রচুর শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ যাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়। জার্মানিতে তুলনামূলকভাবে সীমিত ব্যয়ের কিছু জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ করা হলো :ইউনিভার্সিটি অব ফ্রেইবাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ড্রেসডেন, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি ফ্রাঙ্কফুট, পোট সিটি ইউনিভার্সিটি অব হামবুর্গ, ইউনিভার্সিটি অব বার্লিন, ইউনিভার্সিটি অব বেরিউম প্রভৃতি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই সেক্টরে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছে এডুকেশন কনসালটেন্সি ফার্ম সিন্নামন ইন্টারন্যাশনাল। বিগত ৬ বছর ধরে তারা জার্মানি, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছাত্র ও ভিজিট ভিসা প্রসেসিংয়ের যাবতীয় কাজ করছে।