অ্যানিমেটর

আমাদের দেশ দিন দিন প্রযুক্তির উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে অ্যানিমেশন তৈরি। দ্বি-মাত্রিক অ্যানিমেশন শিল্পে মেধা এবং মননের মাধ্যমে গড়ে তোলা যায় নিজের ক্যারিয়ার। এই প্রজন্মের কাছে এ পেশার চাহিদাও রয়েছে অনেক। পেশা হিসেবে একটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছানোর ব্যাপক সম্ভাবনা ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে এ খাতে। তাই এই পেশায় সফল কয়েকজনের কাছে জানব এ পেশা নিয়ে তাদের ভবিষ্যত্ প্রত্যাশার কথা ‘আমাদের দেশেও মান সম্পন্ন অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র তৈরি করতে করা সম্ভব’ সেই ছোটবেলা থেকেই চেষ্টা করতেন সর্বশেষ প্রযুক্তিটা শিখে নেওয়ার। এই অদম্য আগ্রহেই তিনি এখন প্লে-ডোম নামের এক প্রতিষ্ঠানে গেমস ডিজাইনে কর্মরত। অ্যানিমেশন শিল্পের শুরু থেকে ক্রমবর্ধমান অবস্থার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত প্রথমদিকে অ্যানিমেশনের ধারণা আসে আর্কিটেকচারাল ড্রয়িংকে বিভিন্ন পাশ থেকে দেখানোর জন্য। পরবর্তীতে তা নিজেই একটি স্বতন্ত্র রূপ ধারণ করে, ফলে বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রেই অ্যানিমেশনের একটি উল্লেখ্যযোগ্য প্রাধান্য লক্ষ করা যায়।’ অ্যানিমেশনে সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যত্ নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অ্যানিমেটেড ছবি, গেম কিংবা কার্টুনের জনপ্রিয়তা আগে শুধু ছোটদের কাছে থাকলেও এখন বিশ্বব্যাপী বড়দের কাছেও অ্যানিমেটেড ছবি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। আমাদের দেশেও মানসম্পন্ন অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র তৈরি করতে পারলে এর ভবিষ্যত্ যে উজ্জ্বল এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর তরুণরা সব সময়ই বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগানো কাল্পনিক জগতকে ভালোবাসে। আর তাই তরুণরাই এই দিকটাতে অনেক আগ্রহী, বেশ ভালোও করছে তারা। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে আমাদের দেশের শিশুরা ডোরেমন এবং পিকেমনের দিকে ঝুঁকে আছে। তবে বাংলা অ্যানিমেশন কার্টুনের প্রসার ঘটলে ওরা দেশি গল্প অবলম্বনে রচিত কার্টুন দেখে অবশ্যই মুগ্ধ হবে এবং নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। এক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ শিল্পীদের এগিয়ে আসা উচিত। আর তাহলেই অ্যানিমেশনে পেশা হিসেবে একটি শক্ত অবস্থানে পৌঁছাবে।’ == ‘চ্যানেল, অ্যাড হাউস অথবা গেম তৈরিতে অ্যানিমেশনের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে’ অ্যানিমেশন মুভিগুলো যখন দেখতেন, তখন সব সময়ই মনে হতো—ইস এমন অ্যানিমেশন যদি তিনি বানাতে পারতেন! সে যাত্রায় তিনি পথ হেঁটে অনেকদূর এগিয়েছেন ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার মুহাম্মদ মুনির হোসেন। এই সময়ে পেশা হিসেবে অ্যানিমেশন কেমন? জানতে চাইলে মুহাম্মদ মুনির হোসেন বলেন, ‘পেশা হিসেবে দিনকে দিন বেশ সমৃদ্ধ হচ্ছে এই ক্ষেত্রেটি। টেলিভিশন হোক, আর হাউসেই হোক, কাজের সুযোগ বাড়ছে। শুধু খেয়াল রাখা দরকার, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজের জ্ঞান বাড়ানোর জন্য চর্চা করতে হবে। আর এই চর্চা এখন অনলাইনে বসে খুব সহজেই করা যায়। নিজের স্বশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও আগ্রহ দুইই এখানে দরকার।’ তাছাড়া দেশের বাইরেও কাজের সুযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল, অ্যাড হাউস অথবা গেম তৈরিতেও অ্যানিমেশনের চাহিদা বাড়ছে। সামনের দিনগুলোতে আমাদের দেশে এ পেশা অনেক এগিয়ে আসবে কেননা পেশা হিসেবে অ্যানিমেটরের চাহিদা বিশ্বব্যাপী। যদিও অনেকটা দেরিতেই দেশে এ পেশার প্রসার ঘটেছে তবুও দেশেই প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিভিন্ন বিজ্ঞাপনসহ আন্তর্জাতিক মানের অ্যানিমেটিভ ছবি। আর সেজন্য গড়ে উঠেছে নানা অ্যানিমেশন প্রতিষ্ঠানও। ম্যাক্সের কাজের মধ্যে থ্রিডি মডেলিংয়ের কাজ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ কোনো বস্তুর মডেল বা ঘরবাড়ির মডেল তৈরির কাজও রয়েছে যথেষ্ট।’