রুখবে আমায় কে ?

প্রাইমারি শেষ করে আমি এখন ক্লাস সিক্সে, রুখবে আমায় কে? — এই স্লোগানটি বাংলাদেশের শিক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন একটি নীতি বা প্রথা চালুর প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে আর তা হলো—রুখবে আমায় কে? আমাকে বাধা দেওয়ার সাধ্য আছে কার? আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থা বিরাজ করছে তার নেপথ্যে এই মনোভাব কাজ করছে বলে আমার ধারণা। দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য প্রতি কয়েকবছর অন্তর অন্তর যদি নিরীহ লোকের প্রাণহানি ঘটে তাহলে সেটা কিসের গণতন্ত্র ? নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা হবে গাছের মূল কেটে ওপরে পানি ঢালা। হরতালের বলি ১৪ বছরের শিশু মনির হোসেনের নির্মম মৃত্যুর জন্য দায়ী কে? বিরোধী দল হরতালকে দাবি আদায়ের প্রধান হাতিয়ার মনে করে। জনগণের নিরাপত্তা, দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে একরোখাভাবে হরতাল আহ্বান করে। কিন্তু এই বিরোধী দল যখন ক্ষমতায় আসবে তখন তারা হরতালবিরোধী কর্মসূচি পালন করবে, যাকে বলে দ্বিমুখী নীতি। তাই হরতাল নামক জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচি রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হতে পারে না। সিরিয়ায় এই নীতিটি বিরাজ করছে যার দরুন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং বাশারবিরোধী মহল উভয়ই নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অনড়—যার বলি হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি সর্বোপরি দেশের জনগণ। দেশ এবং দেশের মানুষকে ভালোবাসলে এই নীতি থেকে সরে এসে ইতিহাস তৈরি করতে হবে অন্যথায় আমাদের পরিস্থিতি হবে সিরিয়ার মতো। প্রধান দুই নেত্রীর মাঝে সংলাপের উদ্যোগ কিছুটা আশার আলো দেখালেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে গেলো। সরকারি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ভাষণ শুনে মনে হয় সংলাপের জন্য তাঁরা প্রস্তুত কিন্ত বিরোধী দল এগিয়ে আসছে না। আবার বিরোধী দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাত্কার শুনে মনে হয় যে, সরকারি দলের আগ্রহ নেই। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের জন্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাব্যবস্থায় যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্যও এই মতবাদটি দায়ী। এখানে একটি প্রশ্ন জাগে যে ছাত্রসেবা নাকি আত্মসেবা ? যদি ছাত্রসেবাই মুখ্য উদ্দেশ্য হয় তবে কেন ছাত্রদের মাসের পর মাস সেশন জটে পড়ে থাকতে হয়? একটি পদ বড় নাকি হাজার হাজার ছাত্রের জীবন যেখানে জড়িত তা বড়? তাই সচেতন নাগরিক হিসেবে সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে, দেশের জনগণের কথা বিবেচনা করে এই নীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের মুখে হাসি ফোটান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়