কাজে নতুনত্বের সন্ধানে

অফিসে একঘেয়ে কাজ করে করে আপনি হয়তো বিরক্ত। তাই নিজের কাজটা আরও গতিশীল করতে আপনার প্রয়োজন সৃষ্টিশীল নতুন কিছু আইডিয়া। কী করবেন বুঝতে পারছেন না? এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু পরামর্শ নিয়ে এবারের আয়োজন। লিখেছেন খালেদ আহমেদ ঘুম থেকে উঠেই তাড়াহুড়ো করে অফিসে যাওয়া। তারপর কাজের পাহাড় পার না হতেই শুরু হলো জরুরি মিটিং। সেটা শেষ হতে না হতেই কালকের প্রেজেন্টেশন শেষ করার তাড়া। মাঝে লাঞ্চের স্বল্প বিরতি, বার দুয়েক চা, কয়েকটা ই-মেইল পাঠানো—ব্যস, সে দিনের মতো সমাপ্তি। তার পরের দিনটা? আগের দিনের মতো একই। এভাবেই তো চলছে। কেননা এভাবেই তো চলে। কিন্তু একইভাবে কাজ করে যেতে যেতে আপনার কাজ করার উত্সাহ তো থাকেই না, বরং দিন দিন কেমন যেন বুদ্ধিটা ভোঁতা হতে শুরু করে। যে জায়গায় (অফিসে) আপনি দিনের মধ্যে বেশি সময় কাটান, সেই জায়গাটা শুধুমাত্র রোজগারের একটা মাধ্যম হয়ে উঠলে একঘেয়েমি ও বিরক্তি পাকাপাকিভাবে মনে গেঁথে যায়। এরপরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে কীভাবে কাজে নতুনত্ব আনা যায়, যাতে পুরনো উত্সাহ আবার ফিরে আসে। কাজের ধারা প্রতিদিন বদল করা সম্ভব নয়। তাই বদল করতে হবে কাজ করার পদ্ধতি। ছোট ছোট জিনিসে খুঁজে নিতে পারেন আনন্দ। ধরুন আপনি স্কুলটিচার। বছরের পর বছর একই টেক্সট পড়াতে আর ভালো লাগে না। কিন্তু একদিন টেক্সট বইটা দূরে সরিয়ে রেখে যদি পাঠ্যাংশটা সবাই মিলে অভিনয় করেন। হোক না তা অংক বা কেমিস্ট্রি, প্রত্যেকটি বিষয়ের মধ্যেই তো নাটকীয়তা রয়েছে। আপনি যদি গড়পরতা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন, তা হলে দেখবেন ছেলেমেয়েরা বাকি কাজটা করে দিয়েছে। এ ছাড়া পড়ার ফাঁকে নিয়মিত ডিবেট, স্ক্র্যাববুক তৈরির মতো অ্যাক্টিভিটিও একঘেয়েমি কাটাবে। আর আপনি যদি পুরোপুরি কর্পোরেট ওয়ার্কার হন, তা হলেও কিন্তু নিজের কাজকে একটু অন্য মাত্রা দিতে পারেন। কাজের জন্য হয়তো প্রচুর প্রেজেন্টেশন বানাতে হয়, স্লাইডের পর স্লাইড তথ্যে ভরপুর না করে, চেষ্টা করুন ছোট্ট কোনো রসিকতা, মজার ঘটনা বা কার্টুন দিয়ে নিজের যুক্তিটা বোঝাতে। দেখবেন গুমোট বোর্ডরুমেও কেমন হাসির ফোয়ারা উঠেছে। অন্যভাবে নিজের চিন্তাভাবনা গুছিয়ে নিন। যেভাবে এতদিন কাজ করে এসেছেন, তার থেকে একটু সরে গিয়ে অন্য কীভাবে সেটা করা যেতে পারে, তা নিয়ে একটু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখুন। সব সময় নিজের মাথায় আইডিয়া খেলে না। সেইজন্য সমমনস্ক কলিগদের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। যদি আপনি কোনো বিভাগের হেড বা ইনচার্জ হন, তা হলে মাসে একবার নতুন আইডিয়া সংক্রান্ত মিটিং ডাকতেই পারেন, যাতে সহকর্মীরা নিজেদের মন মতো কাজ করার উপায় শেয়ার করতে পারেন। হয়তো আলোচনার মধ্যে দিয়েই বেরিয়ে আসতে পারে কাজকে নতুনভাবে দেখার এবং করার ফর্মুলা। এ ছাড়াও প্রত্যেক বিভাগে রাখতে পারেন একটা বিশেষ ‘সাজেশন বক্স’। বেস্ট সাজেশনের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করুন। এভাবে অনেক কাজ নতুনভাবে করার আইডিয়া পাবেন। তবে এ ক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, কাজে নতুনত্ব খুঁজতে গেলে পুরনো ধ্যান-ধারণা কিছু হলেও বিসর্জন দিতে হবে। নিজের মনকে খোলা রাখার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের সাজেশনের খোলা মনে মেনে নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। সব সময় সব নতুন আইডিয়া কাজ করবে তারও কিন্তু মানে নেই। তাই নতুন আইডিয়া প্রয়োগ করার সঙ্গে একটা রিস্ক ফ্যাক্টর কাজ করে। তবে রিস্ক ফ্যাক্টরের ভয়ে থেমে গেলে তো চিরকালই একঘেয়েমির আবর্তেই ঘুরে মরতে হবে। পরামর্শ  আপনি যে কাজটা করেন সে কাজটা ভালোভাবে কাটাছেঁড়া করে দেখুন, কোন কোন জায়গায় পরিবর্তন আনতে পারেন। এরপর ভাবতে থাকুন কীভাবে নতুনভাবে কাজ শুরু করতে পারেন।  নিজেদের মধ্যে সব সময় ক্রিয়েটিভ ইন্টারঅ্যাকশন বজায় রাখুন।  কী করে কাজ করলে নতুনভাবে বা আরও ভালোভাবে করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করলে নতুন উদ্দীপনা পাবেন।  নিজের রুটিন কাজ করার সময় নিজেকে প্রশ্ন করুন কীভাবে একই কাজ আরও ইন্টারেস্টিং করে করা যায়।  নিজের কাজ বিষয়ক বই, পত্রপত্রিকা, ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাটি করার অভ্যাস বজায় রাখুন। এতে কাজে সুবিধা হবে। মডেল এলভিন ও আনিকা ছবি দীপঙ্কর দীপু