অন্দর
সজ্জায়
পেইন্টিং
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৫৬
ঘরে ঢুকে যদি পছন্দের কোনো পেইন্টিংয়ে আপনার চোখ পড়ে দেখবেন নিমেষে সারাদিনের ক্লান্তি চলে যাবে। ঘরে থাকা পেইন্টিংসের মাধ্যমে আমাদের রুচিবোধেরও পরিচয় পাওয়া যায়। ঘর সাজাতে অনেক আগে থেকেই চলে আসছে পেইন্টিংসের ব্যবহার। বর্তমানে পেইন্টিংয়ে নানা রকম উপাদান ব্যবহার করছেন শিল্পীরা। নিত্যনতুন ফিউশনের মাধ্যমে শিল্পীরা নিজেদের যেমন ঢেলে সাজাচ্ছেন তেমনি কৌতূহলী মানুষের মাঝে তীব্র আকর্ষণ সৃষ্টি করে চলেছেন। এসব নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন
‘সুন্দর জিনিস চিরকালের আনন্দ’—এ কথাটি ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞ ‘কিটস’। মানুষ সৌন্দর্যকে চিরকালই স্বাগত জানিয়ে এসেছে। মানুষ সৌন্দর্যের পূজারি। নিজের বাড়িঘরকে মনের মতো সাজাতে সবারই রয়েছে আগ্রহ। সৌন্দর্যপিপাসুরা সব সময়ই চায় সুন্দর, আকর্ষণীয় ও রুচিসম্মতভাবে নিজের ঘর সাজাতে। ঘর সাজানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের উপকরণ রয়েছে। যেমন—সোফাসেট, কর্নার টেবিল, টব, পেইন্টিং, ভাস্কর্য, টেরাকোটা ও টাইলসের বিভিন্ন মন মাতানো শিল্পকর্ম। এতসব উপকরণের মধ্যে ঘর সাজাতে পেইন্টিং উল্লেখযোগ্য। যা হওয়া প্রয়োজন অর্থবহ রুচিসম্মত। পেইন্টিং কেবল সৌন্দর্যকেই নয়, ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকেও প্রকাশ করে। বর্তমান সময়ে এটি বাসাবাড়ি ছাড়াও অফিস, বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, বইয়ের প্রচ্ছদ, রেস্তোরাঁর দেয়াল, দোকানের হোর্ডিং, টি-শার্ট ইত্যাদিতে ব্যবহূত হচ্ছে। আমাদের অনেকেই এ পেইন্টিংসের ভক্ত হওয়া সত্ত্বেও সবার পেইন্টিং সংগ্রহ করার সাধ্য নেই। কারণ পেইন্টিংয়ের দাম নির্ভর করে শিল্পী ও শিল্পকর্মের ওপর। নানারকম পেইন্টিংয়ের মধ্যে রয়েছে—তেল রং, জল রং, গ্রাফিক্স এবং স্কেচ।
বাংলাদেশের খ্যাতিমান ও প্রতিষ্ঠিত প্রধান শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন জয়নুল আবেদীন, কামরুল হাসান, এসএম সুলতান, সাইফুদ্দীন আহম্মেদ, আনোয়ারুল হক, মোহাম্মদ কিবরিয়া; এদের পেইন্টিংয়ের দাম অবশ্যই বেশি। এদের পরবর্তী চিত্রশিল্পী আমিনুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, কাইয়ুম চৌধুরী, রফিকুন নবী, আবু তাহের, নিতুন কুন্ডু, সাহাবুদ্দিন প্রমুখের পেইন্টিংয়ের দাম ও মর্যাদা প্রচুর। তবে বর্তমানে কিছু নবীন শিল্পীদের শিল্পকর্মেরও নাম ও দাম একটু বেশি।
পেইন্টিংয়ের মধ্যে তেল রঙের দাম সবচেয়ে বেশি। একটি তেলচিত্রের দাম তিন হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই তেলচিত্র অনেকদিন পর্যন্ত টেকসই হয়, কমপক্ষে পঞ্চাশ থেকে ষাট বছর পর্যন্ত। জল রঙের পেইন্টিংস পাওয়া যায় এক হাজার থেকে দশ হাজার টাকার মধ্যে। তবে প্রধান শিল্পীদের জল রঙের দাম আরও বেশি। স্কেচের দাম পড়বে সাধারণত ফ্রেমসহ এক হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত। আর গ্রাফিক্সের দাম এক হাজার টাকা থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে নবীন শিল্পীর শিল্পকর্ম তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম দামে পাওয়া যায়। প্রিয়জনকে প্রেজেন্টশন হিসেবে দেওয়ার জন্য পেইন্টিং পাওয়া যায় আট শত টাকা থেকে বারো শত টাকার মধ্যে।
পেইন্টিংকে ফ্রেমে বেঁধে রাখলে খুবই সুন্দর দেখায় এবং আয়ু হয় বেশিদিনের। সেক্ষেত্রে ফ্রেমের দাম পড়বে ইঞ্চি প্রতি আড়াই টাকা থেকে পঞ্চাশ টাকা। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ধরনের মানগত দিক বিবেচনায় ফ্রেম রয়েছে। ফ্রেমের মধ্যে ভিক্টোরিয়া ফ্রেম বেশ টেকসই এবং চাহিদাপূর্ণ। বাংলাদেশের পেইন্টিংস পাওয়া যায় রাজধানী ঢাকার কয়েকটি অভিজাত এলাকায়। এর মধ্যে গুলশান ২ এডিএমপি মার্কেটে রয়েছে সবচেয়ে বেশি পেইন্টিংয়ের দোকান, শো-রুম। তার মধ্যে রয়েছে সাজু আর্ট গ্যালারি, ট্রিভলি আর্ট গ্যালারি, সাজু আর্ট অ্যান্ড ক্রাফটস, ইয়াড গ্যালারি, খান আসান আর্ট গ্যালারি, হক আর্ট গ্যালারি।
এ ছাড়াও রয়েছে গুলশান ১-এ মঞ্জু আর্ট গ্যালারি, বনানী ইউএই মার্কেটে সিজান আর্ট গ্যালারি। সিজানের আরেকটি শাখা রয়েছে হোটেল শেরাটনে। হোটেল সোনারগাঁওয়ে ডিজাইন আর্ট গ্যালারি, শাহবাগে জিরাজ আর্ট গ্যালারি, ধানমন্ডি ২৭-এ বেঙ্গল শিল্পালয়, ধানমন্ডি ৬-এ শিল্পাঙ্গন এবং সাত মসজিদ রোডে গ্যালারি ২১।
এ সমস্ত দোকান ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী মেলার আয়োজন ঘটে। বিশেষ করে বছরের শেষে এ ধরনের আয়োজন পেইন্টিংস গ্যালারি, বেঙ্গল শিল্পালয় ও গ্যালারি ২১-এ দেখা যায়।