মুড ভালো রাখতে

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাঝেমাঝেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। অবশ্য কোন দিনটাই বা আপনার হাসি, মজা, আনন্দে মসৃণভাবে কাটে? কাল সকালে উঠে দেখলেন মেয়ের জ্বর এসেছে, আজকে হয়তো কাজের লোক না বলেই আসেনি। বলা যায় না, কাল হয়তো যানজটের কারণে অফিসের জরুরি মিটিংয়ে পৌঁছুতে দেরি হয়ে যাবে। কিছুই বলা যায় না। সকাল থেকে এ রকম ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটেই চলে আর আপনাকে দুই হাতেই এসব সামলাতে হয়। এত ঝামেলা সামলানো সত্যিই কঠিন! সব মিলিয়ে হয়তো আপনার মেজাজের একেবারে বারোটা বেজে যায়। কিন্তু এটা আপনি ভালোই জানেন, যতই মুড-অফ থাক, নিজের কাজগুলো নিজেকেই করতে হবে। সেজন্য মুড-অফ করে কাজ না করে, আসুন মুড ভালো রাখি। মুড ভালো রাখার পরামর্শ নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ মনোবিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর শতকরা ৬৫ ভাগ লোক নিজেকে দুঃখী ভাবতে ভালোবাসে। কারণ তারা বেশির ভাগ সময়ই নিজেকে দুঃখী ভাবে, তার দুঃখগুলোকে নিয়েই সব সময় পড়ে থাকে। অনেক সময় সে দুঃখে এত বেশি আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে তাতে সে নিজেই বুঝতে পারে না আসলে কোন কারণটি তার মন খারাপের জন্য দায়ী। কিন্তু দুঃখ নিয়ে পড়ে থাকলে জীবনে এগোনো যাবে না। মানুষের জীবন একটাই। তাই তলানি পর্যন্ত সুখ শুষে নেওয়াটা খুব জরুরি। এসব নিয়ে নানা দার্শনিক অনেক কথা বলেছেন। সবাই জানি তবুও বারবার ভুলে যাই এই ছোট্ট কথাটা। তাই ভালো থাকার বদলে অকারণেই দুঃখ আগলে বসে থাকি! আর বলি এ জীবনটা বড় কঠিন! সবচেয়ে বড় কথা জীবনটাকে উপভোগ করুন। সুখ পাখির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। দুঃখ থাকবেই, ওগুলো তো আমাদের হাতে নেই; তা বলে শুধু এসব নিয়ে বসে থাকলেও চলবে না। ভালো থাকাটা আপনার নিজের হাতে। আর সেটা চাইলেই আপনি পারবেন। মনে রাখবেন, ভালো থাকার সবচেয়ে বড় ওষুধ হাসি। এটা ভুললেই মুশকিল। হাসলে এনডরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আমাদের মেজাজ ভালো করতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, হাসলে হূদপিণ্ডও ভালো থাকে। ক্যালোরিও পোড়াতে সাহায্য করে হাসি। আবার বেশি বেশি মন খারাপ হওয়ার কারণ অনেকক্ষেত্রে শারীরিকও হতে পারে। দুর্বল স্বাস্থ্য, অসুখ-বিসুখ মনে প্রভাব ফেলে। অনেক সময় দেখা যায় মন ভালো, ফুরফুরে মেজাজ; কিন্তু হঠাত্ অজ্ঞাত কারণে বিগড়ে গেল। এমন মুড পরিবর্তনের কারণ অনেকক্ষেত্রে ভিটামিন ডি-এর অভাব হতে পারে। ভিটামিন ডি-এর অন্যতম উত্স সূর্যরশ্মি। তাই সপ্তাহে অন্ততপক্ষে দু’দিন ১৫ মিনিট করে রোদে থাকুন। তবে কড়া রোদে থাকবেন না, এতে ভিটামিন ডি অপেক্ষা অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব বেশি থাকে। সবচেয়ে ভালো ভোরের আলো বা মধ্য দুপুরের আগে ও পরে। এ ছাড়া চর্বিযুক্ত মাছ অর্থাত্ বড় মাছ, মাশরুম ইত্যাদিতেও ভিটামিন ডি থাকে। শরীরচর্চা আপনার মন-মেজাজ ভালো করতে ভূমিকা রাখে। