প্রজন্ম আইকন
খেলার কারিগর ক্রেগ টাইলর
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০৪
বেশ কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ২৪তম গেম ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড। এই আয়োজনে পুরস্কার জিতলেন ক্রেগ টাইলর। মাত্র ২৩ বছর বয়স তার। এই বয়সেই সেরা গেম ডিজাইনার হওয়ার তক্মাটি অর্জন করে নিয়েছেন তিনি। ইলেক্ট্রোনিক আর্টস নামের একটি গেম তৈরির কোম্পানি রয়েছে। এই কোম্পানির সাথে কাজ করার প্রথম শর্ত হলো, আগ্রহীকে অবশ্যই তার কাজে প্রচুর মেধা ব্যয় করতে হবে। কোম্পানিটি মেধাবীদের খুঁজে বের করতে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। আর এই আয়োজনেই উঠে আসে ক্রেগ টাইলর। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন ইলেক্ট্রোনিক্স আর্টসে।
বর্তমানে গেম ডেভেলপারদের পাশাপাশি গেম ডিজাইনারদেরও চাহিদা অনেক। হাই গ্রাফিক্স গেমে এ ধরনের ডিজাইনারদের ভূমিকা বেশি। আর তাই ইলেক্ট্রোনিক্স আর্টস নিয়মিত ট্যালেন্ট হান্টের আয়োজন করে থাকে।
ভেনেজুয়েলা থেকে আসা ক্রেগ অনেক আগে থেকেই একজন ভিডিও গেম ডিজাইনার হিসেবে গেমস নির্মাণ জগতে সুপরিচিত ছিলেন। প্রথমে তিনি এনভিডিয়া নামের গ্রাফিক্স ডিজাইনিং কোম্পানির সাথে কিছুদিন ট্রেইনি হিসেবে কাজ করেছিলেন। ভেনেজুয়েলার কারাকাস শহরে তার জন্ম কিন্তু শৈশব কেটেছে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড শহরে। খুব ছোট বয়স থেকেই ভিডিও গেমসের প্রতি ছিল তার তীব্র আকর্ষণ। এই ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি উত্সাহ পেয়েছেন তার বাবার কাছ থেকে। তিনি ছিলেন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। ছোট বয়স থেকেই কম্পিউটার নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা ছিল ক্রেগের কাছে অবসরের খেলা। বাবার হাত ধরেই কম্পিউটার নিয়ে টুকটাক কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।
পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার
ক্রেগ কলেজে থাকাকালে আর্টস নিয়ে পড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ইন্টার অ্যাকটিভ মিডিয়া প্রোগ্রাম নিয়ে পড়া শুরু করেন। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এবং সেখান থেকেই তার ভিডিও গেমসের সাথে সখ্যতার সূত্রপাত ঘটে। গেম খেলার প্রতি তীব্র আগ্রহ থাকার ফলে তিনি ভিডিও গেমস ডিজাইনিংয়ের সাথে জড়িয়ে পড়েন খুব। ‘জেনোভা চেইন’ নামে সেখানকার একদল শিক্ষার্থী ‘ক্লাউড’ গেমটি নিয়ে কাজ করছিল। ডিজাইনার হিসেবে ক্রেগ সেই দলে কাজ করতেন। এই প্রোজেক্ট প্রথমে একটা এক্সপেরিমেন্টের অংশ ছিল। সেই সময়কার অন্যান্য গেমের চেয়ে ভিন্ন ধাঁচের গেম ছিল ক্লাউড। তাই খুব সহজেই গেমিং জগতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে নিতে পেরেছে এ গেমটি। মুক্তি পাওয়ার সাথে সাথেই প্রথম মাসের মধ্যে ৪ লাখ বার ডাউনলোড করা হয় গেমটি। বলা যায়, ক্রেগের জন্য এটি ছিল সফলতার সিঁড়ি খুঁজে পাওয়ার মতো। এখান থেকেই বড় কোনো কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন ইলেক্ট্রোনিক আর্টস কোম্পানির সাথে কাজ করার।
ক্রেগের ব্যক্তিগত কিছু তথ্য
ভেনেজুয়েলার কারাকাস শহরে জন্ম নেন এই প্রতিভাবান গেম ডিজাইনার। শিশু বয়স থেকে ছোট ভাইয়ের সাথে গেম খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। ‘স্লিউথ’ নামের একটি গেম অনেক বেশি পছন্দ ছিল তার, তিনি মনে করতেন গেমটির সাথে গেমারের ইমোশন মিশে আছে। তার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার বাবা প্রথম কম্পিউটার ঘরে নিয়ে আসার পর থেকেই এই জিনিসটির প্রতি আগ্রহ জাগে ছোট্ট ক্রেগের। খুব ছোট থাকতে তিনি মাকে হারান। তার বয়স যখন ১৮, তারা সপরিবারে নিউইয়র্কে চলে যান। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত একটি কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি অ্যামেচার থিয়েটারের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর মাস্টার্স ডিগ্রি নেওয়ার জন্য তিনি লস অ্যাঞ্জেলসে যান ২০০৭ সালে, তখন তার বয়স ২০ বছর। প্রথমে তার ইচ্ছে ছিল থিয়েটার নিয়ে পড়াশোনা করার। কিন্তু তার এ ধারণা পাল্টে যায় সেকেন্ড সেমিস্টারে উঠে গেম ডেভেলপমেন্ট সাবজেক্টের সাথে পরিচিত হওয়ার পরপরই। এ বিষয়টি তাকে ভিডিও গেম ডিজাইন বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে। তিনি বুঝতে পারেন কতটা অসম্পূর্ণতা রয়ে গেছে এই গেম জগতে। তিনি সিদ্ধান্ত নেন এ বিষয় নিয়েই পড়াশোনা করবেন। সেখান থেকেই মূলত ‘ক্লাউড’ বেজ গেম ডিজাইনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। সেই পথ ধরেই আজ তিনি একজন সফল গেম ডিজাইনার।
ইলেক্ট্রোনিক্স আর্টস নিয়ে কিছু কথা
বিখ্যাত গেমিং কোম্পানি ইলেক্ট্রোনিক্স আর্টস পপক্যাপ গেমসকে কিনে নেয় বেশ কয়েক বছর আগে। পপক্যাপ গেমস একটি ক্যাজুয়াল গেমিং কোম্পানি। ইলেক্ট্রোনিক্স আর্টস ৬৫ কোটি ডলার ক্যাশ এবং ১০ কোটি ডলার শেয়ারে প্রদান করেছে। ধারণা করা হয় যে আগামী দুই বছরে পপক্যাপ ৫৫ কোটি ডলার আয় করবে এবং প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি দাম চেয়েছিল। পপক্যাপ গেমসের হেডকোয়ার্টার সিয়্যাটলে অবস্থিত। গত বছর প্রতিষ্ঠানটির এক্সিকিউটিভরা ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা শেয়ার মার্কেটে তাদের আইপিও ছাড়বে। প্রতিষ্ঠানটি ‘বিজিওয়েল্ড’, ‘প্ল্যান্টস ভারসাস জম্বিস’ এবং ‘পেগল’-এর মতো জনপ্রিয় গেমস তৈরি করেছে। ইলেক্ট্রোনিক্স আর্টস এখন তাদের পণ্যে আরও বৈচিত্র্য আনতে চায় তাই পপক্যাপ গেমসের অ্যাকুইজিশন তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।