কুয়াকাটা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত
মোহসীন পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০১৪, ২১:৫৫
পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত কলাপাড়া ফেরিঘাটে বাস, প্রাইভেট কার, মিনিবাস, কুয়াকাটা যেতে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। হাজারো পর্যটকদের আগমনে সরগরম হয়ে উঠেছে কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত, রাখাইন মার্কেট চত্বর, শুঁটকি পল্লী, সৈকত সংলগ্ন ঝিনুকের দোকানসহ মহাসড়ক সংলগ্ন সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানিক এলাকাগুলো। বেচা-বিক্রিতে ব্যস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। চাঙ্গা হয়ে উঠেছে কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল এবং খাবার হোটেলগুলো। বিগতদিনের লোকসানের ধকল কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে এখানকার ব্যবসায়ীরা। এ ব্যাপারে হেটেল কুয়াকাটা ইন ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার মো. নুরুল আমীন জানায়, আমাদের হোটেলে মোট ২৬টি কক্ষ রয়েছে। সবকটি বুকিং হয়ে গেছে। অনেকে রুম না পেয়ে ফিরে গেছে। অন্যান্য হোটেলগুলোর অবস্থা একই। দেখা দিয়েছে সিট সঙ্কট। রাজনৈতিক হরতাল ও অবরোধের জন্য নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত পর্যটক কুয়াকাটায় আসেনি। সে কারণে কোন পর্যটকরা হোটেলেও আসেনি। দেশের অস্থির অবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করেছে।
দিনভর কুয়াকাটার দর্শনীয় স্থান মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধমন্দির, কুয়াকাটার বৌদ্ধমন্দির চত্বর, ঝাউবাগান সংলগ্ন ইকোপার্ক চত্বর, ফাতরাবন এবং লেম্বুচর, গঙ্গামতিচরে ভ্রমণে ব্যস্ত সময় পার করছেন পর্যটকরা। দিনের শেষের দিকে সূর্য অস্তের দৃশ্য দেখতে পর্যটকরা চলে যাবে সৈকত বীচে। এ সময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সৈকতের দুই কিলোমিটার এলাকা।
সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যটকদের আড্ডা চলবে গভীর রাত পর্যন্ত। অনেক পর্যটক দেশীয় বাদ্যযন্ত্র নিয়ে গান-বাজনা আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা গেছে। কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই সঞ্জয় মন্ডল জানায়, কুয়াকাটা এখন জমজমাট। পর্যটকদের আনাগোনা অনেক বেশি। হোটেল-মোটেল কানায় কানায় পূর্ণ। পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত পুলিশ দিন-রাত সমানভাবে টহল দিচ্ছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার কোন সুযোগ নাই।