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত হয় যা আপনাকে চিন্তাভাবনা থেকে নিষ্কৃতি দেবে। শরীরচর্চার ফলে মস্তিষ্কে নিঃসৃত হওয়া এনডরফিন এবং অ্যানান্ডামাইড এ কাজটি করে। এ ছাড়াও ব্যায়ামে মনোনিবেশ হওয়ায় মাথায় অন্য কোনো চিন্তা তেমন আসেও না। তাই প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট সময় বের করুন শরীরচর্চার জন্য। মনোমুগ্ধকর সুগন্ধি খারাপ মনকে ভালো করতে পারে। তাই সুগন্ধিযুক্ত রুম ফ্রেশনারও ব্যবহার করতে পারেন ঘরে। গোসলের পানিতেও সুগন্ধি মেশাতে পারেন। হঠাত্ করে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন। বেড়াতে গেলে আপনি ভুলেই যাবেন মন খারাপের গল্প। মন খারাপের পাল্লাটা যদি একটু বেশিই ভারী হয় তা হলে কোনো বন্ধুকে বিষয়টা জানান। দরকার হলে পরামর্শ নিন মনোবিদের। মনের কথাটা বললে অনেক সময় নিজেকে বেশ হাল্কা লাগে। সমস্যার সমাধান হয়তো নাও হতে পারে। কিন্তু মেজাজটা ভালো হয়ে যাবে। জীবনের ইতিবাচক দিকটা সামনে উঠে আসবে। পরিবারটাও হেলাফেলার নয়। পরিবারের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিন, পরিবারকে বন্ধুর মতো ভাবুন। পরিশেষে বলতে চাই—জীবনকে উপভোগ করা, দুঃখকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে, তাকে আপনার ইতিবাচক প্রতিদ্বন্দ্বী বন্ধুর ন্যায় মেনে নিয়ে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া। দেখবেন আপনি হয়ে উঠছেন প্রাণবন্ত। পরামর্শ  সকালে উঠে কাজে ঝাঁপিয়ে না পড়ে অন্তত ১৫ মিনিট সময় নিজের জন্য রাখুন। অল্পস্বল্প শরীরচর্চা, মেডিটেশন করলে শরীর ও মনে প্রশান্তি আসবে। সমস্যার মোকাবেলা সহজে করতে পারবেন।  শরীরচর্চায় একেবারে অনীহা থাকলে টবের গাছে পানি দেওয়া বা পাখিকে খাওয়ানোর মতো টুকটাক কাজ করুন। মন হালকা থাকবে।  ঘরের কাজের সব দায়িত্ব নিজের হাতে না রেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভাগ করে দিন।  কাজের লোক না এলে আপনাকে যদি রান্নাঘরে ব্যস্ত থাকতে হয়, তা হলে স্বামীকে বলুন বিছানা তুলতে এবং বাচ্চার হোমওয়ার্কে সাহায্য করতে।  অফিস যাওয়ার আগে মুড খারাপ থাকলে একটু বেশি সাজগোজ করুন। সাধারণ ফরমাল পোশাক না পরে একটু রুচিসম্মত সুন্দর শাড়ি পরুন। সঙ্গে শখের জুয়েলারি এবং হালকা মেকআপ। নিজেকে ফিটফাট, সুন্দর লাগলে মেজাজের উন্নতি ঘটবেই।  অফিসে কোনো কারণে মুড-অফ হলে সোজা বাড়ি না গিয়ে একটু শপিং করুন। শপিং শেষে কোনো ফাস্টফুডে বসে কিছু খেয়ে বাড়ি ফিরুন। দেখবেন নিজের অজান্তেই মুড-অফ কোথায় পালিয়েছে।