এভাবে আর কতদিন
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০৪
কখনো কখনো স্মৃতিরা আবছা হয়ে যায়। আমরা সাধারণরা ভুলে গেলেও রানা প্লাজার ভুক্তভোগীরা কি ভুলতে পারছে? তাদের স্মৃতি কি আবছা হতে শুরু করেছে? স্বজন হারানো বেদনার স্মৃতি আবছা হতে পারে না। এখনও ভবন ধসের ভুক্তভোগীরা বয়ে বেড়াচ্ছে বেদনার স্মৃতি। সাভারের রানা প্লাজা ধসে যাদের জীবন প্রদীপ নিভে গেছে তারা তো মরে গিয়ে বেঁচে গেছে। তাদের জীবনের যন্ত্রণা নেই। বেঁচে থাকার জন্য কোনো ছুটোছুটি নেই। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কেউ কামনা করে না। যে মৃত্যুর পর স্বজনরা আপনজনকে চিনতে পারে না। বেওয়ারিশ পরিচয়ে নম্বর দিয়ে দাফন দিতে হয়। যে সব দায়িত্বহীন মানুষের জন্য এমন ঘটনা ঘটছে তারা হয়তো রাতের ঘুম ভালোভাবেই ঘুমাবে স্বজনদের সঙ্গে। একবার ভেবে দেখবে না এমন নিকষ অন্ধকারে জেগে আছে সেই স্বজনরা, যাদের মন গভীর অন্ধকারে লাশের সারিতে ছুটে বেড়াচ্ছে। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সেই সব ছোট শেফালি, মানিক আর লতারা—যাদের জ্বলে ওঠার আগেই নিভিয়ে দেওয়া হলো।
রানা প্লাজার ঘটনা কি আবছা হয়ে যাচ্ছে? আমরা কি চিনতে পারবো সেই অমানুষগুলোকে, যারা এতগুলো প্রাণনাশের জন্য দায়ী? এই ঘোলা স্মৃতির মাঝে চোখে হাজারও লাশের সাদা কাপড়ে মোড়ানো রক্তাক্ত, ক্ষত-বিক্ষত ছবি। আর আড়াই হাজারের বেশি মানুষের বিকৃত-পঙ্গু মুখ হয়তো চিনতে পারবো না। কিন্তু সেই চোখে দেখতে হবে মহাহত্যাযজ্ঞের মহানায়কদের। তারা আবার বিধ্বংসী চেহারা নিয়ে মুক্ত আকাশের নিচে ঘুরে বেড়াবে। অনীহা থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে আমাদের একই আকাশের নিচে বাঁচতে হবে, বসত করতে হবে। একই আলোয় চলতে হবে। এর চেয়ে বড় লজ্জার আর বেদনার কী হতে পারে? আমরা কি কখনো মানুষ হবো না? কখনো কি অন্ধকার বিতাড়িত হবে না? মনে হয় আলোর চেয়ে অন্ধকারের দাপট ঢের বেশি।। সেই কারণে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে ওরা। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?
ফরিদপুর