পছন্দের হাতিল
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৫৮
মিরপুরের বেগম রোকেয়া সরণি ধরে এগিয়ে যেতেই হাতিলের শো-রুম। সামনেই খুব চেনা একটা বিলবোর্ড, স্লিম ইজ স্মার্ট! শুধুই নান্দনিক নকশা নয়, সেটা যেন সীমিত পরিসরে আমাদের চাহিদাটাও পূরণ করতে পারে, এমনই ভাবনায় তাদের পথচলা। মূলত দরজা তৈরি দিয়ে ফার্নিচারের জগতে এলেও দুই দশক পেরিয়েও মানুষের আস্থার নাম হাতিল। প্রয়োজন, সাধ, সাধ্য এবং সেই সাথে রুচিশীলতার দারুণ সমন্বয়ে হাতিলের ফার্নিচার আপনার বাসার অলংকার বৈকি! লিখেছেন সাজেদুল ইসলাম শুভ্র ও ছবি তুলেছেন দীপঙ্কর দীপু
গেল বাণিজ্য মেলায় হাতিলের স্টলে দেখে এসেছিলেন একটা খাট। পকেট সায় না দেওয়ায় তখনি বাসায় নেওয়া হয়নি। প্রস্তুতি নিয়ে এবার গিয়েছেন হয়তো হাতিলের শো-রুমে। পছন্দের সেই খাটটা আর তো দেখছেন না! কী করে বোঝান কোন খাটটা আপনার ভালো লেগেছিল? এমনি দ্বিধায় পড়ে যারা বিব্রত হন, হাতিল তাদের কথা বোঝেন। এই শো-রুমে ঢুকেই পাবেন টাচ-স্ক্রিন সমেত একটা ডিসপ্লে! নিজেই নিজের ল্যাপটপের মতো করে এক নজরে দেখে নিতে পারেন কোন ধরনের কী কী প্রোডাক্ট হাতিলের রয়েছে। নিমিষেই আপনার পছন্দের ফার্নিচারটার ছবি পেয়ে যেতে পারেন এখানে।
মিরপুরের শো-রুমটা সাজানো হয়েছে ছয়টা ফ্লোরে। নির্বাহী ইশরাত জাহান পিংকি ঘুরে দেখালেন সবগুলো ফ্লোর। সোফাসেট, কফিসেটসহ লিভিং রুম ফার্নিচার রয়েছে হাতিলের। দোলনাও দেখতে পাবেন। তাদের সোফাগুলো এল শেপড যেমন রয়েছে, রয়েছে আলাদা আলাদা চার বা পাঁচ সিটেরও। এগুলোর দাম শুরু হয়েছে পঞ্চাশ হাজার টাকা থেকে। আর হাতিলের সবচেয়ে দারুণ জিনিস হলো এদের কফি সেট। বাহারি ডিজাইনের কফি সেটগুলোতে রয়েছে তিন-চারটা টুলসহ সুন্দর একটা সেন্টার টেবিল। সোফার সাথে বা ঘরের কোণে নিমেষেই মানিয়ে যাবে জিনিসটা। অতিথি বেশি হলে এটা দারুণ কাজে দেয়। এগুলোর দামও দশ হাজার থেকে শুরু। টিভি ট্রলি বা বুকশেলফও পাবেন এই ফ্লোরে। রয়েছে ম্যাজিক বক্স নামের মজার একটি শেলফ। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখে নিতে পারেন এর কেরামতি। হাতিলের লো-হাইটের খাটগুলো খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই সময়ে। বাহারি ডিজাইনের কয়েকটি লো-হাইটের খাট পাবেন এখানে। দাম শুরু হয়েছে ত্রিশ হাজার থেকে। যারা নিজেরাই কাঠ কিনে খাট বানাতে আগ্রহী, তারাও হিসেব কষলে এখানেই সুবিধাজনক মূল্যে পেয়ে যাবেন আমদানিকৃত কাঠের খাট। ডিজাইনে মিলিয়ে অথবা নিজের পছন্দে দুই বা তিন পাল্লার আলমারি নিতে পারেন এখান থেকে। আলমারির দামটা শুরু হয়েছে হাজার ত্রিশ থেকে। এর পাশাপাশি লেমিনেটেড বোর্ডেরও অনেক ফার্নিচার রয়েছে। সেগুলোর দাম তুলনামূলক কম হলেও টেকসই খুব। ষষ্ঠতলায় পুরোটাই অফিস ফার্নিচার। কর্পোরেট জগতের চাহিদা পুরোটাই মিটবে এখানে এলে। হাতিল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছিল দরজার কারণে। এখনও সগৌরবে দরজা তৈরি করে চলেছে তারা। মেইন ডোরের জন্য দরজা পাবেন এখানে, পছন্দের ডিজাইন আর সাইজ দিলেই এরা তৈরি করে পৌঁছে দেবে। দামটা শুরু ত্রিশ হাজার থেকে। আর ভেতরের দরজাগুলো যেহেতু অতটা দামের দরকার নেই, চার-পাঁচ হাজারের ভেতরেই পেয়ে যাবেন হাতিলের নিজস্ব দরজাগুলো। সবশেষে বলে দিই, যেসব পণ্য এখান থেকে ক্রয় করা হয় তা পৌঁছানোর জন্য কোম্পানির নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো ক্রেতাদের সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করা। আর ক্রয়ের পর এক বছর বিনামূল্যে, এরপর অর্থ পরিশোধ করে সেবা পেতে পারেন সব সময়ই।
এ ক ন জ রে
কোথায় :বেগম রোকেয়া সরণি, মিরপুর, ঢাকা
বন্ধ :বৃহস্পতিবার, বাকি সবদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা
ব্যবস্থাপকের ভাষ্য :হাতিলের মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র এজিএম মো. ফিরোজ আল মামুন জানালেন, ‘এখানে ফার্নিচারের মান ঠিক রাখতে ফরেস্ট ইস্টোওয়ার্ড শিপ কাউন্সিলের সার্টিফাইড করা কাঠ ব্যবহার করা হয়। গ্লোবাল ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হাতিলের অন্যতম টার্গেট।’ এ ছাড়া জানালেন, ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে পৌঁছেছেন তারা। তাদের পণ্য খুব সমাদৃত হয়েছে বাঙালিদের কাছে, ভিনদেশিদের কাছেও।