সুন্দর হাসির জন্য...

‘হাসিতে যেন মুক্তো ঝরে’—হ্যাঁ, এই মুক্ত ঝরা হাসি কার না কাম্য। আমরা সবাই চাই এমন একটি মুক্তঝরা হাসি। যার জন্য লক্ষ্য টাকাও খরচ করার যায় আর এই মুক্ত ঝরা হাসির প্রথমতই হচ্ছে আপনার দাঁতের সঠিক পরিচর্যা। পরিচর্যার অভাবে সময়ের অনেক আগেই আপনাকে দাঁতের মায়া ত্যাগ করতে হতে পারে। তাই সুন্দর দাঁতের জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা। অনেকের জন্মগতভাবে দাঁত আঁকাবাঁকা থাকে সেই ক্ষেত্রে দাঁত মাজার পর একটি সাদাকাপড় দিয়ে আপনার আঁকাবাঁকা দাঁতগুলো ঘষে নিবেন, এতে আপনার দাঁতের বাড়তি ময়লা দূর হবে এবং বাঁকা দাঁত আপনার জন্য হবে আশীর্বাদ। এবার আসুন জেনে নিই, কিভাবে আপনার দাঁতের পরিচর্যা করবেন  প্রতিদিন সকালে ও রাতে এবং পারলে দুপুরে খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করবেন।  খাবারে চর্বি, পনির বা ক্রিম থাকলে অবশ্যই ব্রাশ করার পর কয়েকবার কুলি করবেন। কারণ শর্করা ও চর্বিযুক্ত খাবার দাঁতের ফাঁকে জমে দাঁতকে দ্রুত ক্ষয় করে। দাঁতের উপরিভাগে খাদ্যকণা জমে দাঁতের মসৃণতা নষ্ট করে।  খাবার পানি ফুটিয়ে খাবেন আর তা না পারলে টিউবয়েলের পানি খাবেন।  দাঁত ব্রাশ করার সময় জিকজ্যাক পদ্ধতি অর্থাত্ উপরে-নিচে, ভেতরে-বাইরে সবদিকে ব্রাশ করবেন।  ব্রাশের স্টিক সমান্তরালের বদলে বাঁকা হওয়া দরকার। এতে মুখের ভেতরের দাঁতগুলো ভালোভাবে পরিষ্কার হবে।  বাঁকা দাঁতে ময়লা জমে বেশি। তাই দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্রাশ করা উচিত। অনেক সময় একই স্থানে দুটি দাঁত গজায় সে ক্ষেত্রে একটি দাঁত তুলে ফেলে বা সমান্তরালহীন দাঁতগুলোকে সারিবদ্ধভাবে আনা যায়। এক্ষেত্রে দন্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।  দাঁতের ফাঁকে দীর্ঘদিন ময়লা জমে থাকার কারণে ময়লাগুলো জমে ক্ষুদ্র পাথর কণায় পরিণত হয়। ফলে দাঁতের উপরিভাগ কালো দেখায়। যা দেখতে ভীষণ দৃষ্টিকটু মনে হয়। এর জন্য প্রতি ৬ মাস পরপর দাঁতের স্কেলিং করা উচিত। বয়স চল্লিশের বেশি হলে এটি বছরে দুই বারের বদলে একবার করবেন, কেননা বয়স বাড়ার সঙ্গে আপনার দাঁতে গোড়াও দুর্বল হয়ে যায়।  অনেকের সারিবদ্ধ দাঁতের মধ্যে যেকোনো একটি বা দু’টি হলুদ থাকে। এই হলুদ দাঁতের জন্য কোনো প্রসাধনী ব্যবহার না করে যতদ্রুত সম্ভব চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।  দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য অনেকে খাবারের সোডা ব্যবহার করে। কিন্তু এটা মোটেই উচিত নয়। সোডায় ক্ষার থাকে। যা আপনার দাঁতের মাড়ির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। অনেক সময় দাঁতের অতি সংবেদনশীল মাড়ি পুড়ে লাল হয়ে যায়। যা দেখতে জমাটবদ্ধ রক্তের মতো দেখায়।  দাঁতের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিদিন সকালে দাঁত ব্রাশ করার পর মাউথ ওয়াশ দিয়ে কুলি করুন। মাউথওয়াশে না থাকলে হাফ চা চামচ খাবার লবণ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। প্রতিদিন টক বা ভিটামিন সি-জাতীয় ফল খাবেন। ক্যালসিয়ামের অভাবেও দাঁতের ঔজ্জ্বল্য নষ্ট হয়। এজন্য ক্যালসিয়াম-সমৃদ্ধ শাক-সবজি খান।  অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরম পানীয় দাঁতের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। দুটো পানীয় একই সঙ্গে গ্রহণ করা অনুচিত। খুব গরম চা বা কফি খাওয়ার এক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক পানি পান করুন।  প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন। জেল টুথপেস্টের চেয়ে ফ্লোরাইড দাঁতের জন্য বেশি উপকারী, কয়লা, ছাই, মাটি, ইট বা বালু দিয়ে দাঁত মাজা দাঁতের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। টুথ পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। হারবাল বা নিম জাতীয় টুথ পাউডার ব্যবহার করুন। টুথ পাউডার মিহি হওয়ার কারণে প্রতিটি দাঁতের ফাঁকে পৌঁছায় যা দাঁতের পুষ্টি যোগায়। মাঝেমধ্যে আঙুল দিয়ে টুথ পাউডার ব্যবহারে মাড়ির বিশ্রাম হয়।  গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে মুখে দুর্গন্ধ হয়। ফলে দাঁতে হলুদাভাব আবরণ পড়ে। নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকে ঠোঁটের দু’কোণে কালো হয়ে যায়। এই জন্য প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। মডেল রথী ছবি তাহের মানিক