অপছন্দের অভ্যাস থেকে মুক্তি

পছন্দের মানুষটিকে অপছন্দ করার কি কোনো মানে আছে? তার প্রতিটি পদক্ষেপ, চালচলন, কথার ধরন—সবকিছুই কেন যেন ভালো লেগে যায় আপনার। সঙ্গীর সবকিছু ভালো লাগলে তো সংসার জীবনে শতভাগ সুখী আপনি—এমনটাই বলতে হবে আপনাকে। তবুও কেন জানি একটা ‘কিন্তু’ থেকে যায়। সত্যিই কি সংসার জীবনে আপনি শতভাগ সুখী? প্রিয় মানুষটির কিছু কিছু অভ্যাস, প্রকৃতপক্ষে যা বদভ্যাস, তা কি আপনি মেনে নিতে পারছেন? সঙ্গীর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসকে কেন্দ্র করে সংসারে বাড়ছে অশান্তি। নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পর্কেও চিড় ধরে। অপছন্দের অভ্যাসগুলো থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় নিয়ে লিখেছেন সাইফুল ইসলাম জুয়েল নয়নার কাছে তার স্বামী রিফাত বেশ উদার, দিলখোলা। এমন মানুষ জীবনে সে খুব কমই দেখেছে। রিফাতের নয়না এবং তার সন্তাদের প্রতি কর্তব্যবোধও প্রবল। সাংসারিক যেকোনো ব্যাপারেই রিফাত নয়নাকে সার্পোট দেয়। এসব দেখে মনে হতেই পারে নয়না পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী স্ত্রী। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। রিফাতের প্রায় সবরকমেরই বদভ্যাস রয়েছে। তাকে চেইন স্মোকার বললে বোধহয় একটু কমই বলা হবে। দিনের মধ্যে রিফাত যে কত প্যাকেট সিগারেট খায় তার হিসেব সে নিজেও দিতে পারবে না। তাছাড়া সে জাঙ্ক ফুড খেতে ভালোবাসে। পারলে চারবেলাই রোল, নুডুলস, সফট ড্রিঙ্কের উপর কাটিয়ে দেয়। বাবাকে দেখতে দেখতে তাদের মেয়েও ধীরে ধীরে জাঙ্ক ফুডে আসক্ত হয়ে উঠছে। এক্সারসাইজ বা কোনোরকম সুস্থ থাকার উপায়ের উপর প্রচণ্ড অনীহা রিফাতের। ফলে ৩৫ না পেরোতেই শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। ডাক্তারের সাবধান বাণীতেও কাজ হচ্ছে না। এই নিয়ে নয়না আর রিফাতের মধ্যে ক্রমাগত অশান্তি লেগেই আছে। নয়না রিফাতের কোনো ব্যাপারে বাধা দিলে রিফাত মনে করে নয়না তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। সঙ্গীর এমন বদভ্যাস নিয়ে পারিবারিক ঝামেলা সৃষ্টির ঘটনা আমাদের চারপাশে অনেক আছে। সমস্যা সমাধানের কয়েকটি সূত্র নিয়েই এবারের আলোচনা। নতুন ভাবনা  সঙ্গীর বদভ্যাসের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ আছে কী না বুঝতে চেষ্টা করুন। তিনি কি টেনশন বা হতাশার কারণে ধূমপান করেন? নাকি নেহায়েতই বদভ্যাসবশত বা বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে? বাড়ির খাবার অপছন্দ বলেই কি জাঙ্ক ফুড খান? তার অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হওয়ার পেছনের কারণটা জানতে পারলে সমাধান খোঁজাটা সহজ হবে।  সঙ্গীর অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছাড়াবার জন্য যদি কড়া নিয়ম-শৃঙ্খলা ধার্য করে যদি রণমূূর্তি ধারণ করেন, তাহলে বলাই বাহুল্য এতে কোনো কাজই হবে না। কোনোরকম সিনক্রিয়েট না করে কৌশলে কাজটা করাই হবে আপনার উদ্দেশ্য। আপনার সঙ্গী যতক্ষণ না নিজে বিপদের কথা বুঝতে পারছেন, ততক্ষণ কোনো কাজই হবে না। বরং তার বন্ধুবান্ধব, আস্থাভাজন বা ডাক্তারের সাহায্য নিন। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সময় এই ব্যাপারে আলাপ করুন। এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যেসের কুপ্রভাব সম্পর্কে কিছু তথ্য এবং পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে তার উপর ভিত্তি করে আলোচনা এগিয়ে নিন। অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস যে কোনো দোষ নয় বরং একটা শারীরিক-মানসিক সমস্যা সেটা যেন আলোচনায় ফুটে ওঠে। তবে আপনি যে তাকে প্রভাবিত করছেন সেটা কিন্তু তাকে বুঝতে দেওয়া চলবে না।  সঙ্গীর খারাপ অভ্যাস নিয়ে শুধু সমালোচনা আর বিরূপ মন্তব্য নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে সুফল পাওয়া কঠিন। আপনি যে তাকে বদভ্যাস মুক্ত করার ব্যাপারে সচেষ্ট এই বার্তাটা খুব পজিটিভভাবে তার কাছে পৌঁছে দিন। তিনি যাতে ক্রমে ক্রমে এই সমস্যা থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে পারেন সে নিয়ে আলোচনা করুন। প্রয়োজন হলে কোনো কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলুন। কী করবেন  যেকোনো বদভ্যাসই চট করে ছেড়ে দেওয়া কঠিন। চেষ্টা করুন সঙ্গীকে তার নেশার কোনো বিকল্প দিতে। সিগারেটের বদলে টোব্যাকে ফ্লেভারড টকি বা চুয়িং গাম ভালো কাজ করে। অ্যালকোহলের বদলে ডার্ক চকোলেটও কার্যকর। জাঙ্ক ফুডের নেশা ছাড়াতে বাড়িতে মাঝে মাঝে একটু ইনোভেটিভ রান্নার ব্যবস্থা করুন।  ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা, হবি ক্লাসের ব্যাপারে সঙ্গীকে ইনভলভ করুন। সন্তানের পড়াশোনা দেখিয়ে দেওয়া, টিউশনে দিয়ে আসা, ফেরত আনা আর টিউটরদের সঙ্গে কথা বলা ইত্যাদি কাজ তার সঙ্গে শেয়ার করে নিন যাতে দুজনের সমান ইনভলভমেন্ট থাকে। পরীক্ষার আগেও কয়েকটি বিশেষ সাবজেক্টের পড়া বাবার কাছ থেকে নিজেকে বুঝে নিতে বলুন। ছেলেমেয়েদের কাছে নিজেকে রোল মডেল করে তুলে ধরার তাগিদে উনি হয়তো অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস খানিকটা হলেও জলাঞ্জলি দেবেন।