সন্তানের নির্ভরতায়

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এখন অধিকাংশ নারী হয়ে উঠেছেন কর্মজীবী। কর্মস্থলে বাচ্চাকে সঙ্গে রাখার সুযোগ না থাকার কারণে মায়েদের প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকতে হয়। অথচ কর্মজীবী মায়েদের যদি সন্তানকে নিরাপদে কোথাও রেখে আসার ব্যবস্থা থাকত, তবে তারা কাজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারতেন। এমন পরিস্থিতিতে একটি ডে কেয়ার সেন্টারই হতে পারে এমন মায়েদের নির্ভরতার প্রতীক। তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান কিডিস ডে কেয়ার ও শিশু শিক্ষালয়। প্রতিষ্ঠানটি নানা খোঁজখবর নিয়ে রইল এই আয়োজনে নূপুর ও তার স্বামী দুজনেই কর্মজীবী। তিন বছরের একমাত্র সন্তানকে কাজের মেয়ের কাছে রেখে অফিসে আসতে হয় নূপুরকে। অফিসে এসেও কাজে ঠিকমতো মন দিতে পারে না সন্তানের কথা ভেবে। কাজের মেয়েটি ঠিকমতো দেখেশুনে রাখছে তো বাচ্চাটিকে? মারধর করছে না তো? ঠিক সময়ে খাবার খাইয়ে ঘুম পাড়িয়েছে তো? প্রতিদিন হাজার ঝামেলার মাঝে নূপুরের মতো কর্মজীবী মায়েদের এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। আগের মতো যৌথ পরিবারে না থাকার কারণে, সব মায়েরা রোদেলার মতো তাদের সন্তানকে নির্ভরযোগ্য কারও কাছে রেখে আসতে পারেন না। ফলে অফিসের কাজে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন না। অনেক কর্মজীবী নারী এই কারণে ও পারিবারিক চাপে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে বাচ্চা বড় হলেও দীর্ঘবিরতির ফলে আবার নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন না। এমনই পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর বনশ্রীতে গড়ে উঠেছে ‘কিডিস ডে কেয়ার ও শিশু শিক্ষালয়’ নামে একটি ডে কেয়ার সেন্টার। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ড. রুমানা রশীদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান), এমএসসি পড়া শেষে পুষ্টি এবং খাদ্য বিজ্ঞানে এম ফিল করেন। পরবর্তীতে পিএইচডি করার জন্য প্রায় সাড়ে ৫ বছর গোটা পরিবারকে নিয়ে জাপানে কাটিয়েছেন। সেখানেই নিজের সন্তানদের নিয়ে তাকে এমনই সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। নিজের পড়াশোনা এবং কাজ ফেলে অনেক সময়ই সন্তানদের চিন্তায় তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলত। তখনই তিনি তার বড় মেয়েকে জাপানের একটি ডে কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করান এবং সেখানকার সার্বিক পরিচর্যা পদ্ধতি তাকে উত্সাহিত করে পরবর্তীতে দেশে এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য। তাই এখানেই সম্পূর্ণ বিদেশি কারিকুলাম দ্বারা পরিচালিত সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে নির্মল আনন্দের পাশাপাশি জ্ঞান বিকাশের একটি প্রয়াস নিয়ে কিডিস ডে কেয়ার ও শিশু শিক্ষালয়ের যাত্রা শুরু করেন। ছয় মাস থেকে ছয় বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে অভিজ্ঞ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী। এ ছাড়া প্রাক বিদ্যালয়গামী শিশুদের জন্য তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক উভয় পদ্ধতিতে শিক্ষাব্যবস্থা, নিয়মিত শরীর চর্চা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুব্যবস্থা। এ ছাড়া রয়েছে শিশুদের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা ও ক্রমোন্নতি সম্পর্কে অভিভাবকদের অবগত করানোর জন্য ডেইলি রেকর্ড বইয়ের ব্যবস্থা। সাথে রয়েছে পর্যাপ্ত উপকরণসহ সুসজ্জিত কক্ষে ইনডোর গেমসের সুব্যবস্থা। সব মিলিয়ে নিজের সন্তানের একটি সুষ্ঠ পরিবেশে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর আত্মপ্রকাশ। বাড়ি-১১, ব্লক বি, বনশ্রী প্রধান সড়কের পাশেই কিডিস ডে কেয়ার ও শিশু শিক্ষালয় অবস্থিত। এছাড়া ফোনে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে :০১৭৯০২২৯৬৭৪, ০১৯৮৫৮৬৬১৬৬ ও ওয়েবসাইটে www.kiddieshome.com