গৃহস্থালি
মাছ, মাংস, ডিম ভালো রাখতে
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৪০
ডিম
ঠাণ্ডা জায়গায় ডিম স্টোর করুন। ডিম ফ্রিজে স্টোর করার আগে কখনও পানিতে ভেজাবেন না। কারণ ডিমের বহিরাংশে একধরনের প্রটেক্টিভ লেয়ার থাকে, যা ডিম ভালো রাখে।
কড়া বা তীব্র গন্ধ রয়েছে এ রকম কোনো খাবারের সঙ্গে ডিম স্টোর করবেন না।
ডিমের সাদা অংশ ফেটানোর আগে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে নিন। এর ফলে সহজে ফেনা ভাব তৈরি হবে। ডিমের সাদা অংশ ফেটানোর পর ঘন রাখতে চাইলে এক চা-চামচের আটভাগের এক ভাগ ক্রিম মেশান। ডিমের সাদা অংশ বেশি হয়ে গেলে টাইড ফিটেড কন্টেনারে স্টোর করুন। ৩-৪ দিন ভালো থাকবে।
অনেক সময় ডিমের একটা দিক ফেটে গেলে সিদ্ধ করা যায় না। এ ক্ষেত্রে ডিমটা ফেলে না দিয়ে অন্য পাশে আরেকটু অল্প ফাটিয়ে ডিম সিদ্ধ করুন। দেখবেন দারুণ সিদ্ধ হয়েছে। অথবা ফুটন্ত পানিতে একফোটা ভিনেগার মিশিয়ে ফাটা ডিম সিদ্ধ করতে দিন।
ডিম সিদ্ধ করার সময় কয়েকটা আলুও একই সঙ্গে সিদ্ধ করতে নিন। সবজি বারবার সিদ্ধ করতে হলে গ্যাসের খরচ বেড়ে যাবে। ডিম সিদ্ধ করা পানি ফেলে দেবেন না, বাসনপত্র পরিষ্কার করতে ব্যবহার করুন।
ডিমের কুসুম সংরক্ষণ করতে চাইলে এক টেবিল চামচ ঠাণ্ডা পানি মেশান। কুসুমের ময়েশ্চার বজায় থাকবে।
ডিমের পোচ ভাল করে বানাতে চাইলে ফুটন্ত পানিতে এক চামচ লেবুর রস বা ভিনেগার মিশিয়ে ডিম সিদ্ধ করুন।
ডিম সিদ্ধ করার সময় পানির সঙ্গে বিট লবণ মেশান। সহজে ডিমের খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারবেন। ডিম সিদ্ধ করার কিছুক্ষণ আগে ফ্রিজ থেকে বের করে নিন। রুম টেম্পারেচারে এলে তবেই ফুটন্ত পানিতে ডিম দিন। না হলে ডিম ফেটে যেতে পারে।
মাছ
মাছ ভাজা বা রান্না করার আগে মাছে লেবুর রস মাখিয়ে নিন। মাছ ভেঙে যাবে না। মাছের গন্ধও চলে যাবে। দই বা বাটামসলা দিয়ে মাছ ম্যারিনেট করে রাখতে পারেন। রান্নার সময় মাছ ভেঙে যাবে না।
পানির মধ্যে লবণ ও আদা মিশিয়ে জ্যান্ত মাছ রাখুন। মাছের প্যাঁক গন্ধ চলে যাবে।
বাসনপত্তর থেকে মাছের গন্ধ কমানোর জন্য পানির মধ্যে ব্যবহার করা চা পাতা দিয়ে ওই পানিতে কিছুক্ষণ বাসন ডুবিয়ে রাখুন। তারপর বাসন ধুয়ে ফেলুন।
মাছের ফিলে ফ্রিজে রাখার সময় কন্টেনারে সংরক্ষণ করুন। খুব বেশি চেপে চেপে রাখবেন না। এতে মাছ পানিতে ভিজিয়ে বরফ গলানোর সময় ফিলেগুলো বের করতে গিয়ে ভেঙে যেতে পারে। মাছের ফিলে মোটা হলে কাঁটাচামচ দিয়ে সামান্য ফুটো করে দিতে পারেন।
বাজার থেকে কেনার পর যদি দেখেন যে মাছটা খুব একটা ভালো নয়, সে ক্ষেত্রে মাছ পরিষ্কার করার পর অল্প লবণ-পানিতে ধুয়ে নিতে পারেন। লবণ-হলুদ মাখিয়েও ফ্রিজে রাখতে পারেন। এভাবে মাছ সংরক্ষণ করলে ভালো থাকতে পারে।
প্রসেসড বা ক্যানড ফিশ বা মিট কেনার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা রান্না করার চেষ্টা করুন। খুব বেশিদিন ফেলে রাখবেন না। টুনা, স্যামন, সার্ডিনের মতো মাছ ভালো জায়গা থেকে কেনার চেষ্টা করুন।
মাংস
স্যুপ, গ্রেভি বা স্ট্যু থেকে অতিরিক্ত ফ্যাট রিমুভ করতে হলে কতগুলো আইসকিউব মিশিয়ে নিন।
ক্যানড মিট রান্না করার আগে ১০ মিনিট অবশ্যই ফুটিয়ে নেবেন। সহজে মাংস সিদ্ধ করার জন্য রান্না করার আগে কয়েক ঘণ্টা পেঁপে দিয়ে ম্যারিনেট করে রাখুন।
সসেজ ভাজার সময় প্রায়ই তেল ছিটিয়ে পড়ে। ভাজার আগে কাঁটাচামচ দিয়ে অল্প ফুটো করে ফুটন্ত পানিতে সসেজ ডুবিয়ে নিন। তারপর পানি থেকে তুলে পানি ঝরিয়ে নিন।
মাটন রান্না করার আগে ফ্যাট জাতীয় অংশ ফেলে দিন। মাংসের অতিরিক্ত চর্বি রান্নায় তেলাভাব তৈরি করবে না।
মাংস পরিষ্কার করে ধুয়ে জিপ লক ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখুন। বেশিদিন ভালো থাকবে। রান্না করার বেশ কিছুক্ষণ আগে ফ্রিজ থেকে মাংস বের করে রাখুন।