গাইনি বিশেষজ্ঞ
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০৪
চিকিত্সা পেশা অন্যান্য পেশার মতো শুধুই একটি পেশা নয়। দরদ, ভালোবাসা, কর্তব্যবোধ, পেশাগত দক্ষতা ও নিষ্ঠা এ পেশার মূল ভিত্তি। মেয়েদের সকল প্রকার রোগের চিকিত্সা ও অপারেশন করে থাকেন গাইনি বিশেষজ্ঞরা। নারীর সুস্থতা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা অনেক। তাই এবার এ পেশার সফল একজনের কাছ থেকে জানব এ পেশায় ক্যারিয়ার গড়তে তার পরামর্শ।
পরিচিতজনদের কাছে পিয়া নামে সমাদৃত গাইনোকোলজিস্ট রাহনুমা হাসান প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী হাসাপাতাল চট্টগ্রামে। স্বামীর আগ্রহেই তিনি সামরিক বাহিনীতে যোগদান করেন, তারপর থেকেই সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে দায়িত্ব পালন করেছেন। গাইনোকোলজি পেশায় তরুণপ্রজন্মকে স্বাগত জানিয়ে রাহনুমা বলেন, ‘চিকিত্সা পেশা অন্যান্য পেশার মতো নয়। মানুষের সেবা হলো এ পেশার মূল ভিত্তি। প্রায়ই নিজের স্বার্থ বা প্রয়োজনকে বিসর্জন দিয়ে রোগীর জীবন বাঁচাতে চিকিত্সকের দায়িত্বকে অগ্রাধিকার দিতে হয়, আর এটাই অন্যান্য পেশা থেকে চিকিত্সা পেশাকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। তাই শুধু তাদেরই এ পেশায় আসা উচিত যারা সেবা ধর্মকে হূদয়ে ধারণ করে নিষ্ঠার সাথে কাজ করতে পারবেন।’ রাহনুমা জানালেন, সেবা যখন অঙ্গীকারে রূপান্তরিত হয়, তখন সে কাজে থাকে ভালোবাসা। এই ভালোবাসার পেছনে ছুটতে গিয়ে ভাবী চিকিত্সকেরা ভারী ভারী বইয়ে মুখ গুঁজে থাকতে পারেন, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এই ভালোবাসার কারণে তারা হয়ে উঠতে চান দক্ষ থেকে দক্ষতর। অনেকটা চিকিত্সক জোসেফ হেনরি গ্রিনের মতো, যিনি মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তেও নিজের পালস মেপেছিলেন। আশপাশের সবার দিকে শূন্যদৃষ্টিতে চেয়ে বলেছিলেন, ‘ওটা থেমে গেছে।’ বড় আক্ষেপ ছিল তার—তিনি চাইলেও আর পারবেন না মানুষের পালস দেখে চিকিত্সা শুরু করতে। সবাই হেনরি গ্রিনের মতো নিবেদিত হোক। চিকিত্সক দেবী শেঠীর হূদয় দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হূদয়ালয়-এর মতো পুরো পৃথিবীটাই হয়ে উঠুক একটি হূদয়ালয়। এমনটাই স্বপ্ন দেখেন তিনি।