নগরায়ণ কতটা প্রভাব ফেলছে আমাদের জীবনে?

বাংলাদেশের মত একটি উন্নয়নশীল দেশে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ভূমিকা অনস্বীকার্য। দেশীয় অর্থনীতির একটি বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে এই শিল্পায়ন। কিন্তু এই শিল্পায়ন বা নগরায়ণ  ঠিক কতটা সুফল বয়ে আনতে পেরেছে তা সত্যিই এক অনুধাবনের বিষয়। দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নগরায়ণের প্রভাব চারপাশে তাকালেই আমরা অহরহ দেখতে পাবো। নগরায়ণের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র বৃহত্তম নগরী ঢাকা। যেদিকে চোখ যায় সেদিকেই কেবল সুউচ্চ ইমারত। যত্রতত্র গড়ে ওঠা দালানকোঠা, শিল্প-কারখানা তৈরি হচ্ছে কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর অনুমোদন ছাড়া যেখানে ভবণ নির্মাণ হওয়ার কথা নয়; সেখানে যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ না করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে অসংখ্য ভবন। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যক্তি অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণ করে চলেছেন।

সুষ্ঠু পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা না থাকায় নগরায়ণ সৃষ্টি করছে চরম দুর্ভোগ। কল-কারখানার বর্জ্য পদার্থ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

শিল্পায়ন ও নগরায়ণের দিক থেকে বিচার করলে দেশের অন্যান্য বিভাগগুলোও একদম পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ চট্টগ্রামের অবস্থাও অনেকটা একই রকম। চট্টগ্রামের হাটহাজারীসহ বিভিন্ন উপজেলার অংশ হালদা নদী ঘেঁষে গড়ে  উঠেছে অসংখ্য  কল-কারখানা। শিল্পোন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এসব শিল্প-কারখানার অবদান বলাবাহুল্য। কিন্তু  কারখানার বর্জ্য নদীতে পতিত হয়ে নদীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। দূষিত পানির প্রভাবে মারা যাচ্ছে নদীর মাছ। ফলশ্রুতিতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ব্যবসায়ীগণ। যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে ত্বরান্বিত করছে।

নগরোন্নয়ন ও শিল্পায়ন একটি দেশের অর্থনীতির সূচক। এই বিষয়ে দ্বিমত করার অবকাশ নেই। তবে এর নেতিবাচক দিকগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে হয়তো বিষয়টা আরো ভালো হবে। মোদ্দাকথা, যে সমস্যাগুলো আমরা চাইলেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের আমলে নিতে হবে। এছাড়া সাধারণ জনগণের এ বিষয়ে সহায়তার যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী সকলেরই কাম্য। সুতরাং এই বিষয়ে সকলের এগিয়ে আসা উচিত। সেই সঙ্গে যথাযথ নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলা একান্ত অপরিহার্য।

n লেখক :শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা