প্রজন্ম আয়োজন
প্রে র ণা র উ ত্ স বা ঘ
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৩, ২০:০৩
যদি বলা হয় বাংলা রূপকথার ও লোক কাহিনীর একটা বড় অংশজুড়ে কোন প্রাণীর অবস্থান, নির্দ্বিধায় সবাই বলবে ‘বাঘ’। শুধু বাঘ না, বাঘ আবার ‘মামা’ও—মানুষের আত্মীক সম্পর্কগুলোর মধ্যে সবচাইতে মধুর সম্ভাষণ। এই বাঘকেই তুলে এনেছেন পট শিল্পের আধারে এই প্রজন্মের মেধাবী পটশিল্পী নাজির হোসাইন। মহাখালিতে গ্যালারি কসমস-২-তে ‘পটের গান বাংলার বাঘ’ শিরোনামে চলছে তার একক চিত্র প্রদর্শনী। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন
একসময় জংগলময় বাংলার জীবনের সাথেই জড়িয়ে ছিল বাঘ। শুধু সুন্দরবন বলে নয়, বাংলার প্রতিটি অঞ্চলেই কিন্তু বাঘের গল্প শোনা যায়। ডাঙ্গায় বাঘ, জলে কুমির আর জঙ্গলে সাপ—এটাই ছিল একসময়ের বাংলার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
বর্তমানের নগর সভ্যতার আগ্রাসনে এরা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেলেও আমাদের অবচেতন সত্তায় এই সব প্রাণীরা মূর্তিমান সব সময়ই। এদেরকে নিজের শিল্পসত্তার উপজীব্য বিষয় বানিয়েছেন মেধাবী শিল্পী নাজির হোসাইন। লোকজ শিল্পে বাঘ নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনী বা নানা মোটিফ। নাজির হোসাইনের প্রতিটি পটচিত্রেই বাঘ শক্তির প্রতীক হয়ে উঠে এসেছে। এ প্রজন্মের শক্তি রূপে তিনি বাঘকে প্রদর্শন করেছেন ভিন্নরূপে। গ্যালারিজুড়ে বিভিন্ন রঙের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ক্যানভাসের বিষয়বস্তু হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে বাঘ, ময়ূর, মাছ, ঘোড়া, কুমির কিংবা সাপ। শিল্পীর ক্যানভাসে এসব প্রাণী নির্ভীক। মানুষের সঙ্গেই তাদের বসবাস। প্রদর্শনীতে চিত্রকর্মের সংখ্যা ৬২টি। পটচিত্র, কুটির শিল্প, ফোক মোটিফকে বিষয়বস্তু করে ছবি আঁকা হয়েছে। প্রদর্শনী সম্পর্কে শিল্পী বলেন, ‘আমার ছবির অন্যতম বিষয়বস্তু হয়ে এসেছে বাঘ। কারণ আমার কাছে এটা সবচেয়ে সুন্দর একটি প্রাণী। পাশাপাশি কাজের মাধ্যমে আমি বাঙালি ঐতিহ্য, আচার, উত্সবকে তুলে ধরতে চেয়েছি।’ ‘পটের গান বাংলার বাঘ’ শিরোনামে এর আগে এ শিল্পীর দুটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটা শিল্পীর ২৪তম একক প্রদর্শনী। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত আয়োজনটি সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। চলবে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত। নাজির হোসাইন সেই ছেলেবেলা থেকেই ছবি আঁকেন। পত্রপত্রিকায় ছবি নিয়ে যেকোনো সংবাদ খুব কৌতূহলের সাথে পড়তেন। তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে। সেখানেই ছবি আঁকার হাতেখড়ি। সর্বপ্রথম ১৯৯৪ সালে ‘রংধনু’ নামের একটি গোষ্ঠী তার একটি চিত্র প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছিল। তারপর ’৯৬ সালের দিকে ঢাকায় চলে আসেন নাজির হোসাইন। ‘এসো ছবি আঁকি’ শিরোনাম দিয়ে তিনি চারুকলার সামনে ছবি আঁকা শুরু করেন। সেখানে অনেক আর্ট কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও উত্সাহীরা তার ছবি আঁকা দেখে বেশ ভিড় জমাত এবং সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তার এ যাত্রা শুরু হয়।