সুদ হারের ব্যবধান কমাচ্ছে না বিদেশী ব্যাংকগুলো

আমানতকারীদের যে পরিমাণ সুদ দেয়া হচ্ছে, ঋণের মাধ্যমে তার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ সুদ আদায় করছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিদের্শনায় এ দুই সুদ হারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশীয় পয়েন্টে নামিয়ে আনার কথা বলা হলেও সে নির্দেশনা মানছেনা অনেক ব্যাংক। বিশেষ করে বিদেশী মালিকানার ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে কোন গুরুত্বই দিচ্ছে না। গত সেপ্টেম্বর মাস শেষের হিসাবেও দেখা গেছে দেশে কার্যরত ৫৪টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টি ব্যাংক এ নির্দেশনা মানেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান (স্প্রেড) ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে সীমিত রাখার কথা বলা হয়েছে। অর্থাত্ আমানতের সুদের থেকে ঋণের সুদের হারের পার্থক্য ৫ এর মধ্যে থাকতে হবে। যদিও মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালার আলোকে ঋণ ও আমানতে সুদ হার নির্ধারণ করতে পারে। তবে নৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে ঋণের সুদ হার কমানোর লক্ষ্যেই ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেপ্টেম্বর ভিত্তিক সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, স্প্রেড সংক্রান্ত নির্দেশনা না মানার তালিকায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় খাতের একটি, বিদেশি ৬টি ও বেসরকারি খাতের ১৫টি ব্যাংক। ব্যাংকিং খাতে সামগ্রিকভাবে স্প্রেডের পরিমাণ কমলেও বিদেশি ব্যাংকগুলোর আমানত ও ঋণের সুদের ব্যবধান নির্ধারিত হারের প্রায় দ্বিগুণই থেকে গেছে। বিদেশি ৯টি ব্যাংকের গড় স্প্রেড ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য বিদেশী ব্যাংকগুলোর এ অবস্থা হওয়ার পরও এসময়ে সবগুলো ব্যাংকের স্প্রেডের গড় দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শুণ্য এক শতাংশীয় পয়েন্টে। এর আগের মাস আগস্টেও একই হার ছিল। অন্যদিকে এসময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর স্প্রেডের গড় ব্যবধান ৫ দশমিক ২৩ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানার চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৩ দশমিক ৩৫ এবং বিশেষায়িত খাতের চারটি ব্যাংকের স্প্রেড কমে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। আলোচ্য সময়ে আমানত ও ঋণের সুদ হারের ব্যবধান ৫ শতাংশীয় পয়েন্টের মধ্যে সীমিত রাখতে পারেনি- রাষ্ট্রীয় মালিকানার রূপালী, বিদেশী মালিকানার স্টান্ডার্ড চার্টার্ড, উরি, সিটি ব্যাংক এনএ, এইচএসবিসি, কমার্শিয়াল ব্যাংক অফ সিলন ও হাবিব ব্যাংক। এছাড়া বেসরকারি মালিকানার ব্র্যাক, ডাচ্-বাংলা, প্রাইম, প্রিমিয়ার, যমুনা, ওয়ান, উত্তরা, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, দি সিটি, এবি, আইএফআইসি, পূবালী, ইস্টার্ন, সোস্যাল ইসলামী, ও ব্যাংক এশিয়া।