অপ্রিয় সত্য কীভাবে বলবেন
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৩, ১৭:৪৩
পথ চলতে গিয়ে আমাদের প্রতিনিয়তই নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। কিছু কিছু পরিস্থিতিতে আমরা সত্যি কথা বলতে চাইলেও বলতে পারি না। সামনের মানুষটা কী মনে করবে, এমন নানা ধরনের কথা মনে বাসা বাধতে থাকে! সত্যিটা আর বলা হয়ে ওঠে না। এই প্রসঙ্গ নিয়ে আজকের আয়োজনটি লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
সত্য কথা বলার ও সহ্য করার মধ্যে বেশ মাহাত্ম্য আছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সত্য বলতে পারলে বেশ হালকা লাগে তাও ঠিক। সত্যি কথাটা বলা যতটা কঠিন, ঠিক তেমনি, শোনাটাও ততটাই কঠিন। অনেক সময় এমন হয়, আপনার প্রিয় বন্ধু শখ করে একটা শাড়ি কিনে এনেছেন। সেটা পরে আপনার বাড়িতে বেড়াতে এসেছেন। দরজা খুলেই বন্ধুকে ভেতরে স্বাগত জানাবেন কি, আগেই একটা উল্টোপাল্টা কথা মাথায় এল। বোঝাই যাচ্ছে আপনি সাধারণ সাজ পছন্দ করেন আর আপনার বন্ধু ঝলমলে পোশাক পরলে নিজেকে ড্রেসড আপ মনে হয় না। এরপরই হয়তো বন্ধুটি জিজ্ঞেস করে বসল, ‘আমার শাড়িটা ভাল না?’ আপনি পরলেন উভয়সঙ্কটে। পোশাকটির প্রশংসা আর আপনি করতে পারবেন না। সত্যি কথা বলতে বন্ধু বিচ্ছেদ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সমস্যাটা থেকেই যাচ্ছে। আবার অনেক সময় এমন হতে পারে, অফিসের কলিগ সব সময়ই আপনার কাছ থেকে ধার নিচ্ছে, এটা ওটা খেতে চাইছে। নিত্যদিনই লাঞ্চ কিনবা বিকালের হালকা নাস্তার সময় আপনাকে বিল দিতে হচ্ছে। আপনার কলিগটি পাল্টা কিছু করছেন না। কিংবা আপনার প্রতিবেশীর কুকুরটি আপনার শখের বাগানটি নোংরা করছে। অথচ আপনার প্রতিবেশী ব্যাপারটি দেখেও না দেখার ভান করছে। বেশিরভাগ সময়ে এ ধরনের পরিস্থিতিতে সত্যি কথা না বলাই ভালো। এটা আমরা সবাই জানি যে, এতে কারও ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। কিন্তু সময়ে সত্যি কথাটা না বলাটাও অস্বস্তিকর। সেইসব সময়ে অপ্রিয় সত্য কথাটা কীভাবে বলবেন, আসুন জেনে নিই সেই ব্যাপারে কিছু টিপস। যে কথাটা বলতে যাচ্ছেন, তা শুনে সামনের মানুষটি খুশি হবেন না, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। তার প্রভাব যে ব্যক্তিগত সম্পর্কে পড়বে না, তাই বা কে বলতে পারে! তাই কথাগুলো বলে ফেলার আগে চিন্তা করে নিন। শুধু প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে কথাগুলো বলছেন কি না সেটা আগে ভাবুন। সত্যিই কি অপ্রিয় সত্য কথাগুলো বলা প্রয়োজন? যদি বলতেই হয় তাহলে সেগুলো কীভাবে বলবেন! এসব আগেই ভেবে নেওয়া উচিত। কেমন করে কথাগুলো বলবেন, এরপর কী কী প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে সেই সম্ভাবনা আগেই মনে ঝালাই করে নিন। এভাবে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। আপনি অনেক দৃঢ়তার সাথে কথাগুলো বলতে পারবেন। সেই সাথে আশা করা যায় আপনার কথাগুলোর প্রভাবও বেশ গভীর আর কার্যকর হবে। কথাটা কেন বলা দরকার সেই বিষয়টা ভালো করে ভেবে দেখা উচিত। কিংবা কথাটা বলাতে তার কোনো ক্ষতি হবে কি না সেই ব্যাপারটাও মাথায় রাখতে হবে।
সব কথা সবার মুখে মানায় না। কথাগুলো যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন, যে কেউ বললেই যে কাজ হবে তার কোনো মানে নেই। অপ্রিয় সত্য কথাগুলো বলার জন্য আপনিই রাইট পার্সন কি না ভেবে দেখুন। কেউই চান না, সবার সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়ে যাক। আর তাই অপ্রিয় সত্য কথাগুলো বলার সময় শ্রোতা ছাড়া অন্য কেউ সামনে না থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।
দুজনে কথা বলার সময় প্রথমে একটু ভূমিকা করে নিতে পারেন। তাতে আলাপের পরিস্থিতি সহজ হয়ে ওঠে। আপনি আগে থেকেই জানেন, কথাটা শুনে সামনের মানুষটি খুশি হবেন না। তিনি রিঅ্যাক্ট করবেন সেটাই স্বাভাবিক। আর তাই তাকে আগে রিঅ্যাক্ট করে ব্যাপারটা সামলে নেওয়ার সময় দিন।