নাটক বন্ধ করুন

বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে ২৭-৪৪ অনুচ্ছেদে সর্বমোট ১৮টি মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে—যেমন জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা, পেশার স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা, যোগাযোগের স্বাধীনতা ইত্যাদি। এর মধ্যে হরতাল নামক এক অদ্ভুত অধিকার (!) চর্চায় জনজীবন যেভাবে বিপর্যস্ত হয় তাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রায় সব মৌলিক অধিকারেরই কমবেশি লঙ্ঘন ঘটে। এ বিষয়ে ভারতের সুপ্রিমকোর্টের সাফ কথা:কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা গোষ্ঠীবিশেষের মৌলিক অধিকারের দাবির কাছে সর্বসাধারণের মৌলিক অধিকার নতজানু হতে পারে না (এআইআর ১৯৯৮ সুপ্রিমকোর্ট ১৮৪)। এই একটি দৃষ্টান্ত আমলে নিলে হরতাল নামক দ্রুত বর্ধনশীল ব্যাধির আইনগত ভিত্তি যে কতটা নড়বড়ে তা স্পষ্ট হয় । ২০১৩ সালে যৌক্তিক-অযৌক্তিক দাবি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে হরতাল আহ্বান করতে দেখেছি। একটা দাবিরও পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। যেটা পরিপূর্ণভাবে হয়েছে সেটা হচ্ছে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি। পারস্পরিক সমঝোতা ও আলোচনা ছাড়া বর্তমান সময়ের আলোচিত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্পূর্ণ অসম্ভব । কিন্তু পারস্পরিক আলোচনার মতো সৃজনশীল কাজে আমাদের কথাসর্বস্ব রাজনীতিবিদদের ব্যাপক অনীহা! আমরা জানি আলোচনায় তাঁরা বসবেন আমাদের সাধারণ জনগণের বারোটা বাজানোর পর। তাই আমাদের বিনীত অনুরোধ—নাটক বন্ধ করুন, গণজোয়ার জোয়ার খেলা বন্ধ করুন, আপনারা আলোচনায় বসুন এবং সে কাজটা করুন হরতাল নামক গণতান্ত্রিক ব্যাধিতে পিষ্ট সাধারণ মানুষের পটল তোলার আগেই। অন্যথায় ভোগান্তির মাত্রা হজমাতিরিক্ত হলে পরে কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের বাস্তব প্রয়োগের সাক্ষী হবে উত্তর আধুনিক যুগের হতাশাগ্রস্ত ইমারজিং টাইগার বাংলাদেশের কথাসর্বস্ব রাজনীতিবিদগণ । তখন পুনরায় ভোট ভিক্ষা করে আগের ভুল শুধরানোর আন্তরিক ইচ্ছাকেও সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করবে না। কারণ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—রাখাল, বাঘ ও গ্রামবাসীর গল্প ঘুরেফিরে বার বার সত্য হয়ে ফিরে আসে। অবস্থা যদি সে পর্যায়ে পৌছায় তাহলে সেনাবাহিনী, জরুরি অবস্থা, সামরিক স্বৈরশাসক শব্দগুলোর পুনরায় আর্বিভাব হওয়ার আশঙ্কাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় কি? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়