ঝুলে আছে কেইপিজেডের উন্নয়ন
সম্ভাব্য বিনিয়োগ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৩৬
দেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেডের উন্নয়ন কার্যক্রম ঝুলে আছে দেড় যুগ ধরে। সরকারেরই নানা বিভাগ থেকে নানা রকম ঝামেলা সৃষ্টি করায় উন্নয়ন বঞ্চিত কোরীয় এই ইপিজেডের সম্ভাব্য বিনিয়োগ চলে যাচ্ছে মায়ানমার, চীন ও ভিয়েতনামে। ফলে, এ অঞ্চলের মানুষ কর্মসংস্থানের যে আশা করেছিল, তা ক্রমেই হতাশায় রূপ নিচ্ছে। তবু হাল ছাড়তে রাজি নন কোরীয় বিনিয়োগকারী কি হাক সুং। তিনি বললেন, এটি বাস্তবায়ন করা গেলে এখানকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে। দেশের জিডিপিতেও ব্যাপক অবদান রাখা সম্ভব হবে।
বর্তমানে বিদেশি ব্র্যান্ডের জুতা, লেডিসওয়্যার, হ্যান্ডব্যাগ, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন সামগ্রীর উত্পাদন হচ্ছে এখানে। সরকারি সিদ্ধান্তের যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বিস্তৃত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, কর্ণফুলি নদীর তীরে কোরীয় ইপিজেডের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা গেলে প্রায় ৬ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হতো। এখনো বিদ্যমান কারখানাগুলোতে যারা কাজ করছেন তাদের প্রায় সবাই স্থানীয়। এরা হয়তো দীর্ঘদিন বেকার ছিলেন। কিংবা স্বল্প শ্রমে মজুরি বিক্রি করতেন। এরকম আরো বহু লোকের কর্মসংস্থান হতে বঞ্চিত রেখে দেশের কি লাভ হচ্ছে সে প্রশ্নটি কার কাছে, কে রাখবে? যেখানে একথা স্বতসিদ্ধ যে, বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যদি সন্তুষ্ট হয়, তবেই অন্যরা বিনিয়োগে এদেশে এগিয়ে আসবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে দেড় যুগেও জমির মালিকানাস্বত্ব পায়নি এই ইপিজেড। ফলে নামিদামি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এ শিল্প পার্কে বিনিয়োগ করতে এসে ফিরে যাচ্ছে। ইপিজেডটি পরিচালনার অনুমতি (অপারেশনাল লাইসেন্স) পাওয়ার ছয় বছর পরও এখানে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি। বিদ্যুত্ সংযোগ নিয়েও চলছিল নানা টালবাহানা। নানামুখী বাধার কারণে প্রকল্প এলাকায় কারখানা ভবন ও শ্রমিকদের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো ভূমির মালিকানাস্বত্ব পাওয়া গেলে এবং শুরু থেকে এ ক্রমাগত বাধার সম্মুখীন না হলে গত দেড় দশকে কোরিয়ান ইপিজেডে এক লাখ লোকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হতো। আরও প্রায় দুই লাখ লোক পরোক্ষভাবে এই ইপিজেড থেকে উপকৃত হতো। ২০১০ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের বোর্ড অব গভর্নরের সভায় লিজের আওতায় জমির মালিকানা কোরিয়ান ইপিজেডের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত আজও কার্যকর হয়নি।
উল্লেখ্য, কোরিয়ান ইপিজেডের উদ্যোক্তা হচ্ছে বাংলাদেশে কোরিয়ার শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন। বাংলাদেশের দুটি ইপিজেডে এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৪০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও ঢাকা ইপিজেডে এ কোম্পানির ১৭টি রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারখানায় ইয়াংওয়ান কর্পোরেশন প্রায় ৫০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান করেছে।